১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলাবাজারে কাদার জন্য হাটা যায় না

  • Update Time : ০৪:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :: চৈত্র বৈশাখ কিংবা আষাঢ় শ্রাবণ। বছরের যে কোনো সময় বৃষ্টি হলেই পানির চেয়ে কাদাই বেশি হয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাগলা বাজারে। বাজারের বাসস্টেশন, মূল সড়ক, কান্দিগাঁও সড়ক, মাছ ও সবজি বাজার সব স্থানেই কাদা। মাঝে মাঝে স্বস্তির বৃষ্টি হলেও কাদায় অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয় এই বাজারে আশ আশপাশের ষোলো গ্রামের মানুষদের। হাটা যায় না কাদার জন্য। বাসস্টেশন এলাকায় বড় বড় খানাখন্দের জন্য আরো বেশি বিপাকে পড়তে হয় বাজার আগতদের।

 
বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাইজিং সান কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থী ও পাগলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা রোগীদের। বাসস্টেশন সড়ক মাঝে মধ্যে সংস্কার করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থা দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষ এসব দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চান।
শুক্রবারের বৃষ্টিতে শনিবার সমস্ত দিন বাজারের বাসস্টেশন, মূল সড়ক, কান্দিগাঁও সড়কসহ মাছ বাজার ও সবজি বাজারের বেহাল অবস্থা হয়েছে। মানুষ হাঁটতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে বসে আছেন। ক্রেতারা গলির ভিতরে ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও ঢুকছেন না। বাজারে ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি কমছে।
শনিবার সকালে বাতির আলী চা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইনাতনগর গ্রামের আনোয়ার আলী। একটি মাইক্রোবাস দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কাদা চিট্কে নাস্তানাবুদ করে যায় তাকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তা সংস্কার না করলে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। এতা বড় বড় গর্ত থাকলে গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশংকাও থাকে।’
ব্যবসায়ী আবদুল হাই বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে বড় বড় দুই তিন গর্ত, গাড়ি এসে এমনভাবে গর্তে পড়ে মনে হয় আমার দোকানের উপরেই বুঝি উঠলো।’
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাজারে শৃঙ্খলা একেবারেই নেই। কার্যকর কোনো কমিটি না থাকায় ফুটপাতের দোকানীরা যেখানে সেখানে বসছে। ড্রেনের উপর বসে পানি আটকায়। ময়লা জমা করে। ফলে বৃষ্টি এলে বাজার কাদায় ভরে যায়। আমি বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও কাউকে কোনো কথা শুনাতে পারছি না। ইউপি চেয়ারম্যানও এ ব্যাপারে উদাসীন। আমি সবার সাথে আবার আলাপ করে দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করবো।’
সড়ক ও জনপথের পাগলা কার্যালয়ের কর্য-সহকারী আবদুর রহিম বলেন, ‘এখন তো বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা যাবে না। বৃষ্টি কমলে সড়কে কাজ হবে।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলাবাজারে কাদার জন্য হাটা যায় না

Update Time : ০৪:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :: চৈত্র বৈশাখ কিংবা আষাঢ় শ্রাবণ। বছরের যে কোনো সময় বৃষ্টি হলেই পানির চেয়ে কাদাই বেশি হয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাগলা বাজারে। বাজারের বাসস্টেশন, মূল সড়ক, কান্দিগাঁও সড়ক, মাছ ও সবজি বাজার সব স্থানেই কাদা। মাঝে মাঝে স্বস্তির বৃষ্টি হলেও কাদায় অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয় এই বাজারে আশ আশপাশের ষোলো গ্রামের মানুষদের। হাটা যায় না কাদার জন্য। বাসস্টেশন এলাকায় বড় বড় খানাখন্দের জন্য আরো বেশি বিপাকে পড়তে হয় বাজার আগতদের।

 
বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাইজিং সান কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থী ও পাগলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা রোগীদের। বাসস্টেশন সড়ক মাঝে মধ্যে সংস্কার করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থা দাঁড়ায়। সাধারণ মানুষ এসব দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চান।
শুক্রবারের বৃষ্টিতে শনিবার সমস্ত দিন বাজারের বাসস্টেশন, মূল সড়ক, কান্দিগাঁও সড়কসহ মাছ বাজার ও সবজি বাজারের বেহাল অবস্থা হয়েছে। মানুষ হাঁটতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে বসে আছেন। ক্রেতারা গলির ভিতরে ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও ঢুকছেন না। বাজারে ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি কমছে।
শনিবার সকালে বাতির আলী চা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইনাতনগর গ্রামের আনোয়ার আলী। একটি মাইক্রোবাস দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কাদা চিট্কে নাস্তানাবুদ করে যায় তাকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তা সংস্কার না করলে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। এতা বড় বড় গর্ত থাকলে গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশংকাও থাকে।’
ব্যবসায়ী আবদুল হাই বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে বড় বড় দুই তিন গর্ত, গাড়ি এসে এমনভাবে গর্তে পড়ে মনে হয় আমার দোকানের উপরেই বুঝি উঠলো।’
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাজারে শৃঙ্খলা একেবারেই নেই। কার্যকর কোনো কমিটি না থাকায় ফুটপাতের দোকানীরা যেখানে সেখানে বসছে। ড্রেনের উপর বসে পানি আটকায়। ময়লা জমা করে। ফলে বৃষ্টি এলে বাজার কাদায় ভরে যায়। আমি বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও কাউকে কোনো কথা শুনাতে পারছি না। ইউপি চেয়ারম্যানও এ ব্যাপারে উদাসীন। আমি সবার সাথে আবার আলাপ করে দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করবো।’
সড়ক ও জনপথের পাগলা কার্যালয়ের কর্য-সহকারী আবদুর রহিম বলেন, ‘এখন তো বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা যাবে না। বৃষ্টি কমলে সড়কে কাজ হবে।’

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ