দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বন্যা অবনতি পানি বন্দি অর্ধ শতাধিক গ্রাম বীজতলা পানির নিচে
- Update Time : ০৭:০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ আগস্ট ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে :: পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণে ক্রমশ বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার শতাধিক গ্রাম। পানির নিচে চলে গেছে কৃষকের শেষ ভরসা আমন বুনার বীজ তলা। গ্রামের সাধারণ মানুষ আবারও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একে তো ঘরে খাবার নেই তার উপর বন্যায় ঘর বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন ভীষণ চিন্তার মাঝে দিনানিপাত করছে। টানা বর্ষণে ব্যবসায় বানিজ্য হচ্ছে না ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের। হাওরে মাছ ধরতে গিয়েও প্রচণ্ড ঢেউ বৃষ্টির জন্য মাছ ধরতে পারছেন না সাধারণ জেলেরা। এ অবস্থায় রীতিমতো অসস্তিকর একটি সময় পার করতে হচ্ছে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে। রবিবার দুপুরে দেখার হাওরের আসামপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টি, ঢেউ আর বাতাস উপেক্ষা করে জালের গুন টানছেন কয়েকজন যুবক জেলে। তারা প্রত্যেকেই আবার কৃষক। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর প্রত্যেকেই কম বেশি করে জমি চাষ করেছিলেন। বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ার পর তারা নিয়মিত মাছ ধরছেন। এখন হাওরে পানি বেশি। বাতাস আর টানা বর্ষণের জন্য মাছ ধরতে পারছেন না তারা। তবু যা পান তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের সংসার।
হাওর থেকে ফেরার পথে একটি লম্বা ঘর পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘরের বারান্দায় স্যাঁতসেঁতে নরম মাটিতে একটি টোলের উপর বসে বিড়ি হুকছিলেন বয়স্ক ইরফান আলী। সংসার নিয়ে তিন বছর হলো আসামপুর থেকে কাদিপুরে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, অনেক উঁচু করে বাড়ি বানিয়েছিলাম। ছেলে মেয়ে ভাতিজা নাতিদের নিয়ে মাছ ধরি, তা বিক্রি করে চলে সংসার। পানিতে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে রান্না ঘর, টয়লেট আর পুকুর ঘাট। মূল ঘরটা বাকী। স্যাঁতসেঁতে বারান্দা দেখিয়ে বলেন, ছবি তুলে নেন। সরকার দেখুক আমরা কত সুখে আছি। তারই ভাতিজা মৎসজীবী কৃষক ছালেক মিয়া বলেন, সরকারী সহযোগিতা এখন আমাদের দরকার। আমরা কোনো রকম ঠিকে আছি। আজ রাতই থাকতে পারবো কি না তাও সন্দেহ আছে। পশ্চিম পাগলার বাবুল সূত্রধর ও পূর্ব পাগলার চিকারকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়া জানান, আমরা আমন জমিন চাষ করার জন্য যে বীজ তলা বুনেছিলাম তা ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নাই। উপরওয়ালাই ওকমাত্র ভরসা। আমাদের নসিবে যা আছে তা-ই হবে।
জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ঢলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের নয়াগাঁও, জামলাবাজ, মির্জাপুর, হাসনাবাজ, কাকিয়ারপাড়, পার্বতীপুরের হাওর এলাকা, আস্তমা গ্রামের উত্তরাঞ্চল, আসামপুর পশ্চিম পাগলার কাদিপুর, কাদিপুর (পূর্ব), নবীনগর, ডুকলাখাই, ব্রাহ্মণগাঁও ও নিদনপুর, পূর্ব বীরগাঁও-এর ধরমপুর দক্ষিণ পাড়া (বন্দেরবাড়ি), নতুন ব্রাহ্মণগাঁও, বীরগাঁও পশ্চিম পাড়া দক্ষিণ দিক, হাঁসকুড়ি ও ধলমৈশা, পূর্ব পাগলার নাজিমপুর, ডিগারকান্দি, চিকারকান্দি (নয়াগাঁও), আগারবাড়ি, খাড়ারাই (নয়াগাঁও), ঘুড়াডুম্বুর, বেতকোনা, চূরখাই, আলমপুরের নিম্নাংশ, মনবেগ (নদীরপাড় এলাকা) ও পিঠাপশির দক্ষিণাংশ, পশ্চিম বীরগাঁও-এ শান্তিপুর, মৌখলা, দূর্বাখপান্দা, দূর্গাপুরের কিছু অংশ, ব্রাহ্মণগাঁও, উলারপিঠা, সাপেরকোণা, সাইতক্ষিরা, উমেদনগর ও দোলপপুর, শিমুলবাঁকের লালুখালি, মুরাদপুরের কিছু অংশ, বাহাদুরপুর, রঘুনাথপুর গ্রাম, গ্রামের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা, শিমুলবাঁক গ্রামের কিছু অংশ ও কুতুবপুরের নিম্নাংশ, পাথারিয়া ইউনিয়নের কান্দিগাঁও, কাসিপুর, নারায়নপুরী, উত্তর গাজীনগরের কিছু অংশ, গোবিন্দপুর ও তেওইক্যার কিছু অংশ এবং দরগাপাশার বেশ কয়েকটি গ্রামসহ অর্ধ শতাধিক গ্রাম পানির নিছে তলিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে বিজয় সমাজ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ফরিদ আহমদ বলেন, উপজেলার প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। জামলাবাজ গ্রামেরও একই অবস্থা। গ্রামের দক্ষিণাংশের রাস্তা নিচু হওয়ায় রাস্তা মাড়িয়ে এ পাশের গ্রাম প্লাবিত হয়। নৌকার প্রচলন কমে যাওয়ায় চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও পূর্ব বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নূর কালাম বলেন, সাধারণ মানুষসহ আমরা অনেক বিপদে আছি। সরকারী ত্রাণ, শুকনা খাবার যদি প্লাবিত অঞ্চলগুলো পায় তাহলে ভাল হবে। সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করি। উপজেলা চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালাম বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি। এলাকা দেখছি। প্লাবিত অঞ্চলের কথা সরকারের কাছে পৌছে দেবো।




























