সামাজিক যোগাযোগ অনলাইন ফেবুর জনপ্রিয় পরিচিত মুখ সাংবাদিক ও কলামিস্ট ইকবাল হাসান জাহিদ তাহার ফেবুতে জমিয়ত নিয়ে জরুরি কিছু কথা ও আকুল আবেদন…। জগন্নাথপুর পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
একটা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির স্বাক্ষর সম্বলিত পরস্পর বিরোধী দুইটা নোটিশ দেখে ভড়কে গেলাম। খুলিসিয়তের অভাব আর নেতৃত্বের খাহেশ এতই করুন আকার ধারন করেছে যে, লোকে বুঝতে শুরু করেছে অথবা এর দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে এই দলের কেন্দ্রে প্রমাণসাইজের ফিতনা সৃষ্টিকারী কিছু অরাজনীতিক ও অসাধু ব্যক্তি হাটু গেড়ে কামড় মেরে বসে আছেন।
আমি বুঝি না। এতো বৃহৎ একটা দলে ইসলামী রাজনীতির আধ্যাত্মিক রাজধানির মতো এতো বৃহৎ ও উর্বর অঞ্চল সিলেটে ধারাবাহিক চলে আসা দ্বন্দ্ব সংঘাতের নিরসনে এখন পর্যন্ত দলের কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরী মিটিংয়ে বসতে পারে না? বা বসার জরুরত মনে করে না?
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দায়িত্বশীল ও সদস্যদের অজ্ঞাতসারে শুধুমাত্র সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের মিটিং বিহীন স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রে একটা মহানগর কমিটির বিলুপ্তি! আবার তিন দিনের মাথায় কোনো কারণ দর্শানো ছাড়া শুধুমাত্র সভাপতির স্বাক্ষরে এই বিলুপ্তির স্থগিতাদেশ রাজনৈতিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী কি না আমার জানা নেই।
সাবেক মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাবেক এমপি হয়ে প্রাক্তন ভিন্ন ভিন্ন মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ও হাইব্রীড নেতৃবৃন্দের অভাব নেই এই সংগঠনে। জানামতে বিভিন্ন জেলার বড় বড় মুহতামিম নাজিম ও সম্মানিত মুহাদ্দিসেরও অভাব নেই এই আকাবিরদের দলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডিগ্রী নিয়ে কেউ কেউ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাসীন আছেন।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ওলামা মাশায়েখের দল, আকাবীর ও আসলাফের চিন্তার ফসল, এই দলে খতীবে বাঙাল থেকে শুরু করে মুজাদ্দিদে জামান, মুফাক্কিরে ইসলাম, উস্তাযুল মুহাদ্দিসিন পর্যন্ত এই সংগঠনে বিরাজমান।
কিন্তু দল যখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, দলের উশৃংখল ও লাগামহীন কর্মীরা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পরে বিষোদগার ছড়াচ্ছে, নিজেদের দুর্গন্ধে বিষিয়ে তুলছে পুরো ভার্চ্যুয়াল জগত, তখন কেউ গাঙপারে কেউ সংসদের দ্বারে বসে ইশারা ইঙ্গিতে সমাধানের পথ খোঁজছেন।
কিন্তু কেনো? আমরা ওলামায়ে কেরামের এই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি কামনা করছি। একটা মহানগর কমিটি দলের জন্য কিছুই না। কিন্তু সিলেট মহানগর শাখা জমিয়তের জন্য অনেকটা রাজধানীর সমমান। তাছাড়া পরস্পর বিরোধী এই কামড়াকামড়ি, গ্রুপিং লবিং আর পাগলা ঘোড়ার মতো বল্গাহীন কর্মীদের ফেসবুকের উলঙ্গ নৃত্য অতি দ্রুত বন্ধ না করলে দলের ভাবমূর্তি তো ক্ষুণ্ণ হবেই, পাশাপাশি এই দ্বন্দ্বের কারণে বাংলদেশে ইসলামি রাজনীতির কবর রচিত হবে।
দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হফিজ মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জি হুজুর, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মাওলানা জিয়া উদ্দিন, মাওলানা Junaid Al Habib, মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরি, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা Shahinoor Pasha Chowdhury, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা Bahauddin Zakaria, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা Wali Ullah Arman, মাওলানা Jainul Abedin, মাওলানা Abdul Malik Chowdhury সহ সকলের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা দ্বীনের স্বার্থে একটা ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নির্ঘাত ক্ষতির ও ভাঙনের মুখ থেকে রক্ষা করুন। আর মানুষ হাসাইয়েন না। আপনাদের লাগামহীন কর্মীদের লাগাম টেনে ধরে ঘোষণা করুন, ফেসবুকে যেনো এই দল ও দলের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আর কোনো মন্তব্য বক্তব্য না আসে।
আল্লাহকে ওয়াস্তে আপনারাও মানুষের তির্যক থেকে বাঁচুন। আমাদেরকেও লজ্জা থেকে মুক্তি দিন।





























