০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরের ৩ চাঁদাবাজের তেলেসমাতি: মামলা প্রত্যাহারে বাদীকে চাপপ্রয়োগ

  • Update Time : ১২:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীপথে চাঁদাবাজির মামলায় নিজেদের আত্মরক্ষা করতে বাদীকে চাপপ্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে সীমান্ত-নদীপথের ৩ চিহ্নিত চাঁদাবাজ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্যাকেরঘাট এলাকায় বাদী ও তার স্বজনদের ডেকে নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে যায় এই চাঁদাবাজচক্র। দিনশেষে চাঁদাবাজদের খপ্পর থেকে রেহাই পেতে কৌশলে সরে যান বাদী ও তার স্বজনরা। মূহুর্তে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তাহিরপুরসহ জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। জানা গেছে, এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ ধারাবাহিক অপকর্ম চলমানকালে মল্লিক মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী গত ২৮ নভেম্বর (সোমবার) সুনামগঞ্জ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মল্লিক মিয়া উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের বাসিন্দা। মামলায় আসামীরা হলেন- উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে সাবজল হোসেন (২৮), তরং গ্রামের শাহ আলমের ছেলে আবু জাহান (২৭), জয়পুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আহমদ কবির (৩৬), তার সহযোগি জয়পুর গ্রামের বাদশা মিয়া (২৬) ও গোলাবাড়ি গ্রামের ডালিম মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে সাবজল, আবুজাহান ও আহমদ কবির নামসর্বস্ব বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারী। উল্লেখ্য, নদীপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ২০১৮ সালে জয়পুর গ্রামের আহমদ কবিরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। শিবরামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান অভিযোগটি দায়ের করেন। পরে বিভিন্ন অপকৌশলে আত্মরক্ষা হয় তার। মামলার বাদী মল্লিক মিয়া আদালতে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামীরা বিভিন্ন জায়গায় সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করে থাকে। সীমান্ত এলাকাতে চাঁদাবাজ হিসেবে তারা চিহ্নিত। শুধু তাই নয়, তারা রাত জেগে পাটলাই নদী দিয়ে কয়লা বহনকারী নৌকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ নভেম্বর শনিবার ভোররাতে পাঠাবুকা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাটলাই নদীতে তার ২০ মেট্রিক টন কয়লা পরিবহনকারি একটি নৌকা আটক করে তাদের নিকট এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের নিকট থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, মালের বৈধ চালান ও কাস্টম চালানের কপি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় এই চাঁদাবাজচক্র। এ প্রসঙ্গে বাদী মল্লিক মিয়া বলেন, উল্লেখিত বিবাদীরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। দ্রæতগতির একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদীপথে চাঁদাবাজি করে আসছে। রাতে না ঘুমিয়ে কয়লা পরিবহনকারী নৌকার সন্ধানে থাকে। যদি তাদের সাথে সমঝোতা না করে নৌকা ছেড়ে দেয় তখন নৌকাকে দ্রæত ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে তাড়া করে আটকিয়ে চাহিত চাঁদা আদায় করে। বাদী মল্লিক মিয়া আরও বলেন, মামলাটি শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে এই চক্র। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্যাকেরঘাট এলাকায় আমাদের ডেকে নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যায়। অবশেষে চাঁদাবাজদের খপ্পর থেকে রেহাই পেতে কৌশলে সরে আসি আমরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

তাহিরপুরের ৩ চাঁদাবাজের তেলেসমাতি: মামলা প্রত্যাহারে বাদীকে চাপপ্রয়োগ

Update Time : ১২:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীপথে চাঁদাবাজির মামলায় নিজেদের আত্মরক্ষা করতে বাদীকে চাপপ্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে সীমান্ত-নদীপথের ৩ চিহ্নিত চাঁদাবাজ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্যাকেরঘাট এলাকায় বাদী ও তার স্বজনদের ডেকে নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে যায় এই চাঁদাবাজচক্র। দিনশেষে চাঁদাবাজদের খপ্পর থেকে রেহাই পেতে কৌশলে সরে যান বাদী ও তার স্বজনরা। মূহুর্তে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তাহিরপুরসহ জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। জানা গেছে, এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ ধারাবাহিক অপকর্ম চলমানকালে মল্লিক মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী গত ২৮ নভেম্বর (সোমবার) সুনামগঞ্জ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মল্লিক মিয়া উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের বাসিন্দা। মামলায় আসামীরা হলেন- উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে সাবজল হোসেন (২৮), তরং গ্রামের শাহ আলমের ছেলে আবু জাহান (২৭), জয়পুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আহমদ কবির (৩৬), তার সহযোগি জয়পুর গ্রামের বাদশা মিয়া (২৬) ও গোলাবাড়ি গ্রামের ডালিম মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে সাবজল, আবুজাহান ও আহমদ কবির নামসর্বস্ব বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারী। উল্লেখ্য, নদীপথে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ২০১৮ সালে জয়পুর গ্রামের আহমদ কবিরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। শিবরামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান অভিযোগটি দায়ের করেন। পরে বিভিন্ন অপকৌশলে আত্মরক্ষা হয় তার। মামলার বাদী মল্লিক মিয়া আদালতে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামীরা বিভিন্ন জায়গায় সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করে থাকে। সীমান্ত এলাকাতে চাঁদাবাজ হিসেবে তারা চিহ্নিত। শুধু তাই নয়, তারা রাত জেগে পাটলাই নদী দিয়ে কয়লা বহনকারী নৌকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ নভেম্বর শনিবার ভোররাতে পাঠাবুকা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাটলাই নদীতে তার ২০ মেট্রিক টন কয়লা পরিবহনকারি একটি নৌকা আটক করে তাদের নিকট এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের নিকট থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, মালের বৈধ চালান ও কাস্টম চালানের কপি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় এই চাঁদাবাজচক্র। এ প্রসঙ্গে বাদী মল্লিক মিয়া বলেন, উল্লেখিত বিবাদীরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। দ্রæতগতির একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদীপথে চাঁদাবাজি করে আসছে। রাতে না ঘুমিয়ে কয়লা পরিবহনকারী নৌকার সন্ধানে থাকে। যদি তাদের সাথে সমঝোতা না করে নৌকা ছেড়ে দেয় তখন নৌকাকে দ্রæত ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে তাড়া করে আটকিয়ে চাহিত চাঁদা আদায় করে। বাদী মল্লিক মিয়া আরও বলেন, মামলাটি শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে এই চক্র। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্যাকেরঘাট এলাকায় আমাদের ডেকে নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যায়। অবশেষে চাঁদাবাজদের খপ্পর থেকে রেহাই পেতে কৌশলে সরে আসি আমরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ