০৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়ন চান দক্ষিণাঞ্চলের ৬ ইউনিয়নবাসী

  • Update Time : ১২:২০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

চান মিয়া, ছাতক থেকে :: সুনামগঞ্জ জেলার বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে ছাতক উপজেলা। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলা সারা দেশে অনেক সুনাম রয়েছে। এখানে রয়েছে প্রাচীনতম একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, রোপওয়ে, রেললাইন ও ষ্টেশন, ইংলিশ টিলা, ক্রংক্রিট স্লিপার। রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডারসট্রিজ এর একটি শাখাসহ আরো অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। তাই এটিকে দেশব্যাপী মানুষের কাছে শিল্পনগরি ‘ছাতক’ হিসেবে খ্যাত। এক সময় এ উপজেলা ছিল আরো বিশাল। বৃহত্তর ছাতকের তৎকালিন মানচিত্রে ছিল দোয়ারাবাজার ও কোম্পানিগঞ্জের কিছু অংশ। সম্প্রতি এখান থেকে পৃথক হয়ে বর্তমান ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় দোয়ারাবাজার নামে একটি উপজেলা। সিলেটের কোম্পানিগঞ্জেও অর্ন্তভূক্ত হয়েছে কিছু অংশ। তার পরও এ উপজেলা সীমানা রয়েছে বিশাল। ছাতকের উত্তর সীমানা শেষ হয়েছে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে জগন্নাথপুর উপজেলা, পশ্চিমে দোয়ারাবাজার উপজেলা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও পূর্বে সিলেট জালালাবাদ সদর এবং বিশ্বনাথ উপজেলা। সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে রয়েছে ৫শ’২৪টি গ্রাম, ২২টি মহল্লা ও ৩শ’১১টি মৌজা। উপজেলার আয়তন ৪শ’৪০.৪ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর প্রতিবেদন অনুযায়ি জানুয়ারি ২০০১সালে ছাতকে পুরুষ রয়েছেন ১লক্ষ ৯৭হাজার ৯শ’৫২ ও মহিলা ১লক্ষ ৯৯হাজার ৬শ’৯০জন। যোগাযোগ ক্ষেত্রে এ উপজেলা অন্যান্য উপজেলা তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষা-দিক্ষায়ও পিছিয়ে নয়। দীর্ঘদিন ধরে ছাতক উপজেলার একটি অংশকে দক্ষিণ ছাতক নামকরণ করে আরো একটি উপজেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে দক্ষিনাঞ্চলের লোকজন। সরকারের কাছে বিভিন্ন ব্যানারে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। দক্ষিণ ছাতক উপজেলা ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের মানুষ। ৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘দক্ষিণ ছাতক দোলারবাজার’ নামে পৃথক উপজেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দোলারবাজারে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আলী আকবরের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাওলানা জিয়াউর রহমানের পরিচালনা অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মুরব্বি সুনাহর আলী, যুগ্ম সম্পাদক নাসির মিয়া নেছার, নূর মিয়া, মৌলভীবাজার জেলার ডিভি পুলিশের পরিদর্শক মো. লুৎফুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক হাসিম উল্লাহ, ছায়েদ মিয়া, আরিফ আহমদ-জমির মেম্বার, আবদুল আলিম মেম্বার, আরব আলী, মাহমুদ আলী মেম্বার, ফটিক মিয়া, রইছ আলী মেম্বার, আবুল কালাম মেম্বার, নজরুল ইসলাম, আবদুল খালিক, মন্তাজ আলী, রইছ আলী, শামছ মাহবুব, নিজাম উদ্দিন, মাওলানা আবদুর রহমান, আবদুল আউয়াল, সালেহ আহমদ, টিএম রায়হান, আকবর আলী, হেলাল আহমদ, ফখর উদ্দিন, আবু সালেহসহ দোলারবাজার, দক্ষিণ খুরমা, ছৈলা-আফজালাবাদ, ভাতগাঁও, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন দুপুরে দোলারবাজারে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে এক মানববন্ধব কর্মসূচি পালন করা হয়। ভৌগলিক ক্ষেত্রে দোলারবাজার হচ্ছে মধ্যবর্তী স্থান। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধিন ভূমি। রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ব্যাংকসহ একটি নদী বন্দর। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক উন্নত। এজন্যে তারা সরকারের কাছে এখানেই দক্ষিণ ছাতক উপজেলা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। এদিকে গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানসহ অনেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারনে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়িত হলেও তারা ছাতকের সাথেই থাকছেন। তবে তাদের মতামত ছাড়া একটি মহল গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের নাম অর্ন্তভূক্ত করেছে। নেতৃবৃন্দ এ তৎপরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়ন চান দক্ষিণাঞ্চলের ৬ ইউনিয়নবাসী

Update Time : ১২:২০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭

চান মিয়া, ছাতক থেকে :: সুনামগঞ্জ জেলার বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে ছাতক উপজেলা। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলা সারা দেশে অনেক সুনাম রয়েছে। এখানে রয়েছে প্রাচীনতম একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, রোপওয়ে, রেললাইন ও ষ্টেশন, ইংলিশ টিলা, ক্রংক্রিট স্লিপার। রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডারসট্রিজ এর একটি শাখাসহ আরো অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। তাই এটিকে দেশব্যাপী মানুষের কাছে শিল্পনগরি ‘ছাতক’ হিসেবে খ্যাত। এক সময় এ উপজেলা ছিল আরো বিশাল। বৃহত্তর ছাতকের তৎকালিন মানচিত্রে ছিল দোয়ারাবাজার ও কোম্পানিগঞ্জের কিছু অংশ। সম্প্রতি এখান থেকে পৃথক হয়ে বর্তমান ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় দোয়ারাবাজার নামে একটি উপজেলা। সিলেটের কোম্পানিগঞ্জেও অর্ন্তভূক্ত হয়েছে কিছু অংশ। তার পরও এ উপজেলা সীমানা রয়েছে বিশাল। ছাতকের উত্তর সীমানা শেষ হয়েছে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে জগন্নাথপুর উপজেলা, পশ্চিমে দোয়ারাবাজার উপজেলা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও পূর্বে সিলেট জালালাবাদ সদর এবং বিশ্বনাথ উপজেলা। সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে রয়েছে ৫শ’২৪টি গ্রাম, ২২টি মহল্লা ও ৩শ’১১টি মৌজা। উপজেলার আয়তন ৪শ’৪০.৪ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর প্রতিবেদন অনুযায়ি জানুয়ারি ২০০১সালে ছাতকে পুরুষ রয়েছেন ১লক্ষ ৯৭হাজার ৯শ’৫২ ও মহিলা ১লক্ষ ৯৯হাজার ৬শ’৯০জন। যোগাযোগ ক্ষেত্রে এ উপজেলা অন্যান্য উপজেলা তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষা-দিক্ষায়ও পিছিয়ে নয়। দীর্ঘদিন ধরে ছাতক উপজেলার একটি অংশকে দক্ষিণ ছাতক নামকরণ করে আরো একটি উপজেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে দক্ষিনাঞ্চলের লোকজন। সরকারের কাছে বিভিন্ন ব্যানারে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। দক্ষিণ ছাতক উপজেলা ঘোষণা করে দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের মানুষ। ৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘দক্ষিণ ছাতক দোলারবাজার’ নামে পৃথক উপজেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দোলারবাজারে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আলী আকবরের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাওলানা জিয়াউর রহমানের পরিচালনা অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মুরব্বি সুনাহর আলী, যুগ্ম সম্পাদক নাসির মিয়া নেছার, নূর মিয়া, মৌলভীবাজার জেলার ডিভি পুলিশের পরিদর্শক মো. লুৎফুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক হাসিম উল্লাহ, ছায়েদ মিয়া, আরিফ আহমদ-জমির মেম্বার, আবদুল আলিম মেম্বার, আরব আলী, মাহমুদ আলী মেম্বার, ফটিক মিয়া, রইছ আলী মেম্বার, আবুল কালাম মেম্বার, নজরুল ইসলাম, আবদুল খালিক, মন্তাজ আলী, রইছ আলী, শামছ মাহবুব, নিজাম উদ্দিন, মাওলানা আবদুর রহমান, আবদুল আউয়াল, সালেহ আহমদ, টিএম রায়হান, আকবর আলী, হেলাল আহমদ, ফখর উদ্দিন, আবু সালেহসহ দোলারবাজার, দক্ষিণ খুরমা, ছৈলা-আফজালাবাদ, ভাতগাঁও, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন দুপুরে দোলারবাজারে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে এক মানববন্ধব কর্মসূচি পালন করা হয়। ভৌগলিক ক্ষেত্রে দোলারবাজার হচ্ছে মধ্যবর্তী স্থান। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধিন ভূমি। রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ব্যাংকসহ একটি নদী বন্দর। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক উন্নত। এজন্যে তারা সরকারের কাছে এখানেই দক্ষিণ ছাতক উপজেলা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। এদিকে গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানসহ অনেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নের বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারনে দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়িত হলেও তারা ছাতকের সাথেই থাকছেন। তবে তাদের মতামত ছাড়া একটি মহল গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের নাম অর্ন্তভূক্ত করেছে। নেতৃবৃন্দ এ তৎপরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ