১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিরাপদ সড়ক বনাম রক্তাক্ত বর্ণমালা
- Update Time : ১০:১৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ আগস্ট ২০১৮
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মনজুর আজাদ পাভেল :
আমরা নিরাপদ সড়ক চাই। আমার মনে হয় সড়ক সন্ত্রাসের পক্ষে কেউ কথা বলবে না। শুধু সড়ক পথ নয়, আমরা নৌ-পথ, আকাশ পথ, রেল পথ দূর্ঘটনা মুক্ত চাই এবং এটা আমাদের নাগরিক অধিকার। প্রতিদিন সড়ক পথে মৃত্যুর মিছিলি আমরা দেখতে চাই না। জীবিকার তাগিদে শহরমুখী মানুষগুলো যখন প্রিয় মুখ দেখবে বলে বের হয়ে সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পরে জীবন হারায় কেবল তার পরিবার পরিজনই জানে এ ব্যাথা কতটুকু এবং এর শেষ কোথায়। কেউ কেউ বরণ করে নেয় আজীবনের পঙ্গুত্ব, কেউবা একটু ভাল থাকার আশায়, কিঞ্চিৎ সুস্থ্যতা লাভের আশায় বসতবাড়ি বিক্রি করে বা বন্ধক দিয়ে চিকিৎসা করায়। ফলাফল কি হয় না হয় সেটা শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানে। মিশুক মুনীর, তানভীর মোকাম্মেল, দিয়া-রাজীবরাই শুধু হারায় না হেরে যায় স্বপ্ন, হেরে যায় বাংলাদেশ। অদম্য মেধাবীরা যেমন হারিয়ে যায় তেমনি অনেক পরিবারের একমাত্র উর্পাজনকারী শ্রমিক-মজুরও হারিয়ে যায়। অভাব অনটনের সাথে যুদ্ধ করে জীবন যাপন করে। অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নেয়। স্বাধীন বাংলাদেশ কি সেটাকে বৈধতা দিবে? এর শেষটা কি আমরা দেখতে পারিনা?
অবশ্যই পারি। ১৯৫২ তে পেরেছি, ৬৬,৬৯,৭০ এবং তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ এ আমরা জয়ী। আবেগী বাঙ্গালী নিজের অধিকার আদায় করতে জানে এবং কিভাবে করতে হয় তাও জানে। নিরাপদ সড়কের দাবীতে রাস্তায় নেমেছে স্কুল, কলেজ এর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের যৌক্তিক দাবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। জগন্য হাসির জন্য মন্ত্রী মহাশয়ের পদত্যাগ আমরা চাই। তার পদত্যাগ এ শুরু থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা কর্মী জোরালো দাবী জানিয়েছে এবং এখনও জানাচ্ছে। বিগত দুই দিনে অনেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কটু র্দুগন্ধ পাচ্ছে। একটা মহল প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে যৌক্তিক আন্দোলন কে। দূর্ভাগা জাতির কপালে অশনি সংকেতের মতো বীণ বাজছে বিশ্রী সুরে। অনেকে তা বুঝতেও পারছে না আর কেউ কেউ বুঝেও তা বোঝার চেষ্টা করছে না। ফলাফল কি ধ্রুবক নাকি কার্যকরী আপাতদৃষ্টিতে তা পরিস্কার মনে হচ্ছে না।
মাতৃভাষার জন্য জীবনবাজি রেখে যে জাতি “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই”, “মোদের গরব মোদের আশা”, “ও’রা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়”, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী , আমি কি ভূলিতে পারি বলে এখনও প্রভাতফেরী করে সে জাতির নতুন প্রজন্ম সেই দেশেই বিকৃত সব শব্দ ব্যবহার করে আন্দোলন করবে এটা ভাবতেই মনের কোনে একটা অশনি সংকেতের সুর পাই। যখন দেখি আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম বিশ্রী শব্দভান্ডার ব্যবহার করে জনসম্মুখে তুলে ধরে এবং বড়রা তা দেখে বাহবা দেয় তখন মনে হয় রক্তে রঞ্জিত দুখিনী বর্ণমালা ঢুঁকরে কাঁদছে। আসলে বর্ণমালা শুধু একাই কাঁদছে না। কাঁদছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, সামাদ আজাদ, হাবিবুব রহমান, গাজিউল হক সহ ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানিরা। সুযোগসন্ধানী স্বার্থবাদীরা হয়তো বলবেন ভালো শব্দও তো ব্যবহার হচ্ছে। হ্যাঁ হচ্ছে। এক বালতি সাদা দুধে যদি এক ফোঁটা কেরোসিন মিশানো হয় তাহলে কি বলা হয় সব দুধই বিশুদ্ধ, খাঁটি? বলা হয় না। ঠিক তেমনি যৌক্তিক, ন্যায্য সময় উপযোগী আন্দোলনে খারাপ কিছু শব্দ ব্যবহার করে শুধু পরিবেশ দূষণ ই করছে না, আমার দুখিনী বর্ণমালার উপর করছে ভয়ানক আঘাত, খামচে ধরে বর্ণমালাকে রক্তাক্ত করে চলেছে সারা দেশময়। এরা কোমলমতি ছাত্র, শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম হতে পারে না। তাহলে এরা কারা? রাষ্ট্রভাষা বাংলা হোক যারা চায়নি তাদের বংশধর? যারা স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের বংশধর? নাকি রেখে যাওয়া পাকি বীজ এর উত্তরাধিকার?
আওয়ামী লীগ ১৯৫২ তে নেতৃত্ব দিয়েছে। ৬৬,৬৯ হয়ে ৭১ এ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে। ৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। ২১ শে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস শেখ হাসিনা’র আওয়ামী লীগই বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে। খুবই দূর্ভাগ্য যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই এক শ্রেণীর স্বার্থানেষ¦ী মহল আমার বর্ণমালা কে পুনরায় রক্তাক্ত করে চলেছে। আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
নিরাপদ সড়ক আমাদের কাম্য কিন্তু আন্দোলনের নামে আমার রক্তাক্ত বর্ণমালাকে যেন আর রক্তাক্ত করা না হয়।
জেগে উঠার এখনই সময়।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, মোব: ০১৭১৬০৯৯৪৭৫



















