১১:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জীবনে সফলতা আসে যে দুই গুণে

  • Update Time : ০২:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মুহা. সাদেকুর রহমান

 

পরকালের জীবন চিরস্থায়ী। পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। পরকাল ভোগ ও শান্তি লাভের স্থান । দুনিয়া কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার ক্ষেত্র।  শত কষ্ট  ও ধৈর্য অবলম্বনের জায়গা। কারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চাহিদা অসীম। তা মেটানোর ব্যবস্থাপনা এ জগতে সসীম।

তাই যারাই পাহাড়সম দৃঢ়তা অবলম্বন করে,আঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজের জীবনকে পরিচালিত করে, মহান প্রভুর দেওয়া নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সফলতা তাদেরই পদচুম্বন করে। তারাই ইহকাল ও পরকালের  চির সুখ-শান্তি লাভ করে।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা ধন ও জনের ক্ষতি, ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।(সূরা বাকারা ১৫৫)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা)ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি চারটি গুণের অধিকারী  হবে সে ইহকাল ও পরকালের সকল কল্যাণ লাভ করবে (১) শুকরগুযার অন্তর (২) জিকিরকারী জিহবা (৩) কষ্ট সহিষ্ণু শরীর এবং (৪) এমন জীবন সঙ্গী যে নিজের ইজ্জত-আব্রু এবং স্বামীর সম্পদ হেফাজত করে।  (আল মুজামুল আওসাত, তাবারানী হাদিস নং ৭২১২)

 

সবরের শাখা:

কুরআন ও হাদিসের পরিভাষায় সবরের তিনটি শাখা রয়েছে (এক) নফসকে হারাম এবং নাজায়েয বিষয়াদি থেকে বিরত রাখা (দুই) ইবাদত ও আনুগত্যে বাধ্য করা এবং(তিন) যেকোন বিপদ ও সংকটে ধৈর্য ধারণ করা অর্থাৎ যেসব বিপদ-আপদ এসে উপস্থিত হয় সেগুলোকে আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া এবং এর বিনিময়ে আল্লাহর তরফ থেকে প্রতিদান প্রাপ্তির আশা রাখা।

 

অবশ্য কষ্টে পড়ে কারো মুখ থেকে কোন কাতর শব্দ উচ্চারিত হয়ে গেলে কিংবা অন্যের কাছে তা প্রকাশ করলে তা ‘সবর’ পরিপন্থী হবে না।

সবরের উপরোক্ত তিনটি শাখাই পালনীয়। অনেকে শুধু তৃতীয় প্রকারকেই  সবর মনে করে। প্রথম দুইটিকে সবর গণ্য করে না। অথচ এক্ষেত্রে প্রথম দুটি শাখাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। (ইবনে কাসীর ১/৪২১)

 

সবর ও শোকর অর্জনের উপায়:

সবর ও শোকর অর্জনের এক অনন্য উপায়  হলো, দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে উপরস্ত ব্যক্তির দিকে তাকানো। আর জাগতিক বিষয়ে নিম্নস্তরের লোকদের দিকে তাকানো। এতে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে আরো অগ্রসর হতে পারবে। আর জাগতিক বিষয়ে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি তার দিলে কৃতজ্ঞতা বোধ জাগ্রত হবে।

 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত,, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি- দুটি গুণ  যার মধ্যে পাওয়া যায় আল্লাহ তাআলা তাকে শুকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বানান। আর যার মধ্যে থাকে না তাকে তিনি শুকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বানান না।

গুন দুটি  হলো, (এক) যে দ্বীনের ব্যাপারে নিজের চেয়ে অধিক দ্বীনদার ব্যক্তির দিকে তাকায় এবং(ওই গুণগুলো অর্জনের জন্য) তার অনুসরণ করে। আর জাগতিক বিষয়ে  নিজের চেয়ে নিম্নস্তর ব্যক্তির দিকে লক্ষ করে আর আল্লাহর প্রশংসা করে ওই ব্যক্তির চেয়ে নিজেকে মর্যাদাশীল করার কারণে, আল্লাহ তাআলা তাকে শোকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বানান।

 

(দুই) পক্ষান্তরে যে দ্বীনের ব্যাপারে নিজের চেয়ে নিচু স্তরের লোকের দিকে তাকায় আর জাগতিক ব্যাপারে  উপরের স্তরের দিকে তাকায় ফলে পার্থিব সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় সে আফসোস করে ,আল্লাহ তা’আলা তাকে শোকরগুযার ও ধৈর্যশীল হিসেবে বানান না।  (সুনানে তিরমিযি-হাদিস নং ২৫১২)

 

সবরের দোয়া:

বিপদ আক্রান্ত হয়ে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়লে আল্লাহ তা’আলা তাকে উত্তম প্রতিদান দেন এবং  হাতছাড়া নেয়ামতের উত্তম বিকল্প দান করেন।

انا لله وانا اليه راجعون اللهم أجرني في مصيبتي واخلف لي خيرا منها (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন আল্লাহুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লি খাইরান মিনহা)

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে শুকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

 

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস, শেখ জনূরুদ্দীন (র.) দারুল কুরআন মাদ্রাসা, চৌধুরীপাড়া ঢাকা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জীবনে সফলতা আসে যে দুই গুণে

Update Time : ০২:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২২

মুহা. সাদেকুর রহমান

 

পরকালের জীবন চিরস্থায়ী। পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। পরকাল ভোগ ও শান্তি লাভের স্থান । দুনিয়া কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার ক্ষেত্র।  শত কষ্ট  ও ধৈর্য অবলম্বনের জায়গা। কারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চাহিদা অসীম। তা মেটানোর ব্যবস্থাপনা এ জগতে সসীম।

তাই যারাই পাহাড়সম দৃঢ়তা অবলম্বন করে,আঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজের জীবনকে পরিচালিত করে, মহান প্রভুর দেওয়া নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সফলতা তাদেরই পদচুম্বন করে। তারাই ইহকাল ও পরকালের  চির সুখ-শান্তি লাভ করে।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা ধন ও জনের ক্ষতি, ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।(সূরা বাকারা ১৫৫)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা)ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি চারটি গুণের অধিকারী  হবে সে ইহকাল ও পরকালের সকল কল্যাণ লাভ করবে (১) শুকরগুযার অন্তর (২) জিকিরকারী জিহবা (৩) কষ্ট সহিষ্ণু শরীর এবং (৪) এমন জীবন সঙ্গী যে নিজের ইজ্জত-আব্রু এবং স্বামীর সম্পদ হেফাজত করে।  (আল মুজামুল আওসাত, তাবারানী হাদিস নং ৭২১২)

 

সবরের শাখা:

কুরআন ও হাদিসের পরিভাষায় সবরের তিনটি শাখা রয়েছে (এক) নফসকে হারাম এবং নাজায়েয বিষয়াদি থেকে বিরত রাখা (দুই) ইবাদত ও আনুগত্যে বাধ্য করা এবং(তিন) যেকোন বিপদ ও সংকটে ধৈর্য ধারণ করা অর্থাৎ যেসব বিপদ-আপদ এসে উপস্থিত হয় সেগুলোকে আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া এবং এর বিনিময়ে আল্লাহর তরফ থেকে প্রতিদান প্রাপ্তির আশা রাখা।

 

অবশ্য কষ্টে পড়ে কারো মুখ থেকে কোন কাতর শব্দ উচ্চারিত হয়ে গেলে কিংবা অন্যের কাছে তা প্রকাশ করলে তা ‘সবর’ পরিপন্থী হবে না।

সবরের উপরোক্ত তিনটি শাখাই পালনীয়। অনেকে শুধু তৃতীয় প্রকারকেই  সবর মনে করে। প্রথম দুইটিকে সবর গণ্য করে না। অথচ এক্ষেত্রে প্রথম দুটি শাখাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। (ইবনে কাসীর ১/৪২১)

 

সবর ও শোকর অর্জনের উপায়:

সবর ও শোকর অর্জনের এক অনন্য উপায়  হলো, দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে উপরস্ত ব্যক্তির দিকে তাকানো। আর জাগতিক বিষয়ে নিম্নস্তরের লোকদের দিকে তাকানো। এতে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে আরো অগ্রসর হতে পারবে। আর জাগতিক বিষয়ে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি তার দিলে কৃতজ্ঞতা বোধ জাগ্রত হবে।

 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত,, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি- দুটি গুণ  যার মধ্যে পাওয়া যায় আল্লাহ তাআলা তাকে শুকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বানান। আর যার মধ্যে থাকে না তাকে তিনি শুকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বানান না।

গুন দুটি  হলো, (এক) যে দ্বীনের ব্যাপারে নিজের চেয়ে অধিক দ্বীনদার ব্যক্তির দিকে তাকায় এবং(ওই গুণগুলো অর্জনের জন্য) তার অনুসরণ করে। আর জাগতিক বিষয়ে  নিজের চেয়ে নিম্নস্তর ব্যক্তির দিকে লক্ষ করে আর আল্লাহর প্রশংসা করে ওই ব্যক্তির চেয়ে নিজেকে মর্যাদাশীল করার কারণে, আল্লাহ তাআলা তাকে শোকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বানান।

 

(দুই) পক্ষান্তরে যে দ্বীনের ব্যাপারে নিজের চেয়ে নিচু স্তরের লোকের দিকে তাকায় আর জাগতিক ব্যাপারে  উপরের স্তরের দিকে তাকায় ফলে পার্থিব সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় সে আফসোস করে ,আল্লাহ তা’আলা তাকে শোকরগুযার ও ধৈর্যশীল হিসেবে বানান না।  (সুনানে তিরমিযি-হাদিস নং ২৫১২)

 

সবরের দোয়া:

বিপদ আক্রান্ত হয়ে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়লে আল্লাহ তা’আলা তাকে উত্তম প্রতিদান দেন এবং  হাতছাড়া নেয়ামতের উত্তম বিকল্প দান করেন।

انا لله وانا اليه راجعون اللهم أجرني في مصيبتي واخلف لي خيرا منها (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন আল্লাহুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লি খাইরান মিনহা)

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে শুকরগুযার এবং ধৈর্যশীল বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

 

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস, শেখ জনূরুদ্দীন (র.) দারুল কুরআন মাদ্রাসা, চৌধুরীপাড়া ঢাকা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ