০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে ৩য় দফা বন্যা, লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

  • Update Time : ১০:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে টানা তৃতীয় দফা বন্যায় সাধারন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছে এখানের বন্যা কবলিত কয়েক লাখ মানুষ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফা বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট, শ’ শ’ ঘরবাড়ি বানের পানিতে ভেঙ্গে ভেসে গেছে। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। টানা দু’দফা বন্যায় গ্রামীন সড়কগুলো ভেঙ্গে চলাচলের সম্পূর্ন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কের ভাঙ্গাস্থানে দেয়া হয়েছে বাঁশের সাকো। তৃতীয় দফা এ বন্যায় এসব সড়কের অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। ঘন-ঘন বন্যায় ভোগান্তির পাশাপাশি চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির সংকটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। টানা তিনদিনের প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের কারনে তৃতীয় দফা বন্যা ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। এখানে সুরমাসহ চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট ছাড়া সব সড়কই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিছিন্ন হয়ে পড়েছে শহরের সাথে সব অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বহু মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। শহর কিংবা শহরের আশাপাশের পানিবন্দী মানুষ সরকারী-বেসরকারী ত্রান বা সহায়তা পেলেও পানি বন্দী ১৩ ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠি থেকে যাচ্ছে সাহায্য-সহায়তার বাইরে। যার ফলে কাঁচা ঘর-বাড়িতে বসবাসরত বিশাল গ্রামীন জনগোষ্ঠিই মুলত বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব গ্রামীন মানুষ ২য় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষে নিজেদের গুছানোর আগে ৩য় দফা বন্যার কবলে পড়েছে। তারা নিজেদের ঘরে থেকেই বন্যার সাথে যুদ্ধ করে বাঁচার লড়াই করছে। সরকারী-বেসরকারী সব ক্ষেত্রেই শহর ও তার আশপাশের এলাকায় ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। গ্রামের মানুষ নূন্যতম সরকারী ত্রান সহায়তা পাচ্ছে। গত ২৮ জুন থেকে ২১ জুলাই পযর্ন্ত দফায়-দফায় বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এখানের কৃষকরা। শাক-সবজীর বাগান ও আমন বীজতলা সম্পূর্নরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে শতাধিক মাছের খামার। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও বীজতলা প্রস্তুতের জন্য কৃষকদের সকল পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে ৩য় দফা বন্যায়। এখন আমন ফসল চাষাবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানের কৃষকরা। একদিকে মহামারি করোনা অন্যদিকে বন্যার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ এখন দিশেহারা। এদিকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ছাতক-গোন্দিগঞ্জ-সিলেট, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-দোয়ারা সড়কের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে আবারো তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে সিলেটের দেয়া তথ্য মতে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ১৫৮ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চেলা নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১৬৫ সেন্টিমিটার এবং পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তলিয়ে গেছে উপজেলার হাটবাজার, পয়েন্ট, গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে ৩য় দফা বন্যা, লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

Update Time : ১০:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে টানা তৃতীয় দফা বন্যায় সাধারন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে দিনাতিপাত করছে এখানের বন্যা কবলিত কয়েক লাখ মানুষ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফা বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট, শ’ শ’ ঘরবাড়ি বানের পানিতে ভেঙ্গে ভেসে গেছে। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। টানা দু’দফা বন্যায় গ্রামীন সড়কগুলো ভেঙ্গে চলাচলের সম্পূর্ন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কের ভাঙ্গাস্থানে দেয়া হয়েছে বাঁশের সাকো। তৃতীয় দফা এ বন্যায় এসব সড়কের অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। ঘন-ঘন বন্যায় ভোগান্তির পাশাপাশি চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির সংকটে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। টানা তিনদিনের প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের কারনে তৃতীয় দফা বন্যা ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। এখানে সুরমাসহ চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট ছাড়া সব সড়কই বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিছিন্ন হয়ে পড়েছে শহরের সাথে সব অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বহু মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। শহর কিংবা শহরের আশাপাশের পানিবন্দী মানুষ সরকারী-বেসরকারী ত্রান বা সহায়তা পেলেও পানি বন্দী ১৩ ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠি থেকে যাচ্ছে সাহায্য-সহায়তার বাইরে। যার ফলে কাঁচা ঘর-বাড়িতে বসবাসরত বিশাল গ্রামীন জনগোষ্ঠিই মুলত বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব গ্রামীন মানুষ ২য় দফা বন্যার ভোগান্তি শেষে নিজেদের গুছানোর আগে ৩য় দফা বন্যার কবলে পড়েছে। তারা নিজেদের ঘরে থেকেই বন্যার সাথে যুদ্ধ করে বাঁচার লড়াই করছে। সরকারী-বেসরকারী সব ক্ষেত্রেই শহর ও তার আশপাশের এলাকায় ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। গ্রামের মানুষ নূন্যতম সরকারী ত্রান সহায়তা পাচ্ছে। গত ২৮ জুন থেকে ২১ জুলাই পযর্ন্ত দফায়-দফায় বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এখানের কৃষকরা। শাক-সবজীর বাগান ও আমন বীজতলা সম্পূর্নরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে শতাধিক মাছের খামার। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও বীজতলা প্রস্তুতের জন্য কৃষকদের সকল পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে ৩য় দফা বন্যায়। এখন আমন ফসল চাষাবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানের কৃষকরা। একদিকে মহামারি করোনা অন্যদিকে বন্যার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ এখন দিশেহারা। এদিকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ছাতক-গোন্দিগঞ্জ-সিলেট, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-দোয়ারা সড়কের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে আবারো তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে সিলেটের দেয়া তথ্য মতে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ১৫৮ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চেলা নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১৬৫ সেন্টিমিটার এবং পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তলিয়ে গেছে উপজেলার হাটবাজার, পয়েন্ট, গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ