০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে জমজমাট পাগলার মাছের বাজার

  • Update Time : ০৭:০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে :: তিনশ বিশ এক, তিনশ বিশ দুই, তিনশ বিশ তিন। এভাবেই এক চাঙ্গা (মাছ রাখার বিশেষ পাত্র) মাছের দাম হেঁকে শেষ করছিলেন পাগলা বাজার মৎসজীবী সমবায়ের নেতা আবদুল গফুর। চারদিকে মানুষে গিজ গিজ করছে। পা ফেলবার জায়গা নেই। এদিকে একজন ডাক হাঁকছে, অপরদিকে আরেকজন। অন্য কোনোদিকে নজর দেওয়ার সময় নেই কারো। নলুয়ার হাওর, দেখার হাওর, সংহাই হাওর, পাথারিয়া বাজারসহ দিরাই, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলার বেশ বিছু অংশের মৎসজীবীর দুইশখানেক নৌকার ভীর ছিলো তখন পাগলা বাজারের উত্তরে মাছ বাজারের কাছে মহাসিং নদীতে। নৌকাতে বসে কেউ জাল গোছাচ্ছেন, কেউ নৌকা থেকে ছেঁকে পানি ফেলছেন, কেউ বা আবার চাঙ্গাতে বেছে বেছে মাছ তুলছে। কোনোটাতে ছোট মাছ, কোনোটাতে বড়। এসব মাছ বাজারে এনে দিচ্ছেন আড়ৎদারদের কাছে। এরাই আবার নিলাম ডেকে নির্দিষ্ট দরে বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে। একজনের মাছ বিক্রি শেষ না হতেই আরেকজনের মাছ এসে হাজির। শুরু হয় নতুন ডাক। এরকম সাত আটজন পাইকার বিরামহীনভাবে ডাক হেঁকে যাচ্ছেন আর স্থানীয় ও বিভিন্ন যায়গা থেকে আসা ক্রেতারা সুবিধা মতো মাছ কিনছেন।

 

 

 

আড়ৎদার, ক্রেতা ও সাধারণ বিক্রতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, পাগলার মাছের বাজার এখন জমজমাটভাবেই চলছে। শত বছরের পুরোনো এ বাজারে বাংলা সনের জৈষ্ঠ্য মাস থেকে কার্তিক মাস এবং  ইংরেজি সনের মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ ছয় মাস সময় জমজমাট হাট হয় এ বাজারে। প্রতিদিন ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সহস্রাধিক ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এসব ক্রেতা বিক্রেতার হাতেই লেনদেন হচ্ছে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মাছ। নিলামে এসব মাছ কিনে ড্রাম ভর্তি করে রাতে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা কিংবা সিলেটে। স্থানীয়রাও মাছের চাহিদা মেঠাচ্ছেন এখান থেকেই।

 

 

 

জেলেরা জানান, নানান জাতের মাছ জালে ধরা পড়ছে এবার। ছোট মাছ খুব বেশি। টেংরা, বাইন, মেনি, টাকি, কাইক্কা, পুটি, চিংড়ি ও চাপিলামাছ ধরা পড়ছে বেশি। বড় মাছের মাঝে বোয়াল, কার্প, তেলাপিয়া, মৃগেল, বাউশ ও শোলমাছ ধরা পড়ছে। এছাড়াও বিলুপ্তপ্রায় মাছ শিং ও রাণীমাছও মাঝে মধ্যে নিলামে উঠতে দেখা যায়। তবে এসব মাছের দাম অন্য মাছের চেয়ে বেশি।

 

 

 

পাগলার এ মাছের বাজার অসংখ্য মানুষের আয় রোজগারের ক্ষেত্র হলেও সমস্যা পিচু ছাড়ছে না। উত্তরদিকে নদীর পাড়ে অনেকটা জায়গা ভেঙ্গে নিচের দিকে নেমে গেছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক কোনো রাস্তা না থাকায় পানি আটকে দূর্গন্ধ তৈরি হয়েছে। এর মাঝে আবার জায়গা স্বল্পতা। জেলেরা চান বাজারের এ ভাঙ্গা অংশগুলো যেনো দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হয়। তিন ফুট করে জায়গা বাড়িয়ে দেওয়ারও দাবী করেন তারা।

 

 

 

এ বাজারে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রাম থেকে মাছে বিক্রি করতে আসেন সুলেমান মিয়া। তিনি বলেন- পাগলা বাজারে মাছের বেশি দাম পাওয়া যায়। ক্রেতা বেশি। মহাসিং নদী হয়ে নৌকা যোগে সহজে বাজারেও আসা যায়। তাই এখানে আসি। একটু কষ্ট হলেও এখানে আসি। মাছের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়।

 

 

 

এ ব্যাপারে মৎস ব্যবসায়ী নেতা আবদুল গফুর ও আবদুল লতিফ বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন হাওর থেকে প্রচুর মাছ এখানে আসে। আমাদের এলাকার সকলের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর মাছ আমরা সিলেট ও ঢাকায় পাঠাচ্ছি। জেলেরা মাছের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। প্রতিজন জেলে গড়ে প্রতিদিন ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করছে। ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ব্যবসা হচ্ছে এ বাজারে। অথচ বাজারের বিভিন্ন অংশ ভাঙ্গা। পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না ঠিক মতো। জায়গাও কম। আমরা সরকারের কাছে একটা আবেদন করবো- যেনো আমাদের মাছ বাজারটা আরো তিন ফুট করে বর্ধিত করা হয়।

 

 

 

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আছে। আমি এর আগেও বিষয়টি উপরে কথা বলেছি। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলাপ করে আমি মাছ বাজার সংস্কার করবো। আমি ইউনিয়নের প্রতিটি জেলে যেনো আরামে ব্যবসা করতে পারে সে ব্যপারে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে জমজমাট পাগলার মাছের বাজার

Update Time : ০৭:০৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০১৭

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে :: তিনশ বিশ এক, তিনশ বিশ দুই, তিনশ বিশ তিন। এভাবেই এক চাঙ্গা (মাছ রাখার বিশেষ পাত্র) মাছের দাম হেঁকে শেষ করছিলেন পাগলা বাজার মৎসজীবী সমবায়ের নেতা আবদুল গফুর। চারদিকে মানুষে গিজ গিজ করছে। পা ফেলবার জায়গা নেই। এদিকে একজন ডাক হাঁকছে, অপরদিকে আরেকজন। অন্য কোনোদিকে নজর দেওয়ার সময় নেই কারো। নলুয়ার হাওর, দেখার হাওর, সংহাই হাওর, পাথারিয়া বাজারসহ দিরাই, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলার বেশ বিছু অংশের মৎসজীবীর দুইশখানেক নৌকার ভীর ছিলো তখন পাগলা বাজারের উত্তরে মাছ বাজারের কাছে মহাসিং নদীতে। নৌকাতে বসে কেউ জাল গোছাচ্ছেন, কেউ নৌকা থেকে ছেঁকে পানি ফেলছেন, কেউ বা আবার চাঙ্গাতে বেছে বেছে মাছ তুলছে। কোনোটাতে ছোট মাছ, কোনোটাতে বড়। এসব মাছ বাজারে এনে দিচ্ছেন আড়ৎদারদের কাছে। এরাই আবার নিলাম ডেকে নির্দিষ্ট দরে বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে। একজনের মাছ বিক্রি শেষ না হতেই আরেকজনের মাছ এসে হাজির। শুরু হয় নতুন ডাক। এরকম সাত আটজন পাইকার বিরামহীনভাবে ডাক হেঁকে যাচ্ছেন আর স্থানীয় ও বিভিন্ন যায়গা থেকে আসা ক্রেতারা সুবিধা মতো মাছ কিনছেন।

 

 

 

আড়ৎদার, ক্রেতা ও সাধারণ বিক্রতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, পাগলার মাছের বাজার এখন জমজমাটভাবেই চলছে। শত বছরের পুরোনো এ বাজারে বাংলা সনের জৈষ্ঠ্য মাস থেকে কার্তিক মাস এবং  ইংরেজি সনের মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এ ছয় মাস সময় জমজমাট হাট হয় এ বাজারে। প্রতিদিন ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সহস্রাধিক ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এসব ক্রেতা বিক্রেতার হাতেই লেনদেন হচ্ছে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মাছ। নিলামে এসব মাছ কিনে ড্রাম ভর্তি করে রাতে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা কিংবা সিলেটে। স্থানীয়রাও মাছের চাহিদা মেঠাচ্ছেন এখান থেকেই।

 

 

 

জেলেরা জানান, নানান জাতের মাছ জালে ধরা পড়ছে এবার। ছোট মাছ খুব বেশি। টেংরা, বাইন, মেনি, টাকি, কাইক্কা, পুটি, চিংড়ি ও চাপিলামাছ ধরা পড়ছে বেশি। বড় মাছের মাঝে বোয়াল, কার্প, তেলাপিয়া, মৃগেল, বাউশ ও শোলমাছ ধরা পড়ছে। এছাড়াও বিলুপ্তপ্রায় মাছ শিং ও রাণীমাছও মাঝে মধ্যে নিলামে উঠতে দেখা যায়। তবে এসব মাছের দাম অন্য মাছের চেয়ে বেশি।

 

 

 

পাগলার এ মাছের বাজার অসংখ্য মানুষের আয় রোজগারের ক্ষেত্র হলেও সমস্যা পিচু ছাড়ছে না। উত্তরদিকে নদীর পাড়ে অনেকটা জায়গা ভেঙ্গে নিচের দিকে নেমে গেছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক কোনো রাস্তা না থাকায় পানি আটকে দূর্গন্ধ তৈরি হয়েছে। এর মাঝে আবার জায়গা স্বল্পতা। জেলেরা চান বাজারের এ ভাঙ্গা অংশগুলো যেনো দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হয়। তিন ফুট করে জায়গা বাড়িয়ে দেওয়ারও দাবী করেন তারা।

 

 

 

এ বাজারে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রাম থেকে মাছে বিক্রি করতে আসেন সুলেমান মিয়া। তিনি বলেন- পাগলা বাজারে মাছের বেশি দাম পাওয়া যায়। ক্রেতা বেশি। মহাসিং নদী হয়ে নৌকা যোগে সহজে বাজারেও আসা যায়। তাই এখানে আসি। একটু কষ্ট হলেও এখানে আসি। মাছের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়।

 

 

 

এ ব্যাপারে মৎস ব্যবসায়ী নেতা আবদুল গফুর ও আবদুল লতিফ বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন হাওর থেকে প্রচুর মাছ এখানে আসে। আমাদের এলাকার সকলের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর মাছ আমরা সিলেট ও ঢাকায় পাঠাচ্ছি। জেলেরা মাছের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। প্রতিজন জেলে গড়ে প্রতিদিন ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করছে। ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ব্যবসা হচ্ছে এ বাজারে। অথচ বাজারের বিভিন্ন অংশ ভাঙ্গা। পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না ঠিক মতো। জায়গাও কম। আমরা সরকারের কাছে একটা আবেদন করবো- যেনো আমাদের মাছ বাজারটা আরো তিন ফুট করে বর্ধিত করা হয়।

 

 

 

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আছে। আমি এর আগেও বিষয়টি উপরে কথা বলেছি। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আলাপ করে আমি মাছ বাজার সংস্কার করবো। আমি ইউনিয়নের প্রতিটি জেলে যেনো আরামে ব্যবসা করতে পারে সে ব্যপারে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ