০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তুরাব হ’ত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রে’প্তার করুন

  • Update Time : ০১:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

 

দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র রিপোর্টার মুনশী ইকবালে সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নুর, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের তাপাদার, বাসসের ব্যুরো চিফ সেলিম আওয়াল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কবির আহমদ, কবির আহমদ সোহেল, শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ মিঠু, সিলেট বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল, সাংবাদিক ইয়াহইয়া মারুফ, মুহিবুর রহমান প্রমুখ।

 

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক এমজেএইচ জামিল ও ফটো সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর লিটন। কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন- সালমান আহমদ সোহেল। মোনাজাত পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

 

আলোচনাসভায় বক্তারা আরও বলেন, ‘সাংবাদিক এটিএম তুরাবকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হত্যা করা হয়েছে। যে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী নাগরিকদের সুরক্ষা দেবে, সেই পুলিশ পেশাগত দায়িত্বপালনকালে নিরস্ত্র নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যা সুস্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শহিদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকারী ও নির্দেশদাতা সকল পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’

 

আলোচনাসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ এটিএম তুরাবকে গুলি করে হত্যা করে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হত্যা করেছে। পেশাগত দায়িত্বপালনকালে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। নিঃসন্দেহে এটিএম তুরাব শহিদ।’

 

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নুর বলেন, ‘নষ্ট রাজনীতির চোরাগলিতে যেন তুরাব হত্যার বিচার হারিয়ে না যায়। তুরাব হত্যার বিচারে অযথা কালক্ষেপণ মেনে নেওয়া হবে না। বিলম্ব না করে যথাসময়ে বিচার সুনিশ্চত করতে হবে।’

 

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু বলেন, ‘শহিদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার দাবিতে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। এক বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু এখনও বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আগামী এক বছরের মধ্যে যাতে বিচার নিশ্চিত হয়, সেই লক্ষ্যে সাংবাদিক সমাজকে লড়াই করতে হবে।’

 

দৈনিক নয়াদিগন্তের ব্যুরো চিফ আব্দুল কাদের তাপাদার বলেন, ‘গত ১০০ বছরের সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাসে শাহাদাতবরণকারী সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তুরাব হত্যার ৩৬৫ দিন পেরিয়ে গেছে, তদন্ত কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালে এগিয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে রায় কার্যকর করতে হবে।’

 

সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, তুরাবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কাজের সাথে বাস্তবতার ফারাক আছে। কথার সাথে যাতে কাজের মিল থাকে, এটা আমরা দেখতে চাই। আমরা আশাবাদী, তুরাব হত্যার বিচার দ্রুত করা হবে।’

 

ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ মিঠু বলেন, ‘আমার সহকর্মী তুরাব হত্যার বিচার চাই। যে পুলিশ আমার সহকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে, বিচার চাওয়ার মাধ্যমেই তা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে, এটা অন্যায়।’

 

সিলেট বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল বলেন, ‘সংবাদকর্মীদের সমাজের কাছে দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে শহিদ তুরাব পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এটিএম তুরাবকে। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের আন্দোলন চলবে।’

 

সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, ‘যারা মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তাদের হাতেই নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তুরাবের শরিরে ৯৮টি স্প্রিন্টার পাওয়া গেছে, এটা টার্গেট কিলিং, এতে কোনো সন্দেহ নাই।’ তিনি বলেন, তুরাব পেশাগত দায়িত্বপালনকালে ১৯ জুলাই মারা গেছে, সে ১৫ জুলাই দৈনিক জালালাবাদে চিনি চোরাচালান নিয়ে একটি লিড নিউজ করেছে। সেই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তার নাম এসেছে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে। এটাও হয়তো হত্যার একটা কারণ হতে পারে। পুলিশ সুযোগ বুঝে কাজে লাগিয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খালেদ আহমদ, ফারুক আহমদ, আব্দুল হান্নান, ফয়ছল আলম, মইন উদ্দিন মনজু, আনিস রহমান, গোলজার আহমদ, শোয়াইবুল হাসান, সাংবাদিক মো. মুহিবুর রহমান, আতিকুর রহমান নগরী, আশকার আমিন লস্কর ইবনে রাব্বি, এইচএম শহিদুল ইসলাম, আজমল আলী, মাহমুদ হোসেন, শামিম আহমদ, আহবাব মোস্তফা খান প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

তুরাব হ’ত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রে’প্তার করুন

Update Time : ০১:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

 

দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র রিপোর্টার মুনশী ইকবালে সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নুর, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের তাপাদার, বাসসের ব্যুরো চিফ সেলিম আওয়াল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কবির আহমদ, কবির আহমদ সোহেল, শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ মিঠু, সিলেট বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল, সাংবাদিক ইয়াহইয়া মারুফ, মুহিবুর রহমান প্রমুখ।

 

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক এমজেএইচ জামিল ও ফটো সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর লিটন। কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন- সালমান আহমদ সোহেল। মোনাজাত পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী।

 

আলোচনাসভায় বক্তারা আরও বলেন, ‘সাংবাদিক এটিএম তুরাবকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হত্যা করা হয়েছে। যে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী নাগরিকদের সুরক্ষা দেবে, সেই পুলিশ পেশাগত দায়িত্বপালনকালে নিরস্ত্র নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যা সুস্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শহিদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকারী ও নির্দেশদাতা সকল পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’

 

আলোচনাসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ এটিএম তুরাবকে গুলি করে হত্যা করে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হত্যা করেছে। পেশাগত দায়িত্বপালনকালে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। নিঃসন্দেহে এটিএম তুরাব শহিদ।’

 

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নুর বলেন, ‘নষ্ট রাজনীতির চোরাগলিতে যেন তুরাব হত্যার বিচার হারিয়ে না যায়। তুরাব হত্যার বিচারে অযথা কালক্ষেপণ মেনে নেওয়া হবে না। বিলম্ব না করে যথাসময়ে বিচার সুনিশ্চত করতে হবে।’

 

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু বলেন, ‘শহিদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার দাবিতে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। এক বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু এখনও বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আগামী এক বছরের মধ্যে যাতে বিচার নিশ্চিত হয়, সেই লক্ষ্যে সাংবাদিক সমাজকে লড়াই করতে হবে।’

 

দৈনিক নয়াদিগন্তের ব্যুরো চিফ আব্দুল কাদের তাপাদার বলেন, ‘গত ১০০ বছরের সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাসে শাহাদাতবরণকারী সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তুরাব হত্যার ৩৬৫ দিন পেরিয়ে গেছে, তদন্ত কার্যক্রম ট্রাইব্যুনালে এগিয়েছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে রায় কার্যকর করতে হবে।’

 

সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, তুরাবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কাজের সাথে বাস্তবতার ফারাক আছে। কথার সাথে যাতে কাজের মিল থাকে, এটা আমরা দেখতে চাই। আমরা আশাবাদী, তুরাব হত্যার বিচার দ্রুত করা হবে।’

 

ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ মিঠু বলেন, ‘আমার সহকর্মী তুরাব হত্যার বিচার চাই। যে পুলিশ আমার সহকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে, বিচার চাওয়ার মাধ্যমেই তা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে, এটা অন্যায়।’

 

সিলেট বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল বলেন, ‘সংবাদকর্মীদের সমাজের কাছে দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে শহিদ তুরাব পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এটিএম তুরাবকে। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের আন্দোলন চলবে।’

 

সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, ‘যারা মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তাদের হাতেই নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তুরাবের শরিরে ৯৮টি স্প্রিন্টার পাওয়া গেছে, এটা টার্গেট কিলিং, এতে কোনো সন্দেহ নাই।’ তিনি বলেন, তুরাব পেশাগত দায়িত্বপালনকালে ১৯ জুলাই মারা গেছে, সে ১৫ জুলাই দৈনিক জালালাবাদে চিনি চোরাচালান নিয়ে একটি লিড নিউজ করেছে। সেই প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তার নাম এসেছে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে। এটাও হয়তো হত্যার একটা কারণ হতে পারে। পুলিশ সুযোগ বুঝে কাজে লাগিয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খালেদ আহমদ, ফারুক আহমদ, আব্দুল হান্নান, ফয়ছল আলম, মইন উদ্দিন মনজু, আনিস রহমান, গোলজার আহমদ, শোয়াইবুল হাসান, সাংবাদিক মো. মুহিবুর রহমান, আতিকুর রহমান নগরী, আশকার আমিন লস্কর ইবনে রাব্বি, এইচএম শহিদুল ইসলাম, আজমল আলী, মাহমুদ হোসেন, শামিম আহমদ, আহবাব মোস্তফা খান প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ