০২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে মামলা দায়েরের তিন সপ্তাহ অতিবাহীত হলেও গ্রেফতার নেই আসামি, নিরাপত্তাহীনতায় বাদি

  • Update Time : ০৩:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে নারী নির্যাতন মামলা করে উল্টো আসামিদের হুমকি-ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বাদি ও তার পরিবার। আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে অপরাধিরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ন্যায়-বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাদি।

 

 

জানা যায়, উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মুক্তার গ্রামের আবদুল হকের স্ত্রী, গোবিন্দগঞ্জ ব্র্যাক অফিসের দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মী, মনতেহা বেগম মুন্নি বাদি হয়ে একই গ্রামের মৃত কচির মিয়ার পুত্র আবদুল হাই, মৃত আবদুর রুপের পুত্র আনোয়ার ও মৃত আবদুল গফুরের পুত্র, থানায় চুরি, ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলার আসামি আবদুল মজিদ ওরফে কালা রাজার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা (নং-২০, তাং-২২,১১,২০১৯ইং) দায়ের করেন। অপহরণ পূর্বক শ্লীলতাহানীসহ সহায়তা করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেফতার করছে না। এতে আরো বেপরোয়া হয়ে আসামিরা মামলার বাদিনীকে হত্যাসহ বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। এ নিয়ে বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

 

 

এদিকে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেল ২ ডিসেম্বর সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি অব পুলিশ এর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাদিনী। থানায় দায়ের করা মামলার আসামি আবদুল হাই, আনোয়ার ও আবদুল মজিদ কালারাজার কাছে গ্রামবাসী জিম্মি উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগে তিনি আরো বলেন, আসামিরা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে খুন ও লাশ গুম করে ফেলিবে বলে উল্লাস করে প্রকাশ্যে বেড়াচ্ছে। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাযশে মিথ্য তথ্য উপস্থাপন করে বিভিন্ন দপ্তরে অপপ্রচার ও একাধিক অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্য প্রণোদীত ভাবে মানহানিকর সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। এসব লিখিত অভিযোগ সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে দায়ের করা হয়। অপরদিকে কর্মস্থল দোলারবাজার থেকে গেল ২৮ নভেম্বর বাড়ি ফেরার পথে বসতবাড়ির সামনের রাস্থায় পৌঁছা মাত্র অভিযুক্তদের নেতৃত্বে প্রাণ নাশক অস্ত্র দিয়ে সংঘবদ্ধরা বাদিকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসলে তাৎক্ষনিক সে পালিয়ে রক্ষা পায়।

 

 

এ ঘটনায় মনতেহা বেগম মুন্নি বাদি হয়ে গ্রামের আবদুল হাই, আবদুল মজিদ ওরফে কালারাজা, আশিক, ছানোয়ার, আনোয়ার, মিরাস আলী, আবদুল খালিক, আবদুল আলিম, আবদুর রশিদ, আবদুল কদ্দুছ, কামরুল, আবদুল মালিক ও খলিল মিয়াকে আসামি করে ৮ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ছাতক জোন, সুনামগঞ্জে অপর একটি বিবিধ মোকদ্দমা (নং-১৭১/২০১৯ইং দায়ের করেন।

 

 

নির্যাতিতা বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরা-ফেরা করছে। তারা হত্যাসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে তিনি ন্যায়-বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

 

এ ব্যাপারে থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, মামলাটি তদন্তাধিন, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে মামলা দায়েরের তিন সপ্তাহ অতিবাহীত হলেও গ্রেফতার নেই আসামি, নিরাপত্তাহীনতায় বাদি

Update Time : ০৩:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে নারী নির্যাতন মামলা করে উল্টো আসামিদের হুমকি-ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বাদি ও তার পরিবার। আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে অপরাধিরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ন্যায়-বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাদি।

 

 

জানা যায়, উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মুক্তার গ্রামের আবদুল হকের স্ত্রী, গোবিন্দগঞ্জ ব্র্যাক অফিসের দোলারবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মী, মনতেহা বেগম মুন্নি বাদি হয়ে একই গ্রামের মৃত কচির মিয়ার পুত্র আবদুল হাই, মৃত আবদুর রুপের পুত্র আনোয়ার ও মৃত আবদুল গফুরের পুত্র, থানায় চুরি, ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলার আসামি আবদুল মজিদ ওরফে কালা রাজার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা (নং-২০, তাং-২২,১১,২০১৯ইং) দায়ের করেন। অপহরণ পূর্বক শ্লীলতাহানীসহ সহায়তা করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেফতার করছে না। এতে আরো বেপরোয়া হয়ে আসামিরা মামলার বাদিনীকে হত্যাসহ বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। এ নিয়ে বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

 

 

এদিকে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেল ২ ডিসেম্বর সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি অব পুলিশ এর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাদিনী। থানায় দায়ের করা মামলার আসামি আবদুল হাই, আনোয়ার ও আবদুল মজিদ কালারাজার কাছে গ্রামবাসী জিম্মি উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগে তিনি আরো বলেন, আসামিরা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে খুন ও লাশ গুম করে ফেলিবে বলে উল্লাস করে প্রকাশ্যে বেড়াচ্ছে। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাযশে মিথ্য তথ্য উপস্থাপন করে বিভিন্ন দপ্তরে অপপ্রচার ও একাধিক অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্য প্রণোদীত ভাবে মানহানিকর সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। এসব লিখিত অভিযোগ সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে দায়ের করা হয়। অপরদিকে কর্মস্থল দোলারবাজার থেকে গেল ২৮ নভেম্বর বাড়ি ফেরার পথে বসতবাড়ির সামনের রাস্থায় পৌঁছা মাত্র অভিযুক্তদের নেতৃত্বে প্রাণ নাশক অস্ত্র দিয়ে সংঘবদ্ধরা বাদিকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসলে তাৎক্ষনিক সে পালিয়ে রক্ষা পায়।

 

 

এ ঘটনায় মনতেহা বেগম মুন্নি বাদি হয়ে গ্রামের আবদুল হাই, আবদুল মজিদ ওরফে কালারাজা, আশিক, ছানোয়ার, আনোয়ার, মিরাস আলী, আবদুল খালিক, আবদুল আলিম, আবদুর রশিদ, আবদুল কদ্দুছ, কামরুল, আবদুল মালিক ও খলিল মিয়াকে আসামি করে ৮ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ছাতক জোন, সুনামগঞ্জে অপর একটি বিবিধ মোকদ্দমা (নং-১৭১/২০১৯ইং দায়ের করেন।

 

 

নির্যাতিতা বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরা-ফেরা করছে। তারা হত্যাসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে তিনি ন্যায়-বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

 

এ ব্যাপারে থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, মামলাটি তদন্তাধিন, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ