দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ট জনজীবন
- Update Time : ০২:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব শাহরিয়ার :: পল্লী বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ট দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবন। প্রচণ্ড গরম ও রমজান মাস থাকা স্বত্তেও সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন স্বেচ্ছাচারীতায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে। বিদ্যুতের বিভ্রাট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এ উপজেলার মানুষ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত আছে কি না তাও বুঝা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের এক তৃতীয়াংশ সময়ও বিদ্যুত সরবরাহ করা হয় না উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মানুষকে। ফলে যেমন ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলা ফেরা তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী লেখাপড়া ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা।
উপজেলাব্যাপী বিদ্যুতের বিরোদ্ধে অভিযোগ, দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুত থাকছে না এ এলাকায়। গত ১৫ দিনের (আনুমানিক) মোট হিসেবে বিদ্যুৎ ছিলো ৪ থেকে ৫ দিন। যেখানে রমজান মাসে বেশি বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল সকলের এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও করার কথা সেখানে বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে উপজেলাবাসীকে। সাধারণ মুসল্লিদের দাবী থাকা স্বত্তেও তারাবিহর নামাজ, সেহরি ও ইফতারের সময় দেওয়া হচ্ছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ্। তাই অন্ধকারের মাঝেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করে নিতে হচ্ছে তাঁদের ধর্মীয় কাজ। শুধু তাই না, উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনারই সকল কাজ ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ অফিসের স্বেচ্ছাচারীতার কারণে। সাধারণ মানুষের মনে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছেন। কেউ কেউ লাইনম্যান ও মিটার রিডারসহ সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের যাদেরকেই হাতের কাছে পাচ্ছেন তাদের সাথে ক্ষোভ ঝাড়ছেন, করছেন অশুভন আচরণও।
এলাকাবাসী জানান, পল্লী বিদ্যুতের এহেন কর্মকাণ্ডে সত্যিই তারা অতিষ্ট। আকাশে যদি সামান্য মেঘ জমে, বৃষ্টি হয় বা একটু বাতাস আসে তাহলেই বিদ্যুত চলে যায়। আর এই দিনের মাঝে আসতে চায় না। অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নাম্বার (০১৭৬৯৪০১৮৬৪) সব সময় ব্যস্ত থাকে। যদিও কালে ভাদ্রে কল ঢুকে তাও রিসিভ করেন না দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। শুধু যে মেঘলা দিন থাকলেই বিদ্যুৎ থাকে না, তা নয়। অনেক সময় অনেক ভাল দিনেও বিদ্যুৎ থাকে না এ উপজেলায়। এ অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের দাবীতে সাধারণ জণগন সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা-সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেছে কিছুদিন আগে। রমজান মাসে উপজেলার পাগলা বাজারে কমপক্ষে ৩ বার সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষোব্ধ জনতা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আরো কঠোর আন্দোলন করবে হুসায়ারি দিয়েছে তারা। সাহিত্য পত্রিকা তরু নামের একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রতিবাদস্বরূপ ‘আমরা এমন বিদ্যুৎ চাই না’ আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যপারে পশ্চিম পাগলার সুমি আক্তার নামের এক গৃহবধু জানান, ‘কারেন্টের বেসেবা অবস্থা। ইলা কারেন্ট দেওয়া তাকি না দেওয়াই ভালা। হারাদিনের মাঝে একবারও কারেন্টের দেখা মিলে না। গরম, রোজা, বাইচ্ছান্তর লেখাপড়া হখলতাত খারাপ অবস্থা। ই অবস্থার সমাধান হওয়া দরকার।’
ইশাখপুর-শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুল কবির ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যুতের অবস্থা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা লোডশেডিং নামক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি প্রতিনিয়ত। তারাবাহির নামাজ, সেহরি ও ইফতারে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এটা চরম সমস্যা। তা ছাড়া শিক্ষার্থীরা যখন পড়ার সময়, তখনই বিদ্যুৎ থাকে না এ এলাকায়। এতে ছাত্রছাত্রীরা আর পড়তে চায় না। এভাবে ধারাবাহিকভাবে চললে বিশেষ করে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা মেধাহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।’
পাগলা উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ সহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হুমায়ূন কবির জানান, ‘প্রচণ্ড গরমের দাবদাহে সুস্থ্য মানুষই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আর অসুস্থ্যদের কথা বলাই বাহুল্য। বিদ্যুতের জন্য রোগীদের সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যহত হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিদ্যুতের সংকট দ্রুত নিরসন করা জরুরী।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ শাখার উপ-ব্যবস্থাপক (জিএম) সোহেল পারভেজ বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যুৎ না থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সব জায়গা সমানভাবে এমনটা হচ্ছে। বাইরোটেশনের মাধ্যমে আমাদের চালাতে হচ্ছে। কোনো এলাকায় যদি সেহরির সময় পায় তাহলে ইফতারের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পারি না। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যুৎ না থাকায় এমনটা হচ্ছে। আমাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন ২৮ মেগাওয়াট, পাচ্ছি ২০ মেগাওয়াট। ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। এ ঘাটতি পূরণ করতেই আমাদের বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটের মতো এ সমস্যা কবে নাগাদ নিরসন হবে? এমন প্রশ্নে পল্লী বিদ্যুতের এ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ‘শহরের ইকবাল নগরস্থ হাছন রাজার তোরণের কাছে আমাদের যে বিদ্যুৎ পাওয়ারগ্রীড তৈরি হচ্ছে তা নির্মান শেষ করে ব্যবহার করতে পারলেই আমরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারবো বলে আশা করছি। চলতি মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয় নি। আবেদন করে আরো ৬ মাস সময় বর্ধিত করা হয়েছে।’




























