১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে ১০ কারণে জমিয়ত প্রার্থীর খেজুর গাছ পরাজিত- শাহীনুর পাশা চৌধুরী

  • Update Time : ০৩:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী।

 

 

জমিয়তে উলামায়ে  ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী তিনি নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পরাজযের ১০ কারণ উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা জগন্নাথপুর পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
নির্বাচন জগন্নাথপুর নিয়ে কিছু কথা।
জমিয়ত প্রার্থীর পরাজিত হবার নেপথ্যে।
৫৪৯৩ ভোট বেশী পেলেই আমরা বিজয়ী হতে পারতাম। আর তা অসম্ভব কিছু ছিলোনা। ৮৭ টি সেন্টারে আনুমানিক ৬৩ টি করে ভোট বেশী পড়লে বিরোধীদের মুখে চুনকালী দেয়া সম্ভব ছিলো।

 

 

মাত্র ১৭/১৮ দিনের নির্বাচনী কেম্পেইনে নেতা কর্মীদের Understanding কম ছিলো।
২. হঠাত করে নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণায় আর্থিক প্রস্তুতি ছিলোনা। যে কারণে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪ শত ৯৯ জন ভোটার অধ্যুষিত একটি এলাকায় অর্থ সংকট আমাদেরে চাপে রেখেছিল।
৩. হিন্দু প্রার্থী ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় এখানেও প্রভাব পড়েছে— কারণ ২১ হাজারের মতো হিন্দু ভোট রয়েছে জগন্নাথপুরে।
৪. কওমী মাদরাসাগুলোর ষান্মাসিক পরীক্ষা পরবর্তি ছুটি থাকায়।
৫. অতি সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী ছাতক পৌরশহরে কওমী ও ফুলতলী পন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন নিহত ও পরস্পর কাদা ছুড়াছুড়ির কারণে এর Side effect হয়েছে। কারণ জগন্নাথপুরে ফুলতলী রহ. এর অনুসারী বেশী।
৬. ভোট কাস্ট কম হয়েছে। মাত্র ৪৩%.
৭. জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ পরবর্তি এই আসনে শাহীনূর পাশা র জনপ্রিয়তা এক শ্রেণীর হিংসুটে রাজনীতিবিদদের জন্য অন্তর্জ্বালার কারণ হয়েছে। তারা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে যতটুকু সময় দিয়েছে — তার চেয়ে বেশী সময় ব্যয় করেছে খেজুর গাছের বিরোধিতায়।
অপরিণামদর্শী সেই শ্রেণী নিজেদের অস্থিত্ব বিসর্জন দিয়ে হিন্দু প্রার্থীকে ভোট দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি।
৮. খেজুর গাছ প্রতীক একেবারে নীচে থাকায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৬ হাজার ভোট বাতিল হয়েছে।
৯. চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানে খেজুর গাছের প্রার্থী না থাকায় অন্যান্য দুটি প্রতীকে ৩ টিই প্রতীক থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার বিব্রতবোধ করেছে।
১০. ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুরের ছালিম কাসিমীর আদর্শ এই পরিবারটি আরো এডবান্স হোক। এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। তাও ছোট্ট একটি কারণ।

 

 

আপনাদের কাছে অন্য কারণও থাকতে পারে। আমাদের পর্যালোচনা মিটিং এর পর সঠিক বিষয় নির্ধারণ করা যাবে।
বি. দ্র.
বেশী কষ্ট পেয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
কাউকে কষ্ট দেয়া উদ্দেশ্য নয়। এরপরেও কষ্টের কোন কারণ হলে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিলাম।
২.আমার ধারণা শতভাগ সত্য। এটা বলছিনা।
আপনাদের মতামতও মেনে নেয়ার মন মানসিকতা পোষণ করি।।

 

ওয়াস্সালাম।”

 

——————————————————————————

 

খেজুর গাছের প্রার্থীর সমর্থনে শাহীনুর পাশা চৌধুরীর নেতৃত্বে খেলাফত মজলিস থানা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দরা ভোট চেয়ে গনসংযোগ করেছেন।

 

তাহলে জমিয়ত প্রার্থী খেজুর গাছ প্রতীকে যে ভোট পেয়েছেন তা জমিয়তের একা নয়, ঐই ভোট জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য দলের।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম রিক্সসা প্রতীকে মনোনয়ন পত্র জমা দিলে গ্রামের অালেম সমাজের অনুরুধে তিনি বিহত্তের সার্থে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।


 

নির্বাচনে ৫৪৯২ ভোট কম পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ নাম্বার স্থান পেলেন সৈয়দ সালিম কাসিমী। তার ভোট সংখ্যা ১৪ ৭৫০.
বিজয়ী হলেন আওয়ামিলীগের বিজন কুমার দেব।
প্রাপ্ত ভোট ২০ ২৪২.
প্রার্থী ছিলেন মোট ৫ জন।

 

জোটের প্রার্থী দু’ জন থাকায় যা হবার তাই হলো।
বিএনপির প্রার্থীর ভোট ১৫৩৩৯ আর জমিয়ত এর ১৪৭৫০. অর্থাৎ ৫৮৯ ভোট কম পেয়ে ৩য় স্থান।
অপরদিকে দু’ জনের ভোট একত্রিত করলে ৩০০৮৯।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে ১০ কারণে জমিয়ত প্রার্থীর খেজুর গাছ পরাজিত- শাহীনুর পাশা চৌধুরী

Update Time : ০৩:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০১৭

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী।

 

 

জমিয়তে উলামায়ে  ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী তিনি নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পরাজযের ১০ কারণ উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা জগন্নাথপুর পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
নির্বাচন জগন্নাথপুর নিয়ে কিছু কথা।
জমিয়ত প্রার্থীর পরাজিত হবার নেপথ্যে।
৫৪৯৩ ভোট বেশী পেলেই আমরা বিজয়ী হতে পারতাম। আর তা অসম্ভব কিছু ছিলোনা। ৮৭ টি সেন্টারে আনুমানিক ৬৩ টি করে ভোট বেশী পড়লে বিরোধীদের মুখে চুনকালী দেয়া সম্ভব ছিলো।

 

 

মাত্র ১৭/১৮ দিনের নির্বাচনী কেম্পেইনে নেতা কর্মীদের Understanding কম ছিলো।
২. হঠাত করে নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণায় আর্থিক প্রস্তুতি ছিলোনা। যে কারণে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪ শত ৯৯ জন ভোটার অধ্যুষিত একটি এলাকায় অর্থ সংকট আমাদেরে চাপে রেখেছিল।
৩. হিন্দু প্রার্থী ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় এখানেও প্রভাব পড়েছে— কারণ ২১ হাজারের মতো হিন্দু ভোট রয়েছে জগন্নাথপুরে।
৪. কওমী মাদরাসাগুলোর ষান্মাসিক পরীক্ষা পরবর্তি ছুটি থাকায়।
৫. অতি সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী ছাতক পৌরশহরে কওমী ও ফুলতলী পন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’জন নিহত ও পরস্পর কাদা ছুড়াছুড়ির কারণে এর Side effect হয়েছে। কারণ জগন্নাথপুরে ফুলতলী রহ. এর অনুসারী বেশী।
৬. ভোট কাস্ট কম হয়েছে। মাত্র ৪৩%.
৭. জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ পরবর্তি এই আসনে শাহীনূর পাশা র জনপ্রিয়তা এক শ্রেণীর হিংসুটে রাজনীতিবিদদের জন্য অন্তর্জ্বালার কারণ হয়েছে। তারা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে যতটুকু সময় দিয়েছে — তার চেয়ে বেশী সময় ব্যয় করেছে খেজুর গাছের বিরোধিতায়।
অপরিণামদর্শী সেই শ্রেণী নিজেদের অস্থিত্ব বিসর্জন দিয়ে হিন্দু প্রার্থীকে ভোট দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি।
৮. খেজুর গাছ প্রতীক একেবারে নীচে থাকায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৬ হাজার ভোট বাতিল হয়েছে।
৯. চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানে খেজুর গাছের প্রার্থী না থাকায় অন্যান্য দুটি প্রতীকে ৩ টিই প্রতীক থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার বিব্রতবোধ করেছে।
১০. ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুরের ছালিম কাসিমীর আদর্শ এই পরিবারটি আরো এডবান্স হোক। এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। তাও ছোট্ট একটি কারণ।

 

 

আপনাদের কাছে অন্য কারণও থাকতে পারে। আমাদের পর্যালোচনা মিটিং এর পর সঠিক বিষয় নির্ধারণ করা যাবে।
বি. দ্র.
বেশী কষ্ট পেয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
কাউকে কষ্ট দেয়া উদ্দেশ্য নয়। এরপরেও কষ্টের কোন কারণ হলে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিলাম।
২.আমার ধারণা শতভাগ সত্য। এটা বলছিনা।
আপনাদের মতামতও মেনে নেয়ার মন মানসিকতা পোষণ করি।।

 

ওয়াস্সালাম।”

 

——————————————————————————

 

খেজুর গাছের প্রার্থীর সমর্থনে শাহীনুর পাশা চৌধুরীর নেতৃত্বে খেলাফত মজলিস থানা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দরা ভোট চেয়ে গনসংযোগ করেছেন।

 

তাহলে জমিয়ত প্রার্থী খেজুর গাছ প্রতীকে যে ভোট পেয়েছেন তা জমিয়তের একা নয়, ঐই ভোট জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য দলের।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম রিক্সসা প্রতীকে মনোনয়ন পত্র জমা দিলে গ্রামের অালেম সমাজের অনুরুধে তিনি বিহত্তের সার্থে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।


 

নির্বাচনে ৫৪৯২ ভোট কম পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ নাম্বার স্থান পেলেন সৈয়দ সালিম কাসিমী। তার ভোট সংখ্যা ১৪ ৭৫০.
বিজয়ী হলেন আওয়ামিলীগের বিজন কুমার দেব।
প্রাপ্ত ভোট ২০ ২৪২.
প্রার্থী ছিলেন মোট ৫ জন।

 

জোটের প্রার্থী দু’ জন থাকায় যা হবার তাই হলো।
বিএনপির প্রার্থীর ভোট ১৫৩৩৯ আর জমিয়ত এর ১৪৭৫০. অর্থাৎ ৫৮৯ ভোট কম পেয়ে ৩য় স্থান।
অপরদিকে দু’ জনের ভোট একত্রিত করলে ৩০০৮৯।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ