দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষে মারা যান কাশেম, হত্যা মামলায় আসামি ছাতকের ১০ জন
- Update Time : ১১:০০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মে ২০২৩
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: দোয়ারাবাজারের মাইজখলা গ্রামে দু”পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মারা গেছেন আবুল কাশেম (৩০)। তিনি গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার পুত্র। ২২ এপ্রিল সকালে গ্রামের মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত শেষে মসজিদে জুতা বদল করাকে কেন্দ্র করে মাইজখলা গ্রামের জালাল শাহ ও জিয়াউর রহমানের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বিশনাই নদীর পুর্বপাড়ে দুর্বিন শাহ’র বাড়ির পাশে দু’পক্ষের লোকজন তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে পুলিশ সহ অন্তত ৩০ জন লোক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত জালাল শাহ পক্ষের আবুল কাশেমকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় আবুল কাশেমের মা জাহেদা বেগম বাদি হয়ে ২৪ এপ্রিল মাইজখলা গ্রামের বিশনাই নদীর পুর্বপাড় ও পশ্চিম পাড়ের ৩৩ জন এবং ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের কচুদাইড় গ্রামের ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই এ হত্যা মামলা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেননা এমন কি প্রতি পক্ষের আত্মীয় ও নয় এ ধরনের লোকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দোয়ারাবাজারের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে নোয়ারাই ইউনিয়নের কচুদাইড় গ্রাম। ওই সময়ে তাদের মসজিদে ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তারা কিভাবে সংঘর্ষের ঘটনায় আসামি হলো এ নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। কচুদাইড় গ্রামের সাবেক মেম্বার সাদেক মিয়া,শরিয়ত আলী,বুরহান উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিনসহ লোকজন জানান,একই সময়ে ঈদের জামাত গ্রামের মসজিদে আদায় করে খবর পেয়েছি মাইজখলা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কি কারণে তাদের এবং পরিবারের লোকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে তারা বুঝে উঠতে পারেন নি। মাইজখলা গ্রামের আরিজ মিয়া,আব্দুল মনাফ,ফিরোজ মিয়া জানান,মারামারি হয়েছে বিশনাই নদীর পুর্ব পাড়ের দু’পক্ষের মধ্যে আর মামলায় আসামি করা হয়েছে পশ্চিম পাড়ের লোকজনকে। নিরপরাধ এসব মানুষকে নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে ভিন্ন স্থান। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো। স্থানীয় একাধিক লোক ও পুলিশ মারামারির সময়ে ঘটনার ভিডিও করেছেন। দেখা গেছে যারা মারামারিতে ছিলেন তারা আসামি নয় আর যারা সালিশ করেছেন বা ঘটনাস্থলে ছিলেন না তারা মামলার আসামি। পুলিশ ও এলাকার অনেক লোকের কাছে সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। কে বা কারা এ মামলা দায়ের করিয়েছে হয়তো মামলার বাদিনী নিজেই
আসামিদের নাম বলতে পারবেন না। বাদিনী এজহারে উল্লেখ করেছেন তিনি লেখাপড়া জানেন না। মকবুল শাহ’র মাধ্যমে দরখাস্তখানা তাকে পড়াইয়া শুনাইলে তিনি শুদ্ধস্বীকারে টিপসই প্রদান করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি রহমত আলী জানান,মসজিদ থেকে বের হয়ে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।তিনি সংঘর্ষ বারণ করতে অনেক চেষ্টা করেছেন এবং থানায় খবর দিয়েছেন। পুলিশ এসে অনেক চেষ্টার পর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই একটি পক্ষ লুটপাটে ব্যস্থ হয়ে পড়েছে। তারা দিন-রাতে মামলার আসামিদের বাড়ি থেকে মালামাল লুঠ করে নিয়ে যাচ্ছে।
গোদাবাড়ি গ্রামের আব্দুল মমিন জানান, কয়েক গরু লুঠ করে নিয়ে যেতে তিনি দেখে বাধা প্রদান করেছেন।
মাইজখলা গ্রামের আবুল বাশার,মারফত আলী, শাহাব উদ্দিন, আলিম মিয়া,কফিল উদ্দিন জানান,আসামিদের বাড়ি-ঘরে গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে লুটপাট শুরু করা হয়েছে। গ্রামের মহরম শাহ,সেলিম মিয়া,হানিফ আলী, নয়ান শাহ,মকবুল শাহ,আয়াত আলীর নেতৃত্বে এসব লুটপাট চলছে। ইতিমধ্যে তারা ১৩ টি গরু,রহমত আলী আবুল বাশার,ইউসুফ আলী, মিনারা বেগম, আব্দুল হক, সফিনা বেগম, আব্দুল হাশিম,নুরজাহানের বসতঘর থেকে অনুমান ৭০০ মণ ধান লুঠ করে নিয়েছে।এ ছাড়া ৩ টি ফ্রিজ,৬ টি পাওয়ার পাম্প,সেলাই মেশিন, পানির মোটর,টিভি, হাঁস- মোরগ,খাট-পালং সহ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা মুল্যের মালামাল লুঠ করে নিয়েছে। তারা লুটপাট এখনো অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
দোয়ারাবাজার থানার এস আই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পান্না লাল দেব জানান, এ মামলার ৯ জন আসামি গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
























