০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণচেষ্টা ঘটনার সালিসে হামলা, ভুক্তভোগী নারীসহ আহত ২০

  • Update Time : ০৩:২৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আয়োজিত এক সালিস বৈঠকে বিচারপ্রার্থী নারী ও তার স্বজনদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৮ জুন) বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত সালিস বৈঠকে ওই হামলায় নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে শুয়াগ্রামের খগেন মধুর ছেলে রিপন মধু (২৫) এবং আরো এক যুবক পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে (১৯) ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ অবস্থায় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্বামী বাড়ি ফিরলে গৃহবধূ ঘটনা জানালে তিনি মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। এ সময় রিপনের কাকা, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অমল মধু সামাজিকভাবে বিচার দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে উক্ত ঘটনার বিচার নিয়ে সালিস বৈঠক বসে। সেখানে গৃহবধূ, তার স্বামী এবং আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সালিস চলাকালীন একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে অমল মধুর ভাতিজা রিপন মধু ও যুবলীগ নেতা রাজিবুল বিশ্বাস দেশীয় অস্ত্রসহ দলবল নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় আহতরা হলেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তার স্বামী, ওসমান শেখ (২৬), ইয়াদুল শেখ (২২), হাসিবুল শেখ (২৮), আলী শেখ (১৮) ও হাকিম আলী শেখ (২৫)। তাদের উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, ‘আমি একটি আলিয়া মাদরাসায় নৈশ প্রহরীর চাকরি করি। গত বৃহস্পতিবার রাতে আমি ডিউটিতে গেলে রিপন মধু তার এক সঙ্গিকে নিয়ে আমার ঘরের টিনের বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আমার স্ত্রীকে ঘরে একা পেয়ে রিপন ও তার সঙ্গি ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য অমল মধু সামাজিকভাবে বিচার করার কথা বলে আমাদের সালিসে ডাকেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে উল্টো আমরা হামলার শিকার হই। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অমল মধু, তার ভাতিজা রিপন মধু ও যুবলীগ নেতা রাজিবুল বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সালিসে হামলার বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ধর্ষণচেষ্টা ঘটনার সালিসে হামলা, ভুক্তভোগী নারীসহ আহত ২০

Update Time : ০৩:২৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট :: ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আয়োজিত এক সালিস বৈঠকে বিচারপ্রার্থী নারী ও তার স্বজনদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৮ জুন) বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত সালিস বৈঠকে ওই হামলায় নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে শুয়াগ্রামের খগেন মধুর ছেলে রিপন মধু (২৫) এবং আরো এক যুবক পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে (১৯) ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ অবস্থায় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্বামী বাড়ি ফিরলে গৃহবধূ ঘটনা জানালে তিনি মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। এ সময় রিপনের কাকা, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অমল মধু সামাজিকভাবে বিচার দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে উক্ত ঘটনার বিচার নিয়ে সালিস বৈঠক বসে। সেখানে গৃহবধূ, তার স্বামী এবং আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সালিস চলাকালীন একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে অমল মধুর ভাতিজা রিপন মধু ও যুবলীগ নেতা রাজিবুল বিশ্বাস দেশীয় অস্ত্রসহ দলবল নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় আহতরা হলেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তার স্বামী, ওসমান শেখ (২৬), ইয়াদুল শেখ (২২), হাসিবুল শেখ (২৮), আলী শেখ (১৮) ও হাকিম আলী শেখ (২৫)। তাদের উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, ‘আমি একটি আলিয়া মাদরাসায় নৈশ প্রহরীর চাকরি করি। গত বৃহস্পতিবার রাতে আমি ডিউটিতে গেলে রিপন মধু তার এক সঙ্গিকে নিয়ে আমার ঘরের টিনের বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আমার স্ত্রীকে ঘরে একা পেয়ে রিপন ও তার সঙ্গি ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য অমল মধু সামাজিকভাবে বিচার করার কথা বলে আমাদের সালিসে ডাকেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে উল্টো আমরা হামলার শিকার হই। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অমল মধু, তার ভাতিজা রিপন মধু ও যুবলীগ নেতা রাজিবুল বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সালিসে হামলার বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ