১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধরি মাছ না ছুঁই পানি

  • Update Time : ১০:০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মনজুর আজাদ পাভেল :: 

 

পানি তে না নেমে কখনও কি মাছ ধরেছেন? প্রশ্ন করতে পারেন, পানিতে না নেমে মাছ ধরা যায় নাকি। যদি ধরাই যায় সেটা কেমন। পানিতে না নেমে মাছ ধরা যায় যেমন: কেউ একজন বরশী দিয়ে মাছ ধরলো। বরশীর ছিপ তো পানিতে আর সে শুকনাতে বসে ছিপ দিল। মাছ বরশীতে আটকা পড়লো, সে টান দিয়ে মাছ পাড়ে উঠিয়ে আনলো। শুকনাতে থেকেই কিন্তু মাছ টা ধরা হলো। হিসাব টা মিলে গেল, পানিতে না নেমেই মাছ ধরা হয়ে গেল। কিন্তু এভাবে মাছ ধরতে গেলে কয়টা ধরতে পারবেন সেটাই প্রশ্ন। আপনার প্রয়োজন যদি হয় ৫০ টা মাছ, পরিবারে যদি সদস্য বেশী থাকে তাহলে কম সংখ্যক মাছে কি আর পুষাবে? তখন কি করবেন। এ যুগে চন্ডীদাশের মতো ধৈর্য্যশীল বরশী প্রেমিক এক জন ও খুঁজে পাওয়া যাবে কি? একটু গানিতিক ব্যাখ্যায় চলে যাই।

 

আপনার পরিবারে সদস্য ২০ জন। সারাদিন বরশী দিয়ে মাছ ধরলেন ৫টা। সকালের নাস্তা বাদ দিলে দিনে দু’বেলা আপনি ভাত খাবেন। তখন কি করতে হবে? পাঁচটা মাছ কে ৪০ টুকরা করতে হবে। তার পর আপনার চাহিদা মিটবে। বড় বড় মাছ হলে হিসাব টা অনেক টা সহজ, কিন্তু ছোট কই বা পুঁটি বা এ জাতীয় মাছ হলে কি করবেন? আমিষের ঘাটতি টা প্রকট আকার ধারন করবে। হরলিক্সের বিজ্ঞাপনের ডায়লগ দিতে হবে সবসময় “ রয়ে গেল তো পুষ্টি বাকি”। আর এভাবে প্রতিনিয়ত অসীম ধৈর্য্য নিয়ে বরশীর কাজটা কি করতে পারেবেন? আমিষ ঘাটতি তো বাকী থাকলো, সেটা না হয় বাদ। সমস্যাটা হলো আমাদের শহর গুলোতে এখন কি আর মাছ ধরার পুকুর, জলাশয় আছে যে আপনি চাইলেই অসীম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে জলে না নেমে মাছ ধরার কাজটি সারবেন। পাঁচ লাখ মানুষের মাছের চাহিদা কি আপনি বরশী দিয়ে পূরণ করতে পারবেন? সহজ এবং একটাই উত্তর “না”। তাহলে কি দাঁড়ালো আমাদের মৎসজীবি সম্প্রদায়ের সাহায্য নিতে হবে যারা পানিতে নেমে (বুক পানি, কোমর পানি, হাঁটু পানি বা অন্য উপায়ে) মাছ ধরে এবং সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো মাছ ধরতে হলে পানিতে নামতেই হবে, পানি ছুঁতে হবেই।

 

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা কিছু মাছ শিকারী কে দেখলাম। যারা পানি স্পর্শ না করে গায়ের দামি কোট, টাই, পাঞ্জাবী শুকনা রেখে মাছ শিকার করতে নেমেছিল। যারা তাদের অহমিকা আর দম্ভে ভর করে দেখাতে চেয়েছিল পানিতে না নেমে আমরা মাছ শিকার করতে পারি। কিন্তু তাদের গাঁ’য়ে ছিলনা কোন পানির ফোঁটা, কাঁদার ছিটা, মাটির দাগ কিংবা মাছের আঁশটে গন্ধ। দায়িত্বপ্রাপ্ত সে সব শৌখিন মাছ শিকারীর কেউ বা বিদেশে, কেউ রিক্সায় আর হেলিপেড এ আয়েশী ভঙ্গিতে সার্কাস দেখাতে ব্যাস্থ। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী দের চন্ডীদাস হওয়ার বয়স নেই, আইনেও নেই । দুই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সার্কাস দল দিয়ে সেলফি পার্টি করিয়েই দায়িত্ব শেষ। দৃষ্টিকটু সে সব দৃশ্য ব্যাঙ্গের সর্দির মতো লাগলেও শরীরে কিন্তু জলের ছিটেফোঁটাও ছিল না। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিলেটের অনেক নেতা শ্রাবণের বৃষ্টিতে রবীন্দ্র সংগীত আর খিচুরির প্রেমে ছিলেন হাবুডুবু, কেউ কেউ ছিলেন কাঁঠাল বিচি দিয়ে ছোট মাছ খাওয়ার আশায় ছিপ আর বরশী নিয়ে ছোট মাছ ধরায় ব্যস্ত। কাউন্সিলর নির্বাচনই ছিল মূখ্য। সুযোগে হাইব্রিড মাছ চাষীরা ভেজাল মাল চালিয়ে দিয়ে রাতারাতি হিট, সাথে পয়সার মালিক। হাইব্রিড চাষে উৎসাহ প্রদানকারী অতি উৎসাহীরা ভেজাল চালান গিলাতে পেরে ডিসকো ডান্স দিচ্ছেন “আই এম এ ডিসকো বান্দর…..”। ফলাফল দেশবাসী দেখেছে। সিলেট আওয়ামী লীগ এ সব নেতাদের থেকে মুক্তি চায় এবং এখন ই সময়।

 

সব দেখে প্রয়াত প্রিয় শিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী’র একটা গান মনে পড়ে গেল : ঝাঁকে ঝাঁকে মাছের খেলা , ছলাছল সাঁতার কাটে, গোটা কয় মাছ শিকারি ,সারাদিন ফন্দি আটে, তারা বেশ দক্ষ ভারি, শিকারির শিকার খেলায়, কিবা দিন জোয়ার ভাটায়, কিবা দিন চন্দ্র বেলায়, কে দেবে হায় ঝুলিয়ে, বেড়ালের ঘণ্টা গলায়, দিনে রাতে কান্না হাসি, কেঁদে রোজ মনটা গলায়, দলিয়ে নিজেই জমে , জমে বেশ তবিল খানি, এদিকে তবিল জমে, অদিকে চোখের পানি, পানিতে গুলিয়ে কাঁদা, সে জলে শিকার করে,
তারা তো মাছ নিয়ে যায়, ঘোলা জল আটলো করে,
গাধারা পান করে জল, কিবা দোষ আনল টানি,
বেড়ালে শিকার করে, ধরি মাছ না ছুঁই পানি!!

 

লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ মোবাইল: ০১৭১৬ ০৯৯৪৭৫
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ধরি মাছ না ছুঁই পানি

Update Time : ১০:০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট ২০১৮

মনজুর আজাদ পাভেল :: 

 

পানি তে না নেমে কখনও কি মাছ ধরেছেন? প্রশ্ন করতে পারেন, পানিতে না নেমে মাছ ধরা যায় নাকি। যদি ধরাই যায় সেটা কেমন। পানিতে না নেমে মাছ ধরা যায় যেমন: কেউ একজন বরশী দিয়ে মাছ ধরলো। বরশীর ছিপ তো পানিতে আর সে শুকনাতে বসে ছিপ দিল। মাছ বরশীতে আটকা পড়লো, সে টান দিয়ে মাছ পাড়ে উঠিয়ে আনলো। শুকনাতে থেকেই কিন্তু মাছ টা ধরা হলো। হিসাব টা মিলে গেল, পানিতে না নেমেই মাছ ধরা হয়ে গেল। কিন্তু এভাবে মাছ ধরতে গেলে কয়টা ধরতে পারবেন সেটাই প্রশ্ন। আপনার প্রয়োজন যদি হয় ৫০ টা মাছ, পরিবারে যদি সদস্য বেশী থাকে তাহলে কম সংখ্যক মাছে কি আর পুষাবে? তখন কি করবেন। এ যুগে চন্ডীদাশের মতো ধৈর্য্যশীল বরশী প্রেমিক এক জন ও খুঁজে পাওয়া যাবে কি? একটু গানিতিক ব্যাখ্যায় চলে যাই।

 

আপনার পরিবারে সদস্য ২০ জন। সারাদিন বরশী দিয়ে মাছ ধরলেন ৫টা। সকালের নাস্তা বাদ দিলে দিনে দু’বেলা আপনি ভাত খাবেন। তখন কি করতে হবে? পাঁচটা মাছ কে ৪০ টুকরা করতে হবে। তার পর আপনার চাহিদা মিটবে। বড় বড় মাছ হলে হিসাব টা অনেক টা সহজ, কিন্তু ছোট কই বা পুঁটি বা এ জাতীয় মাছ হলে কি করবেন? আমিষের ঘাটতি টা প্রকট আকার ধারন করবে। হরলিক্সের বিজ্ঞাপনের ডায়লগ দিতে হবে সবসময় “ রয়ে গেল তো পুষ্টি বাকি”। আর এভাবে প্রতিনিয়ত অসীম ধৈর্য্য নিয়ে বরশীর কাজটা কি করতে পারেবেন? আমিষ ঘাটতি তো বাকী থাকলো, সেটা না হয় বাদ। সমস্যাটা হলো আমাদের শহর গুলোতে এখন কি আর মাছ ধরার পুকুর, জলাশয় আছে যে আপনি চাইলেই অসীম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে জলে না নেমে মাছ ধরার কাজটি সারবেন। পাঁচ লাখ মানুষের মাছের চাহিদা কি আপনি বরশী দিয়ে পূরণ করতে পারবেন? সহজ এবং একটাই উত্তর “না”। তাহলে কি দাঁড়ালো আমাদের মৎসজীবি সম্প্রদায়ের সাহায্য নিতে হবে যারা পানিতে নেমে (বুক পানি, কোমর পানি, হাঁটু পানি বা অন্য উপায়ে) মাছ ধরে এবং সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো মাছ ধরতে হলে পানিতে নামতেই হবে, পানি ছুঁতে হবেই।

 

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা কিছু মাছ শিকারী কে দেখলাম। যারা পানি স্পর্শ না করে গায়ের দামি কোট, টাই, পাঞ্জাবী শুকনা রেখে মাছ শিকার করতে নেমেছিল। যারা তাদের অহমিকা আর দম্ভে ভর করে দেখাতে চেয়েছিল পানিতে না নেমে আমরা মাছ শিকার করতে পারি। কিন্তু তাদের গাঁ’য়ে ছিলনা কোন পানির ফোঁটা, কাঁদার ছিটা, মাটির দাগ কিংবা মাছের আঁশটে গন্ধ। দায়িত্বপ্রাপ্ত সে সব শৌখিন মাছ শিকারীর কেউ বা বিদেশে, কেউ রিক্সায় আর হেলিপেড এ আয়েশী ভঙ্গিতে সার্কাস দেখাতে ব্যাস্থ। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী দের চন্ডীদাস হওয়ার বয়স নেই, আইনেও নেই । দুই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সার্কাস দল দিয়ে সেলফি পার্টি করিয়েই দায়িত্ব শেষ। দৃষ্টিকটু সে সব দৃশ্য ব্যাঙ্গের সর্দির মতো লাগলেও শরীরে কিন্তু জলের ছিটেফোঁটাও ছিল না। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিলেটের অনেক নেতা শ্রাবণের বৃষ্টিতে রবীন্দ্র সংগীত আর খিচুরির প্রেমে ছিলেন হাবুডুবু, কেউ কেউ ছিলেন কাঁঠাল বিচি দিয়ে ছোট মাছ খাওয়ার আশায় ছিপ আর বরশী নিয়ে ছোট মাছ ধরায় ব্যস্ত। কাউন্সিলর নির্বাচনই ছিল মূখ্য। সুযোগে হাইব্রিড মাছ চাষীরা ভেজাল মাল চালিয়ে দিয়ে রাতারাতি হিট, সাথে পয়সার মালিক। হাইব্রিড চাষে উৎসাহ প্রদানকারী অতি উৎসাহীরা ভেজাল চালান গিলাতে পেরে ডিসকো ডান্স দিচ্ছেন “আই এম এ ডিসকো বান্দর…..”। ফলাফল দেশবাসী দেখেছে। সিলেট আওয়ামী লীগ এ সব নেতাদের থেকে মুক্তি চায় এবং এখন ই সময়।

 

সব দেখে প্রয়াত প্রিয় শিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী’র একটা গান মনে পড়ে গেল : ঝাঁকে ঝাঁকে মাছের খেলা , ছলাছল সাঁতার কাটে, গোটা কয় মাছ শিকারি ,সারাদিন ফন্দি আটে, তারা বেশ দক্ষ ভারি, শিকারির শিকার খেলায়, কিবা দিন জোয়ার ভাটায়, কিবা দিন চন্দ্র বেলায়, কে দেবে হায় ঝুলিয়ে, বেড়ালের ঘণ্টা গলায়, দিনে রাতে কান্না হাসি, কেঁদে রোজ মনটা গলায়, দলিয়ে নিজেই জমে , জমে বেশ তবিল খানি, এদিকে তবিল জমে, অদিকে চোখের পানি, পানিতে গুলিয়ে কাঁদা, সে জলে শিকার করে,
তারা তো মাছ নিয়ে যায়, ঘোলা জল আটলো করে,
গাধারা পান করে জল, কিবা দোষ আনল টানি,
বেড়ালে শিকার করে, ধরি মাছ না ছুঁই পানি!!

 

লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ মোবাইল: ০১৭১৬ ০৯৯৪৭৫
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ