০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত

  • Update Time : ০১:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই পরিবারকে একঘরে বা সমাজচ্যুত-বয়কটের ঘোষনা করেছেন এলাকার পঞ্চায়েত। শুক্রবার (১৮ জুন) এলাকার পঞ্চায়েতের বৈঠকে উপস্থিত গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যে শ্রীরামসী পঞ্চায়েতের সভাপতি চেরাগ আলী, মসজিদের মুতাওয়াল্লী দুদু মিয়া, সুনু মিয়া, নজরুল ইসলাম, আব্বাস আলী, মোঃ সায়েক আহমদ, পঞ্চায়েতের ক্যাশিয়ার মোঃ জামাল উদ্দিন, মোঃ সিরাজ আলী, নাজিম, আহমদ আলী, রুবেল আহমদ, মোঃ শাহ জাহান মিয়া, আব্দুল মমিনসহ অন্যান্য মাতব্বররা একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেন বলে স্থানীয়রা জানান। এসময় ইউপি সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী গ্রামে একটি জামে মসজিদের ভূমি ও মসজিদের নেতৃত্বসহ গ্রাম্য বিষয়ে বিরোধ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। শ্রীরামসী পঞ্চায়েতের মাতব্বররা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি পরিবারকে একঘরে সমাজচ্যুত বা বয়কটের ঘোষনা করা হয়। তিনি হচ্ছেন শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী মোঃ তফজ্জুল আলী ও তার পরিবারকে একঘরে সমাজচ্যুত বা বয়কটের ঘোষনা করে গ্রামের পঞ্চায়েতের মাতব্বররা।

 

 

এদিকে গ্রামের পঞ্চায়েতের মাতব্বররা মাইকে ঘোষণা দিয়ে সোমবার (২১ জুন) সাড়ে ১১টায় শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী তফজ্জুল আলীর মালিকানাধীন হাওরে ছাপড়া ঘর ভাংচুর ও মালামাল লুঠপাটের ঘটনায় ওই দিন রাতে ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে জগন্নাথপুর থানায় একটি লেখিত অভিযোগ দায়ের করেন তফজ্জুল আলী। অভিযোগের পর মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই দিন মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চায়েতের পক্ষে ক্যাশিয়ার মোঃ জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বিবাদী তফজ্জুল আলীসহ তার পরিবারের ৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে তফজ্জুল আলীকে জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লীর পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিকেলে থানার এসআই মির্জা শাফায়েত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এব্যাপারে মঙ্গলবার (২২ জুন) সরেজমিনে গেলে শ্রীরামসী গ্রামের পঞ্চায়েতের সভাপতি চেরাগ আলী, মসজিদের মুতাওয়াল্লী, দুদু মিয়া, পঞ্চায়েতের ক্যাশিয়ার জামাল উদ্দিন, সুনু মিয়া, সিরাজ আলী, নজরুল ইসলাম, আহমদ আলী, গংরা গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে “একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত বা বয়কট করা হয়েছে” এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তে সামাজিক একটা শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গ্রামের সব মানুষ পঞ্চায়েতের সাথে শুধু তফজ্জুল আলী একা। তারা আরো জানান, তফজ্জুল আলী মসজিদের এসি নিয়ে মসজিদ কমিটির সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এছাড়া শ্রীরামসী আকিল আলীর বাড়ির পশ্চিমে মেঘাখালীর খালে গ্রামের লোকজন উড়াল জাল, টেলা জাল ও ছিটকি জাল দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু সেখানে তফজ্জুল আলী বেল জাল দিয়ে মৎস্যজীবীর মাধ্যমে মাছ বিক্রি করে এবং গ্রামের লোকজনকে মাছ ধরিতে বাধা আপত্তি করে। সেখানে তফজ্জুল আলীর একটি ছাপড়া ঘর ছিল, সে ঘরটি শ্রীরামসী পঞ্চায়েতের লোকজন ভেঙ্গে দিয়েছেন। এদিকে ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছিল তখন। ভিডিওর শুরুতে তফজ্জুল আলীকে বয়কটের বিষয়টি পঞ্চায়েতের এক যুবক আংশিক উল্লেখ করেছেন।

 

এব্যাপারে শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক মুতাওয়াল্লী তফজ্জুল আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভূমি দাতার তালিকায় নাম রয়েছে ভূমি দাতার কিন্তু বাস্তবে মসজিদের দখলে নেই জমি। মসজিদের জমি উদ্ধারে উদ্যােগ গ্রহন করলে শুরু হয় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার। তিনি আরো জানান গ্রামের ৫/৭ জন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এব্যাপারে তিনি (তফজ্জুল আলী) প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

 

এব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত

Update Time : ০১:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই পরিবারকে একঘরে বা সমাজচ্যুত-বয়কটের ঘোষনা করেছেন এলাকার পঞ্চায়েত। শুক্রবার (১৮ জুন) এলাকার পঞ্চায়েতের বৈঠকে উপস্থিত গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যে শ্রীরামসী পঞ্চায়েতের সভাপতি চেরাগ আলী, মসজিদের মুতাওয়াল্লী দুদু মিয়া, সুনু মিয়া, নজরুল ইসলাম, আব্বাস আলী, মোঃ সায়েক আহমদ, পঞ্চায়েতের ক্যাশিয়ার মোঃ জামাল উদ্দিন, মোঃ সিরাজ আলী, নাজিম, আহমদ আলী, রুবেল আহমদ, মোঃ শাহ জাহান মিয়া, আব্দুল মমিনসহ অন্যান্য মাতব্বররা একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেন বলে স্থানীয়রা জানান। এসময় ইউপি সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী গ্রামে একটি জামে মসজিদের ভূমি ও মসজিদের নেতৃত্বসহ গ্রাম্য বিষয়ে বিরোধ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। শ্রীরামসী পঞ্চায়েতের মাতব্বররা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি পরিবারকে একঘরে সমাজচ্যুত বা বয়কটের ঘোষনা করা হয়। তিনি হচ্ছেন শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী মোঃ তফজ্জুল আলী ও তার পরিবারকে একঘরে সমাজচ্যুত বা বয়কটের ঘোষনা করে গ্রামের পঞ্চায়েতের মাতব্বররা।

 

 

এদিকে গ্রামের পঞ্চায়েতের মাতব্বররা মাইকে ঘোষণা দিয়ে সোমবার (২১ জুন) সাড়ে ১১টায় শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী তফজ্জুল আলীর মালিকানাধীন হাওরে ছাপড়া ঘর ভাংচুর ও মালামাল লুঠপাটের ঘটনায় ওই দিন রাতে ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে জগন্নাথপুর থানায় একটি লেখিত অভিযোগ দায়ের করেন তফজ্জুল আলী। অভিযোগের পর মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই দিন মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চায়েতের পক্ষে ক্যাশিয়ার মোঃ জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বিবাদী তফজ্জুল আলীসহ তার পরিবারের ৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে তফজ্জুল আলীকে জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লীর পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিকেলে থানার এসআই মির্জা শাফায়েত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

এব্যাপারে মঙ্গলবার (২২ জুন) সরেজমিনে গেলে শ্রীরামসী গ্রামের পঞ্চায়েতের সভাপতি চেরাগ আলী, মসজিদের মুতাওয়াল্লী, দুদু মিয়া, পঞ্চায়েতের ক্যাশিয়ার জামাল উদ্দিন, সুনু মিয়া, সিরাজ আলী, নজরুল ইসলাম, আহমদ আলী, গংরা গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে “একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত বা বয়কট করা হয়েছে” এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তে সামাজিক একটা শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গ্রামের সব মানুষ পঞ্চায়েতের সাথে শুধু তফজ্জুল আলী একা। তারা আরো জানান, তফজ্জুল আলী মসজিদের এসি নিয়ে মসজিদ কমিটির সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এছাড়া শ্রীরামসী আকিল আলীর বাড়ির পশ্চিমে মেঘাখালীর খালে গ্রামের লোকজন উড়াল জাল, টেলা জাল ও ছিটকি জাল দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু সেখানে তফজ্জুল আলী বেল জাল দিয়ে মৎস্যজীবীর মাধ্যমে মাছ বিক্রি করে এবং গ্রামের লোকজনকে মাছ ধরিতে বাধা আপত্তি করে। সেখানে তফজ্জুল আলীর একটি ছাপড়া ঘর ছিল, সে ঘরটি শ্রীরামসী পঞ্চায়েতের লোকজন ভেঙ্গে দিয়েছেন। এদিকে ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছিল তখন। ভিডিওর শুরুতে তফজ্জুল আলীকে বয়কটের বিষয়টি পঞ্চায়েতের এক যুবক আংশিক উল্লেখ করেছেন।

 

এব্যাপারে শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক মুতাওয়াল্লী তফজ্জুল আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, শ্রীরামসী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভূমি দাতার তালিকায় নাম রয়েছে ভূমি দাতার কিন্তু বাস্তবে মসজিদের দখলে নেই জমি। মসজিদের জমি উদ্ধারে উদ্যােগ গ্রহন করলে শুরু হয় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার। তিনি আরো জানান গ্রামের ৫/৭ জন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এব্যাপারে তিনি (তফজ্জুল আলী) প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

 

এব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ