পাগলী মা’র খুজে : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০৫:৫০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
শীত কালের দীর্ঘরাত। ফজর নামাজ আদায় করার পূর্বেই প্রাতঃভ্রমণ শেষ করে থাকি। নগরীর রেজিষ্টারী মাঠের প্রবেশ মুখে দেখলাম নিজেদের রিক্সাকে দেয়াল বানিয়ে তিনজন রিক্সা চালক ভাই ঘুমিয়ে আছেন। যথেষ্ট শীত পড়েছে কিন্তু কারো গায়ে একটি চাদর ও নেই। সিলেটের কীন ব্রীজের নীচে দেখলাম অনেকেই গভীর ঘুমে, কারো শীতের কাপড় নেই। কেউ কেউ আবার পলিথিন গায়ে জড়িয়ে আছেন। সুরমা নদীর পাড়ে আমার দীর্ঘ দিনের পরিচিত “পাগলী মা” কে পেলাম, কোথায় ও দেখা হলে আমাকে ‘হুজুর’ বলে ডাকেন।
পথ কলিরা তাকে “পাগলী মা” ডাকে। মুখে পান ছিল, দাঁত বের করে হাসছিলেন। জিজ্ঞাসা করলাম, মা, এত সকালে পান খাচ্ছেন কেন? দুদিন যাবত ভুখা, পেটে ক্ষুধা, পান চিবালে শান্তি পাই। তিনি হাসি মুখে উত্তর দিলেন। বয়স অন্তত সত্তর হবে।
“পাগলী মা”কে টাকা দেয়া নিরাপদ নয়। টাকা ছিড়ে ফেলেন। খাবার দিতে হয়।
কোর্ট মসজিদে নামাজ পড়ে সুরমা মার্কেটে একটি রেষ্টুরেন্টে দেখলাম পরটা বানাচ্ছে। পরটা, ডাল, ভাজি, ডিম কিনলাম।
কিন্তু “পাগলী মা”কে পেলাম না। মনে খুব কষ্ট লাগলো।
পাগলিটি এমনই। কোথাও স্থির থাকেননা।
আমার চোখে এখনো ভাসছে পাগলি মায়ের হাসি। এ হাসি কি বিদ্রুপের হাসি ছিল? তিনি কি আমাকে বলছিলেন? উদোর পুর্তি করে শান্তির ঘুম শেষে পেটে ক্ষুধা লাগার জন্য তোমারা হাটাহাটি কর আর আমরা পেটের জ্বালায় ঘুমাতে পারিনা! ক্ষুধা মিটাতে পান চিবাই।
মনে অশান্তি বিরাজ করছে, হায়! হাতে যদি
কিছু শুকনো খাবার থাকত। কয়েকটি কম্বল থাকত। নিজ হাতে পাগলি মাকে খেয়ে দিতে পারতাম? শীতে কাতর ঘুমিয়ে পড়া মানুষদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিতে পারতাম?
স্থান কাল পাত্রভেদে কিছু ক্ষুদ্র দান- খায়রাত হয়ে যায় বিশাল দানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কনকনে শীতে কাবু মানুষটি হঠাৎ আপনার দেয়া একটি দু শত টাকার কম্বলের উত্তাপ পেয়ে মন থেকে যে দোয়া দিবে তা আনুষ্ঠানিক কোঠি টাকার শীত বস্ত্র বিতরণ করার চেয়ে কল্যাণকর হবে। ইনশাআল্লাহ। আসুন কনকনে শীতের এসময়ে ফুটপাতে
ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোর পার্শ্বে দাড়াবার চেষ্টা করি।
আল্লাহ তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



























