দিরাই-শাল্লার বিষয়কে নাগরিক দৃষ্টিতে বিচার করতে হবে, ধর্মীয় দৃষ্টিতে নয়
- Update Time : ১০:০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সৈয়দ মবনু :: সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার শাল্লায় এক নাগরিকের বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে। সেই নাগরিক ধর্ম বিশ্বাসে হিন্দু। ঘটনার সূত্রপাত মাওলানা মামুনুল হককে ফেসবুকে কটুক্তি করা থেকে। যারা আক্রমণ করেছে তারা নাকি মাওলানা মামুনুল হকের ফ্যান বা ভক্ত। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। প্রশ্ন হলো; কোনটা দুঃখ ও লজ্জাজনক। কটুক্তি না আক্রমণ? আমি মনে করি কমবেশি দুটাই। কটুক্তি আর সমালোচনা অবশ্যই সমার্থক নয়। কটুক্তিও একপ্রকারের আক্রমণ, যার হাতিয়ার হলো মুখ। তবে হাত আর অস্ত্রের আক্রমণ কটুক্তি থেকে বেশি মারাত্মক ও জঘন্য। যারা এমনটি করেছে তারা অবশ্যই ভুল করেছে। তবে আমাদের স্মরণ রাখতে হবে এখানে সংঘাতটা হিন্দু মুসলিমের মধ্যে নয়, সংঘাত হলো দুই নাগরিকের মধ্যে। দুই নাগরিকের একজন মানুষ মামুনুল হককে কিংবা তার কর্মকে ঘৃণা করেন আর একজন বা একগোষ্ঠি অন্ধভাবে ভালোবাসেন। আমরা মনে করি, যিনি ঘৃণা বা অপছন্দ করেন তিনি শৈল্পিকভাবে তা প্রকাশ করা। আর যারা ভালোবাসেন তাদের উচিৎ ছিলো আইনের মাধ্যমে বা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ করা। উভয় দিক থেকে ভুল হয়েছে, উভয়ই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তা স্বীকার করতে হবে। হিন্দুধর্মের বিশ্বাসী যে ভদ্রলোক কটুক্তি করেছেন, তাকে নিশ্চয় তার ধর্ম শাস্ত্র কিংবা ধর্মের শাস্ত্রিকেরা অনুমতি বা উতসাহি করেন নি। করে থাকলে তা অধর্ম হয়েছে। তেমনি যারা বাড়িতে আক্রমণ করেছেন তাদেরকেও তাদের ধর্মের শাস্ত্র কিংবা শাস্ত্রিকেরা অনুমতি দেননি। দিয়ে থাকলে তারাও অধর্ম করেছেন। বিষয়টা ধর্মীয় কিংবা জাতীয় কো সংঘাত নয়। তা হলো স্থানীয় রাজনৈতিক চিন্তাগত সংঘাত। যিনি কটুক্তি করেছেন তিনিও দিরাই-শাল্লার মানুষ, যারা আক্রমণ করেছে তারাও দিরাই-শাল্লার মানুষ। মামুনুল হকের জনসভাকে কেন্দ্র করে তাঁর সমর্থক-ভক্তদের মধ্যে যে উত্তেজনা ছিলো তাতে যিনি মামুনুল হককে ঘৃণা করেন তিনি প্রচন্ডভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কটুক্তি করেছেন। যারা তার ভক্ত-সমর্থক তাদের কিছু মানুষ এই কটুক্তিতে আক্রান্ত হয়ে আক্রমণ করেছেন। এখানে আইন ও ধর্মের দৃষ্টিতে উভয় অপরাধী। এক্ষেত্রে হিন্দু ধর্ম বা ধর্মীয় নেতাদের যেমন কোন দোষ নেই, তেমনি ইসলাম ধর্ম বা ধর্মীয় নেতাদের কোন দোষ নেই। কেউ কেউ হাফিজ মাওলানা মামুনুল হককে এবিষয়ে অপরাধী চিহ্নিত করতে আঙ্গুল উঠাচ্ছেন। আমি মনে করি না এক্ষেত্রে মামুনুল হক কোন উস্কানীমূলক ইন্দন দিয়েছেন। ভক্ত কিংবা ফ্যানরা পৃথিবীর সব জায়গায়ই অতিরিক্ত মাতলামী করে। বৃটেনের মতো দেশে আমি দেখেছি ফ্যানরা অনেক পাগলামী করে। ফ্যানদের পাগলামীর সাথে নায়কের সম্পর্ক থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। যদি সম্পর্ক থাকে তবে তা খারাপ, আর যদি না থাকে তবে নায়কে কিছু বলা যাবে না। যে ঘটনা ঘটেছে আমার বিশ্বাস এর সাথে ফ্যান বা ভক্তরা ঘটিয়েছে, এর সাথে মামুনুল হকের কোন সম্পর্ক নেই। আমি আশা করবো মামুনুল হকও এই বিষয়ের নিন্দা জানাবেন। নিন্দা জানাবে তার গ্রুপের লোকেরা।





























