জেনারেল ওসমানীর ১০৩তম জন্মদিন আজ
- Update Time : ০৪:০২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর ১০৩তম জন্মদিন আজ। ওসমানীর জন্ম ১৯১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার (অধুনা ওসমানী নগর উপজেলা) দয়ামীরে। তাঁর পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মাতা জোবেদা খাতুন চৌধুরী। খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ওসমানী। ওসমানীর জন্মের প্রাক্কালে ১৯১৮ সালে খান বাহাদুর মফিজুর রহমান তৎকালীন আসামের সুনামগঞ্জ সদর মহকুমায় সাব-ডিভিশনাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জেনারেল ওসমানী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। পিতার চাকরির সুবাদে তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জায়গায়। ১৯৩৪ সালে তিনি অসাধারণ নম্বর পেয়ে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করে অসাধারণ ফলাফলের জন্য প্রিটোরিয়া পুরস্কার লাভ করেন।তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএ ও বিএ পাস করে এম এ ১ম পর্ব শেষ করেন। ইতোমধ্যে তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে ওসমানী বৃটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি দেরাদুন থেকে সামরিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশন প্রাপ্ত হন।এরপর দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজের সর্বকনিষ্ঠ মেজর হন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ওসমানী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে লং কোর্স পরীক্ষা দিয়ে উচ্চস্থান লাভ করেন। দেশবিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এসময় তাঁর পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কর্নেল পদমর্যাদা লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেন। পাক-ভারত যুদ্ধ যখন শেষ হয়, তখন তার বয়স চল্লিশের উপরে। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে চির কুমার এম এ জি ওসামানী রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ থানার সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তানের বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা থেকে তাঁর নিকট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জাতীয় পরিষদে জয়লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকার এমএজি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে প্রথমেই তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নেন। বিচক্ষণতার সঙ্গে সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানী অনুপস্থিত ছিলেন।আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানী উপস্থিত না থাকার কারণ ছিল আর্মি প্রটোকল। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ব ফ্রন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সৈন্যবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজী। এরা দু’জনেই ছিলেন আঞ্চলিক প্রধান। ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। তাই, সেনাবাহিনীর প্রটোকল রক্ষার্থে কোনো সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক প্রধানের সঙ্গে তিনি কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন না। ওসমানী নিজেই এ বিতর্কের জবাব দিয়ে গেছেন।১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করা হয়। তিনিই দেশের প্রথম সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল তিনি দায়িত্ব থেকে অবসর নেন। মন্ত্রিসভায় অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭৩ সালের মার্চে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে তিনি নিজের এলাকা থেকে নির্বাচনে অংশ নেন এবং অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেন। তিনি ডাক, তার, টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।১৯৭৪ সালের মে মাসে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হলে তিনি সংসদ সদস্যপদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। সে বছর ২৯ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান তিনি, তবে ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ঘটনার পর পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন ওসমানী। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এম এ জি ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়।
তাঁর সম্মানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ, ওসমানী বিমানবন্দর ও নগরীর ধোপাদিঘীর পাড় এলাকায় ওসমানী শিশু পার্ক ও ওসমানী জাদুঘর রয়েছে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালনের লক্ষে, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ বুধবার, সকাল সাড়ে ১০ টায় মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।বাদ জোহর ওসমানী যাদুঘরে খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিল শেষে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অনুরাগী, রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতা কর্মীদের, সদয় উপস্থিতি কামনা করেছেন সংসদের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জুয়েল আহমদ।




























