০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে অগ্নিকান্ডের ১৪ বছরেও থামেনি গ্যাসের চাপ, বায়ু দূষণে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ

  • Update Time : ০১:৪৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

হারুন-অর-রশিদ, দোয়ারাবাজার :: দেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্য বাহী গ্যাসফিল্ড টেংরা টিলা। আগুনের ১৪ বছরেও থামেনি গ্যাসের চাপ, বুদবুূদ করে গ্যাস বের হলেও নেই নতুন কোন উদ্যোগ। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারির এই দিনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘ ১৪ বছরে টেংরাটিলা, ভুজনা, কালিকা পুর, আজবপুর, নুরপুর, গ্রামের ক্ষতি গ্রস্ত পরিবারগুলো হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

এই সব এলাকার জনগণ দিনের পর দিন নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ২০০৫ সালে কয়েক দফা আগুনের ফলে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত মাটি ফেটে বুদবুদ করে গ্যাস বের হয়ে পরিবেশ দূষণের সাথে, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগির সংখ্যা। ভারসাম্য হীন পরিবেশ বিপর্যয়।

গ্যাসফিল্ড থেকে কি পরিমাণ গ্যাস প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে তা মাপার জন্য ৫ টি মিটার স্থাপন করেছে বাংলাদেশ দেল উত্তোলন কারী কম্পানি বাপেক্স।

সাধারণ মানুষের ধারণা এভাবে অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে গ্যাসবের হতে থাকলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাথে মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি ও বেড়ে যাবে। ফলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে সুরমা ইউনিয়নবাসী। বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডটি। এখন গ্যাসফিল্ডের যন্ত্রপাতিগুলো মরিচিকা আর বনজঙ্গলের দৃশ্য বিরাজ করছে।

২০০৪ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকার কানাডিয়ান  কোম্পানি নাইকোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করলে তারা মোটা অংকের ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে আগুন লাগিয়ে দেশের বৃহৎ গ্যাসফিল্ডটিকে অকেজো করে ফেলে। এই গ্যাস ফিল্ডটি এক এক সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল যেমন পিপিএল পাকিস্তান পেট্টোলিয়াম লি., বিপিএল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম লি.। পরর্বতীতে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের সাথে যুক্ত হয় বড়বন অক্সটেন তেল কোম্পানি।

টেংরাটিলা আগুন লাগার পর ঐখানে আর কোন কার্যক্রম হয়নি। উপজেলার দুটি স্থানে প্রাকৃতিক সম্পদের দুটি কূপ চালু হলে পাল্টে যাবে দেশ ও এলাকার চিত্র। বর্তমান সরকারের নিকট দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসীর দাবি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পুনঃরায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম চালু করে হাজার বছরের গ্যাসের চাহিদা পূরণও দোয়ারাবাজারকে শিল্পনগরী হিসাবে গড়ে তোলা।

টেংরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বজলুল মামুন বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে আগুনের কারণে এই এলাকার মানুষের অনেক ক্ষতি সাধন হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কাঠাল বাগান, আনারস বাগান, লেচু বাগান, মৎস্য চাষের পুকুর। বোর জমি শুকিয়ে হাজার হাজার একর ফসলী জমি পতিত গ্যাস এলোপাথারীভাবে বের হয়ে পরিবেশ দূষণ ও শ্বাস কষ্ট জনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ মৃত্যুর ঝুকিতে রয়েছে।

টেংরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের আগুনের ১৪ বছর পরও আমরা সবসময় ঝুকির মধ্যে রয়েছি। কোন সময় কি হয় বলা যায় না।

এদিকে বাপেক্সের কর্মকর্তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে অগ্নিকান্ডের ১৪ বছরেও থামেনি গ্যাসের চাপ, বায়ু দূষণে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ

Update Time : ০১:৪৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি ২০২০

হারুন-অর-রশিদ, দোয়ারাবাজার :: দেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্য বাহী গ্যাসফিল্ড টেংরা টিলা। আগুনের ১৪ বছরেও থামেনি গ্যাসের চাপ, বুদবুূদ করে গ্যাস বের হলেও নেই নতুন কোন উদ্যোগ। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারির এই দিনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘ ১৪ বছরে টেংরাটিলা, ভুজনা, কালিকা পুর, আজবপুর, নুরপুর, গ্রামের ক্ষতি গ্রস্ত পরিবারগুলো হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

এই সব এলাকার জনগণ দিনের পর দিন নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ২০০৫ সালে কয়েক দফা আগুনের ফলে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত মাটি ফেটে বুদবুদ করে গ্যাস বের হয়ে পরিবেশ দূষণের সাথে, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগির সংখ্যা। ভারসাম্য হীন পরিবেশ বিপর্যয়।

গ্যাসফিল্ড থেকে কি পরিমাণ গ্যাস প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে তা মাপার জন্য ৫ টি মিটার স্থাপন করেছে বাংলাদেশ দেল উত্তোলন কারী কম্পানি বাপেক্স।

সাধারণ মানুষের ধারণা এভাবে অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে গ্যাসবের হতে থাকলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাথে মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি ও বেড়ে যাবে। ফলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে সুরমা ইউনিয়নবাসী। বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডটি। এখন গ্যাসফিল্ডের যন্ত্রপাতিগুলো মরিচিকা আর বনজঙ্গলের দৃশ্য বিরাজ করছে।

২০০৪ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকার কানাডিয়ান  কোম্পানি নাইকোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করলে তারা মোটা অংকের ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে আগুন লাগিয়ে দেশের বৃহৎ গ্যাসফিল্ডটিকে অকেজো করে ফেলে। এই গ্যাস ফিল্ডটি এক এক সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল যেমন পিপিএল পাকিস্তান পেট্টোলিয়াম লি., বিপিএল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম লি.। পরর্বতীতে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের সাথে যুক্ত হয় বড়বন অক্সটেন তেল কোম্পানি।

টেংরাটিলা আগুন লাগার পর ঐখানে আর কোন কার্যক্রম হয়নি। উপজেলার দুটি স্থানে প্রাকৃতিক সম্পদের দুটি কূপ চালু হলে পাল্টে যাবে দেশ ও এলাকার চিত্র। বর্তমান সরকারের নিকট দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসীর দাবি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পুনঃরায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম চালু করে হাজার বছরের গ্যাসের চাহিদা পূরণও দোয়ারাবাজারকে শিল্পনগরী হিসাবে গড়ে তোলা।

টেংরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বজলুল মামুন বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে আগুনের কারণে এই এলাকার মানুষের অনেক ক্ষতি সাধন হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কাঠাল বাগান, আনারস বাগান, লেচু বাগান, মৎস্য চাষের পুকুর। বোর জমি শুকিয়ে হাজার হাজার একর ফসলী জমি পতিত গ্যাস এলোপাথারীভাবে বের হয়ে পরিবেশ দূষণ ও শ্বাস কষ্ট জনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ মৃত্যুর ঝুকিতে রয়েছে।

টেংরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের আগুনের ১৪ বছর পরও আমরা সবসময় ঝুকির মধ্যে রয়েছি। কোন সময় কি হয় বলা যায় না।

এদিকে বাপেক্সের কর্মকর্তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ