ছাতকে বেহাল সড়কে ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ
- Update Time : ০৩:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকের জনগুরত্বপূর্ণ একটি বেহাল সড়কে ধানের চারা রোপন করে প্রতীকি প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভোক্তভোগী মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে করা ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় জনতা। দিনের মধ্যেই ছবিটি স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার বৃহৎ উপজেলা ছাতকের আভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কগুলোকে চলাচলের উপযোগী করে দিতে সংস্কারের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় সড়কের ওপর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কাদায় ভরে গেছে এগুলোর কোন কোন অংশ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে এইসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে উপজেলার কৈতক-সিরাজগঞ্জ, নোয়ারাই-বাংলাবাজার, ছাতক-তীররাই, দোলারবাজার-জাহিদপুর, বড়কাপন-শ্রীপুর, পালপুর-মানিকগঞ্জ সড়কসহ উপজেলার প্রায় সবগুলো সড়কই ভাঙাচুরা। দীর্ঘ দিন ধরে এগুলো সংস্কারের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর।
এদিকে, বেহাল এইসব সড়কের কারণে স্থানীয় মানুষ ও বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। ভাঙাচুরা সড়ক নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন নিজ দল আওয়ামী লীগেরই অনেক নেতা।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মানিকের দীর্ঘ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম আহমদ চৌধুরী গতকাল যুক্তরাজ্যে তাঁকে দেওয়া এক সংবর্ধনায় বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি ঠিক সেই সযে ছাতকে-দোয়ারাবাজারের জনগণ রয়েছেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। লজ্জার বিষয় হচ্ছে, বিক্ষোব্ধ মানুষ আজ সড়কে ধান চাষ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।’
ছাতকের বেহলা সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার আছেন সিংসাপইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেল আহমেদ। সম্প্রতি তাঁর ইউনিয়নের অনেকগুলো বেহাল সড়কের ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সরকার দলীয় এই ইউপি চেয়ারম্যান ছবিগুলো শেয়ার করার সময় স্থানীয় এমপি মানিককে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেন, ‘টানা তিন বারের এমপি বইল্যা চিল্লানি দেওনের আগে চিন্তা করে দেখেন, এই তিনবারে জনসাধারণের জন্য কী করেছেন।’


























