সন্তুষ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকরা
- Update Time : ০৭:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :: গত বোরো মৌসুমে হাওরে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাগামহীন অনিয়ম দূর্নীতির কারণে তলিয়ে যাওয়া ফসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হয়ে ৬১ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন ও এক ঠিকাদারকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করায় সন্তুষ প্রকাশ করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাধারণ কৃষকেরা। পাশাপাশি শুধু গ্রেফতার করে আইওয়াস না করে সুষ্ঠু বিচারের দাবী করেন তারা।
কৃষকরা বলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সবকটি হাওরসহ জেলার সকল হাওর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের লাগামহীন উদাসীনতা। যে সময়ে হাওরের বাঁধগুলোতে কাজ করানোর কথা, টেন্ডার সঠিক সময়ে হলেও বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করে অনেক দেড়িতে, বর্ষাকালে। আর এ দূর্নীতিতে গায়েগতরে খেটে সহযোগিতা করে দূর্নীতিবাজ পাউবো কর্মকর্তাগণ। শুধু তাই না, মনগড়া অযোগ্য আর দূর্নীতিবাজ স্থানীয় লোকদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে নামমাত্র কাজ করানো হয় হাওরের বাঁধগুলোতে। এতেই সর্বনাশ হয়েছে কৃষকদের। তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কৃষকের স্বপ্নের ফসল। তাই, শুধু পাউবো কর্মকর্তাদের নয়, হাওরে বাঁধ দূর্নীতিতে দূর্নীতির সাথে জড়িত পিআইসিদের বিরোদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নূরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেছেন, আমাদের যে ফসল তলিয়ে গেছে তা তো আর ফিরে আসবে না। তবে এটা চাইবো যে, যেসব কর্মকর্তারা দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিলো তাদের যেনো সুষ্ঠু বিচার হয়। দুইজনকে গ্রেফতার করায় আমরা আনন্দিত। তবে শুধু আই ওয়াশ যেনো করা না হয়। সুষ্ঠু বিচার চাই। বাকী যারা আছেন তাদেরও যেনো গ্রেফতার করে কিচারের আওতায় আনা হয়।
দেখার হাওরের আরেক বর্গাচাষীর নাম নূরী মিয়া। তিনি বলেন, আমি মানুষের জমি চাষ করি। ঋণ করে ৩ কেদার জমি চাষ করেছিলাম। সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন আর কিছুই নাই আমার। যাদের দূর্নীতির কারণে আমাদের ফসল তলিয়ে গেছে তাদের বিচার হবে শুনে ভাল লাগছে। সরকারকে ধন্যবাদ। তবে শুধু ঠিকাদারদের নয় মেম্বারসহ যে পিআইসি কমিটি করা হয়, তদন্ত করে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা দরকার। সুষ্ঠু বিচার চাই।
বড়গেদা নামের আরেকজন কৃষক বলেন, দুইজন একজনকে গ্রেফতার করলেই হবে না, দূর্নীতির সাথে জড়িত ৬১ জনকেই গ্রেফতার করতে হবে। আর শুধু গ্রেফতার নয়, সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।




























