০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোট ইমেজ সংকট তৈরি করবে: মাওলানা মামুনুল হক

  • Update Time : ০৪:২৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ আগস্ট ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

একটি সাক্ষাৎকার: পুঞ্জিভূত অনেক প্রশ্নের সমাধান।

 

জাতীয় পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোট ইমেজ সংকট তৈরি করবে: মাওলানা মামুনুল হক।

 

 

এ ধরনের চুক্তি জাতীয় পার্টির সঙ্গে করার কোনো ভবিষ্যত আছে বলে আমরা মনে করি না। এটা অর্থবহ কোনো চুক্তি মনে হয় না। এরশাদের পক্ষে এর চেয়েও কঠিন শর্ত গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই। আমার বরং মনে হয়, তার সঙ্গে চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইমেজ সংকট তৈরি হবে। কারণ এরশাদের রাজনৈতিক শঠতা, জাতীয় পার্টির দেউলিয়াত্ব এবং জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্যতা ইত্যাদি। জাতীয় পার্টি মজলিসের হয়ে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দাবি আদায় করে দেবে সে আশা করা ঠিক হবে না।

 

আমিও মনে করি, একটি ধর্মনিরপেক্ষ ফ্যাসিবাদী দলের সঙ্গে আপোষ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জন্য ক্ষতিকরই হবে। দল আস্থার সংকটে পড়বে। সাধারণ মানুষ ও ইসলামপ্রিয় মানুষ উভয়-ই আস্থা হারাবে দলের ওপর।

 

এ জোটের বিকল্প হিসেবে ইসলামি দলগুলো নিয়ে জোট করা যেতো। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ জোট ও কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারতো বলে আমার মনে হয় না।

 

সবচেয়ে ভালো হতো দল যদি নিজের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী ও দৃঢ় করার প্রতি মনোযোগী হতো। কারণ, নিজের শক্তিশালী অবস্থান ব্যতীত জোট করে ইসলামি দলগুলো অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

সুষ্ঠু নির্বাচন ও তার জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা ব্যতীত সরকারের অংশ একটি দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা আমার কাছে শক্তিশালী রাজনৈতিক চিন্তা বলে মনে হয় না। অন্তত একটি আদর্শিক সংগঠনের জন্য নয়। এতে মানুষ আপোষকামিতার ছায়া দেখতে পারে। অসম্ভব কিছু না। কারণ, মানুষ জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাহন মনে করে।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এখন সাংগঠনিক অবস্থা যা এবং সারা দেশে সংগঠনের যে বিস্তৃতি তাতে দলের হারানোর বা পাওয়ার খুব বেশি কিছু নেই। শায়খুল হাদিসের ব্যক্তিগত ইমেজ ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই নিষ্ক্রীয়।

 

দলীয় ফোরামের যেখানে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের সুযোগ আছে সেখানে আমি তা প্রকাশ করেছি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হয়। নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্ত যথা নিয়মে হয়েছে। আমিও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমার মতামত প্রকাশ করেছি এবং সুযোগও পেয়েছি।

 

দলীয় আনুগত্যের বাইরে যাওয়ার খুব বেশি সুযোগ নেই। সত্য বলতে, আমি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে সক্রীয় নই। আমি বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের দায়িত্ব পালন করি। তার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্ব পালন করছি।

 

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহযোগী সংগঠন। যুব মজলিস মূল দলের দেশ ও নিরেট ইসলামি আন্দোলনের কার্যক্রমে সহায়তা করে। কিন্তু চলমান জোটভূক্তির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে না।

 

নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি এখানে দলীয় প্রয়োজনকেই বড় করে দেখা হয়। এখানে আগামী দিনের দেশ ও ইসলামের চিন্তাটাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় থাকে না।

 

আমি বর্তমান দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বিরোধের জায়গায় যেতে চাই না, দলকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে চাই না। এজন্য যেখানে সহযোগিতা করা যায় সেখানে সহযোগিতা করি আর যেখানে সহযোগিতা করা যায় না ভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে কাজ করি।

 

শায়খুল হাদিস রহ. এর ইন্তেকালের পর আমি দল ও দলীয় কর্মীদের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যেমন, লেখালেখি ও কর্মশালা করা। দলীয় ‘পুরো কাঠামো’ বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে নি। মূলত এজন্য যুব মজলিসের জন্ম।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য পরামর্শ হলো: সংগঠনকে শক্তিশালী করা, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত জনশক্তি ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার পূর্বে রাজনীতিতে অতি মাত্রায় জড়িয়ে পড়া দলের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়।

 

বিশেষত রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার পর আমার পরামর্শ থাকবে রাজনৈতিক দেন-দরবারগুলো খুব ভালোভাবে করা, যারা দেন-দরবার তাদের শক্তভাবে দলীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। নতুবা অতীতের মতো দল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জাতীয় পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোট ইমেজ সংকট তৈরি করবে: মাওলানা মামুনুল হক

Update Time : ০৪:২৯:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ আগস্ট ২০১৮

একটি সাক্ষাৎকার: পুঞ্জিভূত অনেক প্রশ্নের সমাধান।

 

জাতীয় পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোট ইমেজ সংকট তৈরি করবে: মাওলানা মামুনুল হক।

 

 

এ ধরনের চুক্তি জাতীয় পার্টির সঙ্গে করার কোনো ভবিষ্যত আছে বলে আমরা মনে করি না। এটা অর্থবহ কোনো চুক্তি মনে হয় না। এরশাদের পক্ষে এর চেয়েও কঠিন শর্ত গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই। আমার বরং মনে হয়, তার সঙ্গে চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইমেজ সংকট তৈরি হবে। কারণ এরশাদের রাজনৈতিক শঠতা, জাতীয় পার্টির দেউলিয়াত্ব এবং জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্যতা ইত্যাদি। জাতীয় পার্টি মজলিসের হয়ে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দাবি আদায় করে দেবে সে আশা করা ঠিক হবে না।

 

আমিও মনে করি, একটি ধর্মনিরপেক্ষ ফ্যাসিবাদী দলের সঙ্গে আপোষ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জন্য ক্ষতিকরই হবে। দল আস্থার সংকটে পড়বে। সাধারণ মানুষ ও ইসলামপ্রিয় মানুষ উভয়-ই আস্থা হারাবে দলের ওপর।

 

এ জোটের বিকল্প হিসেবে ইসলামি দলগুলো নিয়ে জোট করা যেতো। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ জোট ও কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারতো বলে আমার মনে হয় না।

 

সবচেয়ে ভালো হতো দল যদি নিজের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী ও দৃঢ় করার প্রতি মনোযোগী হতো। কারণ, নিজের শক্তিশালী অবস্থান ব্যতীত জোট করে ইসলামি দলগুলো অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

সুষ্ঠু নির্বাচন ও তার জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা ব্যতীত সরকারের অংশ একটি দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা আমার কাছে শক্তিশালী রাজনৈতিক চিন্তা বলে মনে হয় না। অন্তত একটি আদর্শিক সংগঠনের জন্য নয়। এতে মানুষ আপোষকামিতার ছায়া দেখতে পারে। অসম্ভব কিছু না। কারণ, মানুষ জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাহন মনে করে।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এখন সাংগঠনিক অবস্থা যা এবং সারা দেশে সংগঠনের যে বিস্তৃতি তাতে দলের হারানোর বা পাওয়ার খুব বেশি কিছু নেই। শায়খুল হাদিসের ব্যক্তিগত ইমেজ ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই নিষ্ক্রীয়।

 

দলীয় ফোরামের যেখানে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের সুযোগ আছে সেখানে আমি তা প্রকাশ করেছি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত মত ভিন্ন হয়। নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্ত যথা নিয়মে হয়েছে। আমিও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমার মতামত প্রকাশ করেছি এবং সুযোগও পেয়েছি।

 

দলীয় আনুগত্যের বাইরে যাওয়ার খুব বেশি সুযোগ নেই। সত্য বলতে, আমি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে সক্রীয় নই। আমি বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের দায়িত্ব পালন করি। তার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্ব পালন করছি।

 

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহযোগী সংগঠন। যুব মজলিস মূল দলের দেশ ও নিরেট ইসলামি আন্দোলনের কার্যক্রমে সহায়তা করে। কিন্তু চলমান জোটভূক্তির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে না।

 

নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি এখানে দলীয় প্রয়োজনকেই বড় করে দেখা হয়। এখানে আগামী দিনের দেশ ও ইসলামের চিন্তাটাই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় থাকে না।

 

আমি বর্তমান দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বিরোধের জায়গায় যেতে চাই না, দলকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে চাই না। এজন্য যেখানে সহযোগিতা করা যায় সেখানে সহযোগিতা করি আর যেখানে সহযোগিতা করা যায় না ভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে কাজ করি।

 

শায়খুল হাদিস রহ. এর ইন্তেকালের পর আমি দল ও দলীয় কর্মীদের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যেমন, লেখালেখি ও কর্মশালা করা। দলীয় ‘পুরো কাঠামো’ বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে নি। মূলত এজন্য যুব মজলিসের জন্ম।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য পরামর্শ হলো: সংগঠনকে শক্তিশালী করা, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত জনশক্তি ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার পূর্বে রাজনীতিতে অতি মাত্রায় জড়িয়ে পড়া দলের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়।

 

বিশেষত রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার পর আমার পরামর্শ থাকবে রাজনৈতিক দেন-দরবারগুলো খুব ভালোভাবে করা, যারা দেন-দরবার তাদের শক্তভাবে দলীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। নতুবা অতীতের মতো দল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ