ছাতকে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন খুন
- Update Time : ০১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে দফায়-দফায় হামলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় মোঃ লায়েক মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাত সোয়া নয়টার দিকে ছাতক থানা সংলগ্ন গণেশপুর খেয়াঘাটে প্রথমে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর ও ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় নিহত মোঃ লায়েক মিয়া শহরের মন্ডলীভোগ (জংলিগড়) এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র।ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ডলীভোগ লাল মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার লায়েক মিয়া,কাজল মিয়া এবং এরশাদ আলী,শামসুল ইসলাম পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। মসজিদ কমিটির বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ বৈঠক ও অনুষ্টিত হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে গত সোমবার মোঃ লায়েক মিয়া পক্ষের কাজল মিয়া ও এরশাদ আলীর নাতি আব্দুল কুদ্দুস শিবলুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুস শিবলুকে চড়-থাপ্পড় মারে কাজল মিয়া।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দিন ধরে মহল্লার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান ।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে তারাবি নামাজের সময় গণেশপুর খেয়াঘাটে মোঃ লায়েক মিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে আব্দুল কুদ্দুস শিবলু ও তার সহযোগীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত মোঃ লায়েক মিয়াকে ছাতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন মোঃ লায়েক মিয়া।
এদিকে মোঃ লায়েক মিয়ার উপর হামলার পর দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
হাসপাতাল থেকে মোঃ লায়েক মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছলে তার স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে রাত ১১টার দিকে এরশাদ আলী ও নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাংচুর করে তাদের বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।ছাতক ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু” বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে।
ঘটনাস্থল ও আশ-পাশ এলাকায় সারারাত পুলিশ মোতায়েন ছিলো।বর্তমানেও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। থানা পুলিশ ছাতক বাজার থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। ছাতক থানার ওসি খাঁন মোহাম্মদ মাইনুল জাকির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে রাতেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।
সুনামগঞ্জের সহকারি পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) রনজয় চন্দ্র মল্লিক জানান,এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মন্ডলীভোগ এলাকার গৌছ মিয়ার পুত্র সজিব মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছে।
মন্ডলীভোগ এলাকার এরশাদ আলী ও তাজ উদ্দিন নামের আরো দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
























