পরীক্ষা দিতে এসে মা হলেন বিউটি
- Update Time : ০৫:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রসব বেদনা ওঠার পরও ঘরে বসে থাকেনি বিউটি রানি দাস (২১) নামে এক পরীক্ষার্থী। সাহস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে পরীক্ষা শুরুর পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় মেয়েটি। মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। চলমান ডিগ্রি শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী সে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ ছিল বিউটি রানি দাসের। কিন্তু বখাটের উত্ত্যক্ত করার কারণে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই ২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয়ে যায়। তবে স্বামীর বাড়িতে গিয়েও লেখাপড়া চালিয়ে যায় সে। বিউটি রানি দাস উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের শৈলাটি গ্রামের প্যাথলজিস্ট প্রবীর চন্দ্র দাসের স্ত্রী। পূরবী দাস কৃষ্ণা নামে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছেওই দম্পতির ঘরে। বিউটি চলমান ডিগ্রি শেষ বর্ষের পরীক্ষায় আঠারবাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে।
ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে গতকাল মঙ্গলবার ছিলো বিউটির রাষ্ট্র বিজ্ঞান ষষ্ঠ পত্রের পরীক্ষা। কিন্তু গত সোমবার রাত থেকে সন্তান প্রসবের ব্যাথা শুরু হয় বিউটির। প্রসব যন্ত্রণা নিয়েই প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের ঈশ^রগঞ্জ বিশ^ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসেন বিউটি। সঙ্গে আসেন স্বামী প্রবীর চন্দ্র দাস, চিকিৎসক ও একজন সেবিকা। অসুস্থতার কারণে কেন্দ্রের মধ্যে আলাদা কক্ষে তাকে পরীক্ষার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়। বেলা ১ টা থেকে পরীক্ষা শুরু হলে ৩ টার দিকে ব্যাথায় কাতর হয়ে যান বিউটি। দ্রুত তাকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কন্যা সন্তানের মা হন বিউটি।
খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতক কন্য শিশুকে নিয়ে বসে আছেন ঠাকুমা রানি বালা দাস। মা ও নব জাতক শিশুর প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য ছোটাছুটি করছেন বাবা প্রবীর চন্দ্র দাস। বিউটি রানি দাস বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, যে প্রস্তুতি আমি নিয়েছি তাতে এক ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে পারলেও ভালো ফল করব। এরপরও ৯০ নম্বরের উত্তর দিয়েছি।’ প্রসব বেদনা ওঠার পরও কীভাবে পরীক্ষার কেন্দ্রে এলেন জানতে চাইলে সে বলে, ‘কীভাবে সব বাধা-বিপত্তি জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে হয় তা পরিবারের কাছ থেকে শিখেছি। কষ্ট হলেও যতটুকু লিখতে পেরেছি তাতে পাস করব বলে আশাবাদী। এরপরও যখন আমি আমার সন্তানের মুখ দেখেছি তখন নতুন করে লড়াইয়ের জোর পেয়েছি। ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, বিউটি রানি দাসের মানসিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় এতো কঠিন সময়ে সে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা প্রসব করায় মা সন্তান ভালো আছে।
স্বামী প্রবীর চন্দ্র দাস বলেন, ‘পরিবারের সব কাজ সামলে বিউটি রানি দাস ঠিকমতো পড়াশোনা করত। বাবা-মা ওকে নিজের মেয়ের মতো দেখেন। সব ক্ষেত্রেই আমি ওকে উৎসাহ দিয়ে এসছি পাশে থেকেছি। আর ওটাই তার জন্যে সহজ হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রসব বেদনা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সে কন্যা সন্তান প্রসব করে। এমন কঠিন সময়ে কেন্দ্রে এসে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। আমি ওর নবজাতক সহ ওর জন্য দোয়া করি সে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাক।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিশ শরমিন জানান, বিউটি রানি দাস দেখিয়েছে ইচ্ছা থাকলে শিক্ষার জন্য পারিবারিক ও সামাজিক কোন বাধাই সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে না। সে সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বিউটির সাফল্য কামনা করেন। সূত্র- নয়া দিগন্ত



















