০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাতকে ঘুষ কেলেংকারি অভিযোগে ওয়ারিং পরিদশক বরখাস্ত
- Update Time : ০৫:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গোবিন্দগঞ্জ জোনাল অফিসে ওয়ারিং পরিদর্শক ঘুষ কেলেংকারি অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে । গত বোববার ছয় শতাধিক গ্রাহককে জমাকৃত প্রায় ৩০লাখ টাকা ও শতাধিক ফাইল নিয়ে নিখোজের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যু অফিস তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় । গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিন ব্যাপী গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতে অফিসে এ তদন্ত কাজ চলছে । গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারনা ও তাদের জমানো টাকা আত্নসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়ারিং পরিদশক এনামুল হককে বরখাস্ত করা হয়েছে । এঘটনার মুল হোতারা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন ।
জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যু সমিতির জোনাল অফিসে ওয়ারিং পরির্দশক এনামুল হক ও ডিজিএম একে জাহিদুল ইসলাম বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রাহক হয়রানি,ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। এ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অনিয়ম দুনীতি ও ঘুষ কেলেংকারি সহ বিস্তার অভিযোগ পাহাড় জমেছে।ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৫০টি গ্রামে বারো শতাধিক গ্রাহক দীর্ঘ পাচ মাসে ও মিটার সংযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা । এ অফিসে নিয়ম মেনে আবেদন করলে মাসে পর মাস ঘুরে ও মিটার মিলছে না । ওয়ারিং পরিদশককে পাচ হাজার ঘুষ দিলে রাতারাতি নতুন মিটার সংযোগে মিলছেন বলে গ্রাহকরা এসব অভিযোগ করে। আকমল আলী বলেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গত বছর তিন ডিসেম্বর মিটারের জামানতের টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু এখনও মিটার দেয়নি। পল্লী বিদ্যুতের গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মীরা মিটার প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুষের দাবি করে। ঘুষের ওই টাকার মধ্যে দুই হাজার ডিজিএম জাহিদুল ইসলাম ও সমিতির চেয়ারম্যান পীর মোহাম্মদ আলী মিলন এক হাজার নেবেন বলেও জানানো হয়। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিং পুর এলাকার ছয় শতাধিক গ্রাহক ওয়ারিং পরিদশক এনামুল হকের মাধ্যমে গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত অফিসে আবেদন সহ পাচঁ টাকা করে জমা দেন। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহক হয়রানি করে আসছে পল্লী বিদ্যু অফিস।এসব গ্রাহকদের নামে ভুয়া রেজিষ্টার করে প্রায় ৩০লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ডিজিএম একে জাহিদুল ইসলাম ,ওয়ারিং পরিদশক এনামুল হক ও বিএম ম্যানজারসহ মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে অফিসে । এ ঘটনার পর ওয়ারিং পরিদশক নিখোজ হন। নিখোজ ওয়ারিং পরিদশক এনামুল হককে মোবাইল ফোনে রিং হচ্ছে ,কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি । এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন পল্লী বিদ্যু সমিতির চেয়ারম্যান পীর মোহাম্মদ আলী মিলন ।এ ঘটনার মুল হোতাদের দৃষ্টান্তমুলক শান্তির দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ডিজিএম একে জাহিদুল ইসলাম জানান, ওয়ারিং পরিদশক এনামুল হক নিখোজ ও শতাধিক ফাইল অফিস থেকে নেইনিখোজের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন ।গ্রাহক হয়রানি, নানা অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি এসব উত্তর দিতে নারাজ । এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যু সমিতির জিএম অখিল কুমার সাহা এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন এঘটনায় থানায় একটি ডায়রী ও তিন সদস্য একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয় । এখন গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে তদন্ত চলছে। এ ঘটনার মুল হোতাদের বের করে আনা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান।



















