০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নৈতিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস পবিত্র মাহে রমজান

  • Update Time : ০৬:১৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান

 

 

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। বছরের বারো মাসের মধ্যে রমজান মাস সেরা।এ গুরুত্ববহ তাৎপর্যপূর্ণ মাসের আগমনে সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ মাসে মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা তথা বাড়তি ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম দয়া,ক্ষমা ও পাপমুক্তির এক সুবর্ণ সুযোগ লাভ করে, তাই পূণ্যময় এ মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা বেশী।

 

 

রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত,পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত জিকির তথা আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগন-” তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর।যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর”।(সুরা বাকারা-১৮৩)
প্রিয় রাসুল (সঃ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-“রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য,তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব”।(বুখারী)

 

 

রামাদান শব্দটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন,জালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলমানেরা নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযমের সঙ্গে জীবন যাপন করে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হওয়ার সামর্থ্য লাভ করে। রোজা মানুষের অভ্যন্তরীন যাবতীয় অহংকার,কু প্রবৃত্তি জালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম রমজান।

 

 

রাসুল (সঃ) রমজান মাসের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতেন এবং যখন শাবান মাসে উপনীত হতেন,তখন মাহে রমজানকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে আবেগভরে প্রার্থনা করতেন,-“হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসের বিশেষ বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন”।(মাসনাদে আহমদ)
তাই মাহে রমজানের অসীম কল্যাণ ও বরকত লাভের প্রত্যাশার জন্য দৈহিক ও মানসিকভাবে ইবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

 

 

নৈতিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস হিসেবে মাহে রমজানের পরিপূর্ণ সাওয়াব অর্জনের নিমিত্তে
দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পাদন করে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, রমজান মাসের বিশেষ খতমে তারাবি নামাজ জামাতে পড়ার জন্য মসজিদে গমন করা,পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল ইবাদত, জিকির -আজকার, তাসবীহ-তাহলিল,জাকাত-ফিতরা,দান-সাদকা প্রভূতি আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক।

 

লেখকঃ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট।

মীরপুর, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

নৈতিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস পবিত্র মাহে রমজান

Update Time : ০৬:১৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০১৭

মোঃ মিজানুর রহমান মিজান

 

 

রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। বছরের বারো মাসের মধ্যে রমজান মাস সেরা।এ গুরুত্ববহ তাৎপর্যপূর্ণ মাসের আগমনে সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ মাসে মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা তথা বাড়তি ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম দয়া,ক্ষমা ও পাপমুক্তির এক সুবর্ণ সুযোগ লাভ করে, তাই পূণ্যময় এ মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা বেশী।

 

 

রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত,পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত জিকির তথা আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগন-” তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর।যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর”।(সুরা বাকারা-১৮৩)
প্রিয় রাসুল (সঃ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-“রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য,তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব”।(বুখারী)

 

 

রামাদান শব্দটি আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন,জালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলমানেরা নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযমের সঙ্গে জীবন যাপন করে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হওয়ার সামর্থ্য লাভ করে। রোজা মানুষের অভ্যন্তরীন যাবতীয় অহংকার,কু প্রবৃত্তি জালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম রমজান।

 

 

রাসুল (সঃ) রমজান মাসের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতেন এবং যখন শাবান মাসে উপনীত হতেন,তখন মাহে রমজানকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে আবেগভরে প্রার্থনা করতেন,-“হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসের বিশেষ বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন”।(মাসনাদে আহমদ)
তাই মাহে রমজানের অসীম কল্যাণ ও বরকত লাভের প্রত্যাশার জন্য দৈহিক ও মানসিকভাবে ইবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

 

 

নৈতিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস হিসেবে মাহে রমজানের পরিপূর্ণ সাওয়াব অর্জনের নিমিত্তে
দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পাদন করে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, রমজান মাসের বিশেষ খতমে তারাবি নামাজ জামাতে পড়ার জন্য মসজিদে গমন করা,পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল ইবাদত, জিকির -আজকার, তাসবীহ-তাহলিল,জাকাত-ফিতরা,দান-সাদকা প্রভূতি আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক।

 

লেখকঃ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট।

মীরপুর, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ