১২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘দুঃখিত হিরোশিমা’

  • Update Time : ০৭:০৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ আগস্ট ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আজিজুস সামাদ আজাদ ডন:

 

 

ණ☛ অগাষ্ট ৬ আর অগাষ্ট ৯, ১৯৪৫। মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়, হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে এটম বোমা ফেলা হয়েছিল। মানব সভ্যতার জন্য আত্নঘাতি এই কাজ কতটুকু প্রয়োজন ছিল আর কতটুকু ছিলো না, সেটা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছেই। বিতর্ক গুলো কোন কোন সময় এতই হৃদয় বিদারক হয়ে ওঠে যে, মনে হয়, আমরা এখনো সেই আদিম বর্বর যুগেই বসবাস করছি। ঐ বোমা হামলার পক্ষে আমি একটাই যুক্তি খুঁজে পাই, আর সেটা হল, পার্ল হারবারে জাপানের বোমা বর্ষনের প্রতিশোধ নেয়া। কিন্ত চোখ আটকে যায় একটি যায়গায় এসে। জাপানের পার্ল হারবারে বোমা বর্ষন ছিল যুদ্ধের একটি অংশ মাত্র।

 

ණ☛ যে যুদ্ধের শুরু হয়েছিল পশ্চিমা বিশ্বের স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারনে। জাপানের পার্ল হারবারে বোমা বর্ষনের টার্গেট ছিল মূলত সামরিক আর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা বর্ষনের টার্গেট ছিল বেসামরিক। হিরোশিমা, নাগাসাকির ঘটনার আগে ১৯৪৫ এর মার্চ থেকে ১৯৪৫ অগাষ্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত জাপানের ৬৬ টি শহর কে প্রায় সম্পুর্ন ধ্বংস করা হয়েছিল। আবশিষ্ট ছিল হাতে গোনা যায় এমন কিছু শহর, যেসব শহরে বসবাস করতো ত্রিশ হাজার থেকে শুরু করে এক লক্ষের কিছু বেশী মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ঐ গ্রীষ্মকালীন হামলায় তারা কখনোই জাপানের সেনাবস্থান গুলোতে হামলা চালায়নি। তাহলে হিরোশিমা, নাগাসাকিতে মানবতা বিধ্বংসী এই হামলা কেন? কারন একটা আছে; বিশ্বকে নতুন মোড়লকে চিনবার ব্যাবস্থা করা।

 

ණ☛ এখানেই যদি শেষ হত তবুও একটা কথা ছিল। শেষ হয়নি। যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মিলিত ব্যাবহৃত বোমা বর্ষিত হয়েছিল ৫ লক্ষ টনের সমপরিমান, সেখানে মাত্র ৫ বছর পরেই, কোরীয়ো যুদ্ধে এক মিলিয়ন টনের সমপরিমান বোমা বর্ষিত হয়েছিল। উত্তর কোরীয়ার এমন কোন শহর অবশিষ্ট ছিলনা যা ধ্বংস হয়নি। পোড়া মাটি নীতির গল্পের শুরু সেখান থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রীয় দম্ভোক্তি ছিল, উত্তর কোরীয়ায় একটি ইটের উপর আরেকটি ইট আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেবোনা, সকল সচল বস্তু বা প্রানি আমাদের টার্গেট।

 

ණ☛ যাই হোক, আমার আজকের এই লেখা পশ্চীমা বিশ্বের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াবার জন্য নয় বরং যুদ্ধের প্রতি ঘৃণা ছড়াবার উদ্দ্যেশ্য নিয়ে দেয়া। এশিয়ায় আবার যুদ্ধের সাজ সাজ রব উঠতে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই ডেকে আনতে পারবে, সমাধান নয়।

লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

‘দুঃখিত হিরোশিমা’

Update Time : ০৭:০৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ আগস্ট ২০১৭

আজিজুস সামাদ আজাদ ডন:

 

 

ණ☛ অগাষ্ট ৬ আর অগাষ্ট ৯, ১৯৪৫। মানব সভ্যতার ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়, হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে এটম বোমা ফেলা হয়েছিল। মানব সভ্যতার জন্য আত্নঘাতি এই কাজ কতটুকু প্রয়োজন ছিল আর কতটুকু ছিলো না, সেটা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছেই। বিতর্ক গুলো কোন কোন সময় এতই হৃদয় বিদারক হয়ে ওঠে যে, মনে হয়, আমরা এখনো সেই আদিম বর্বর যুগেই বসবাস করছি। ঐ বোমা হামলার পক্ষে আমি একটাই যুক্তি খুঁজে পাই, আর সেটা হল, পার্ল হারবারে জাপানের বোমা বর্ষনের প্রতিশোধ নেয়া। কিন্ত চোখ আটকে যায় একটি যায়গায় এসে। জাপানের পার্ল হারবারে বোমা বর্ষন ছিল যুদ্ধের একটি অংশ মাত্র।

 

ණ☛ যে যুদ্ধের শুরু হয়েছিল পশ্চিমা বিশ্বের স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারনে। জাপানের পার্ল হারবারে বোমা বর্ষনের টার্গেট ছিল মূলত সামরিক আর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা বর্ষনের টার্গেট ছিল বেসামরিক। হিরোশিমা, নাগাসাকির ঘটনার আগে ১৯৪৫ এর মার্চ থেকে ১৯৪৫ অগাষ্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত জাপানের ৬৬ টি শহর কে প্রায় সম্পুর্ন ধ্বংস করা হয়েছিল। আবশিষ্ট ছিল হাতে গোনা যায় এমন কিছু শহর, যেসব শহরে বসবাস করতো ত্রিশ হাজার থেকে শুরু করে এক লক্ষের কিছু বেশী মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ঐ গ্রীষ্মকালীন হামলায় তারা কখনোই জাপানের সেনাবস্থান গুলোতে হামলা চালায়নি। তাহলে হিরোশিমা, নাগাসাকিতে মানবতা বিধ্বংসী এই হামলা কেন? কারন একটা আছে; বিশ্বকে নতুন মোড়লকে চিনবার ব্যাবস্থা করা।

 

ණ☛ এখানেই যদি শেষ হত তবুও একটা কথা ছিল। শেষ হয়নি। যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মিলিত ব্যাবহৃত বোমা বর্ষিত হয়েছিল ৫ লক্ষ টনের সমপরিমান, সেখানে মাত্র ৫ বছর পরেই, কোরীয়ো যুদ্ধে এক মিলিয়ন টনের সমপরিমান বোমা বর্ষিত হয়েছিল। উত্তর কোরীয়ার এমন কোন শহর অবশিষ্ট ছিলনা যা ধ্বংস হয়নি। পোড়া মাটি নীতির গল্পের শুরু সেখান থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রীয় দম্ভোক্তি ছিল, উত্তর কোরীয়ায় একটি ইটের উপর আরেকটি ইট আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেবোনা, সকল সচল বস্তু বা প্রানি আমাদের টার্গেট।

 

ණ☛ যাই হোক, আমার আজকের এই লেখা পশ্চীমা বিশ্বের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াবার জন্য নয় বরং যুদ্ধের প্রতি ঘৃণা ছড়াবার উদ্দ্যেশ্য নিয়ে দেয়া। এশিয়ায় আবার যুদ্ধের সাজ সাজ রব উঠতে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই ডেকে আনতে পারবে, সমাধান নয়।

লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ