০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে বিতর্কিত পোষ্টার সাটানো নিয়ে তোলপাড়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষ মুখোমুখি চলছে হামলা ও পাল্টা-পাল্টি মামলা

  • Update Time : ০৯:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা থাকলেও গত ১০ মে শহরের তাতিকোনা এলাকার কালীমন্দির এবং হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় তাদের বিরোধ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত পোষ্টার সাটানোকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে চলছে তোলপাড়। পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ও তার পুত্র উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবলুর ছবি যুক্তসহ তাদের বিরুদ্ধে উস্কানীমুলক শব্দ পোষ্টারে লিখা হয়েছে। কে বা কারা ‘পরিবহন শ্রমিক’ নাম ব্যবহার করে রাতের আধারে শহরে এসব পোস্টার সাটালেও পরবর্তীতে সাটানো পোষ্টারগুলো ছিড়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে শহর জুড়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। চাপা উত্তেজনাও বিরাজ করছে দু’পক্ষের মধ্যে। জানা যায়, আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ও একই এলাকার শাহ আলম পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ১০ মে শহরের তাতিকোনা এলাকার কালীমন্দির এবং হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায় শাহ আলম পক্ষের লোকজন। এতে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জের এসপিসহ উপজেলা পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনুও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সান্তনা দেন। ঘটনায় তাতিকোনা এলাকার রবিন্দ্র দাসের পুত্র তাপস দাস বাদী হয়ে একই এলাকার শাহ আলমের ভাই শরীফ আলমসহ ২২জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা (নং-৯) দায়ের করে। এ মামলায় আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনুর ইন্দন রয়েছে ভেবে তার সাথে শাহ আলম পক্ষের পূর্ব বিরোধ আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠে। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। এ ঘটনার জের ধরে ১০ জুন সকালে একা পেয়ে মাহফুজ বাবলুর উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে আবারো উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দু’সহোদর বাবলু ও লাভলুসহ ১০-১২ জন গুরুতর আহত হয়। এতে আব্দুল জলিল বাদী হয়ে শাহ আলম, শরীফ আলম ও নূর আলমসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় আরেকটি মামলা (নং-২৭) দায়ের করেন। প্রতিপক্ষরাও পৃথক মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু এ ব্যাপারে জানান, এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের অন্যায়-অত্যাচার ও ভুমি দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারনে মুলত শাহ আলম পক্ষের সাথে তার বিরোধ। এ ছাড়া পারিবারিকভাবে আওয়ামীলীগ হওয়ার কারনে তার সাথে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক বিরোধও রয়েছে। ১০ জুন শাহ আলমসহ লোকজন তার বাড়িতে এসে আপোষের মাধ্যমে বিরোধকৃত সব বিষয় নিষ্পত্তির কথা বলে তাকে ব্যস্ত করে তুলে, অপর দিকে কৌশলে শাহ আলমের লোকজন তার পুত্র ও ভাই-ভাতিজার উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ১৬ জুলাই এলাকার সাধারন মানুষের সাথে অশালীন আচরন করায় শাহ আলমের গাড়ি চালক, তাতিকোনা এলাকার সুদুর আলীর পুত্র ছাবুল মিয়াকে কতিপয় ব্যক্তি মারপিট করে। এ ঘটনায়ও তাকেসহ তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এভাবে বারবার ষড়যন্ত্র চালিয়ে প্রতিপক্ষরা তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দেখার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে বিতর্কিত পোষ্টার সাটানো নিয়ে তোলপাড়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষ মুখোমুখি চলছে হামলা ও পাল্টা-পাল্টি মামলা

Update Time : ০৯:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা থাকলেও গত ১০ মে শহরের তাতিকোনা এলাকার কালীমন্দির এবং হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় তাদের বিরোধ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত পোষ্টার সাটানোকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে চলছে তোলপাড়। পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ও তার পুত্র উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবলুর ছবি যুক্তসহ তাদের বিরুদ্ধে উস্কানীমুলক শব্দ পোষ্টারে লিখা হয়েছে। কে বা কারা ‘পরিবহন শ্রমিক’ নাম ব্যবহার করে রাতের আধারে শহরে এসব পোস্টার সাটালেও পরবর্তীতে সাটানো পোষ্টারগুলো ছিড়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে শহর জুড়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। চাপা উত্তেজনাও বিরাজ করছে দু’পক্ষের মধ্যে। জানা যায়, আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ও একই এলাকার শাহ আলম পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ১০ মে শহরের তাতিকোনা এলাকার কালীমন্দির এবং হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায় শাহ আলম পক্ষের লোকজন। এতে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জের এসপিসহ উপজেলা পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনুও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সান্তনা দেন। ঘটনায় তাতিকোনা এলাকার রবিন্দ্র দাসের পুত্র তাপস দাস বাদী হয়ে একই এলাকার শাহ আলমের ভাই শরীফ আলমসহ ২২জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা (নং-৯) দায়ের করে। এ মামলায় আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনুর ইন্দন রয়েছে ভেবে তার সাথে শাহ আলম পক্ষের পূর্ব বিরোধ আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠে। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। এ ঘটনার জের ধরে ১০ জুন সকালে একা পেয়ে মাহফুজ বাবলুর উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে আবারো উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দু’সহোদর বাবলু ও লাভলুসহ ১০-১২ জন গুরুতর আহত হয়। এতে আব্দুল জলিল বাদী হয়ে শাহ আলম, শরীফ আলম ও নূর আলমসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় আরেকটি মামলা (নং-২৭) দায়ের করেন। প্রতিপক্ষরাও পৃথক মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু এ ব্যাপারে জানান, এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের অন্যায়-অত্যাচার ও ভুমি দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারনে মুলত শাহ আলম পক্ষের সাথে তার বিরোধ। এ ছাড়া পারিবারিকভাবে আওয়ামীলীগ হওয়ার কারনে তার সাথে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক বিরোধও রয়েছে। ১০ জুন শাহ আলমসহ লোকজন তার বাড়িতে এসে আপোষের মাধ্যমে বিরোধকৃত সব বিষয় নিষ্পত্তির কথা বলে তাকে ব্যস্ত করে তুলে, অপর দিকে কৌশলে শাহ আলমের লোকজন তার পুত্র ও ভাই-ভাতিজার উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ১৬ জুলাই এলাকার সাধারন মানুষের সাথে অশালীন আচরন করায় শাহ আলমের গাড়ি চালক, তাতিকোনা এলাকার সুদুর আলীর পুত্র ছাবুল মিয়াকে কতিপয় ব্যক্তি মারপিট করে। এ ঘটনায়ও তাকেসহ তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এভাবে বারবার ষড়যন্ত্র চালিয়ে প্রতিপক্ষরা তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দেখার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ