০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে পাষন্ড দুলাভাই কর্তৃক শ্যালককে টয়লেটে ফেলে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

  • Update Time : ০৩:২২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের ছাতকে পাষন্ড দুলাভাই কর্তৃক ১১বছরের শ্যালককে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা মেওয়ারতৈল গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা মেওয়ারতৈল গ্রামের খালিক মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া নামের পাষন্ড এক দুলাভাই কর্তৃক বুধবার সন্ধ্যায় কৌশলে জাহিদপুর বাজার থেকে সিএনজি যোগে শিশু শ্যালক আমির উদ্দিনকে জোর পূর্বক তার বাড়িতে নিয়ে যায়। রাতভর তাকে শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে ভোর বেলা পাশের বাড়ির মাসুক লন্ডনীর একটি সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে হাত বেধেঁ ফেলে চাপাতি দিয়ে কুপাতে থাকে। চাপাতির কুপে শিশু আমিরের মুখের ডানে ও মাথার পিছনের অংশে মারাত্বক ভাবে ক্ষত-বিক্ষত হয়। এক পর্যায়ে তার শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগে মৃত ভেবে সেফটিক ট্যাংকের মুখ বন্ধ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাষন্ড শিপন। সকালে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে গেলে বাজার থেকে সন্তান বাড়িতে না যাওয়ায় তার পরিবারের লোকজনরা চার দিকে খোঁজতে থাকেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা ওসমানী হাসপাতালে পুত্রের সন্ধান পায়।

 

 

সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর সমুজ আলী দীর্ঘ ২০বছর ধরে পরিবারকে নিয়ে ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তাদের মুল বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও এলাকায়। প্রায় ৮বছর আগে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে উঠেন জাহিদপুর বুরাইয়া বাড়ির মরহুম সিরাজ মিয়ার বাড়িতে। এখানে বসবাসের সুযোগে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তার তিন পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে সকলের ছোট আমির উদ্দিন। প্রায় দু’বছর আগে স্বামী শিপনের অভাবের সংসারে হাল ধরতে এক মাত্র কন্যা সন্তানকে রেখে সৌদি আরবে চলে যায় হালিমা। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অজ্ঞাত বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। প্রায় ২মাস ধরে হালিমা তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখছে না এবং টাকা পয়সা দিচ্ছে না। স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতে না পারায় শিপন তার শ্যালককে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার পরিকল্পনা করে। এদিকে শ্যালক বেঁচে আছে এমন সংবাদ পেয়ে ঘাতক শিপন এলাকা থেকে পালিয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বেলাল শিশু নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিশুটি জাহিদপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে কাজ করত। থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল‌ে গিয়েছিল, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এএসপি সার্কেল বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন, অভিযোগ দিলে মামলা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে পাষন্ড দুলাভাই কর্তৃক শ্যালককে টয়লেটে ফেলে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

Update Time : ০৩:২২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের ছাতকে পাষন্ড দুলাভাই কর্তৃক ১১বছরের শ্যালককে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা মেওয়ারতৈল গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা মেওয়ারতৈল গ্রামের খালিক মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া নামের পাষন্ড এক দুলাভাই কর্তৃক বুধবার সন্ধ্যায় কৌশলে জাহিদপুর বাজার থেকে সিএনজি যোগে শিশু শ্যালক আমির উদ্দিনকে জোর পূর্বক তার বাড়িতে নিয়ে যায়। রাতভর তাকে শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে ভোর বেলা পাশের বাড়ির মাসুক লন্ডনীর একটি সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে হাত বেধেঁ ফেলে চাপাতি দিয়ে কুপাতে থাকে। চাপাতির কুপে শিশু আমিরের মুখের ডানে ও মাথার পিছনের অংশে মারাত্বক ভাবে ক্ষত-বিক্ষত হয়। এক পর্যায়ে তার শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগে মৃত ভেবে সেফটিক ট্যাংকের মুখ বন্ধ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাষন্ড শিপন। সকালে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে গেলে বাজার থেকে সন্তান বাড়িতে না যাওয়ায় তার পরিবারের লোকজনরা চার দিকে খোঁজতে থাকেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা ওসমানী হাসপাতালে পুত্রের সন্ধান পায়।

 

 

সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর সমুজ আলী দীর্ঘ ২০বছর ধরে পরিবারকে নিয়ে ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তাদের মুল বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও এলাকায়। প্রায় ৮বছর আগে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে উঠেন জাহিদপুর বুরাইয়া বাড়ির মরহুম সিরাজ মিয়ার বাড়িতে। এখানে বসবাসের সুযোগে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তার তিন পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে সকলের ছোট আমির উদ্দিন। প্রায় দু’বছর আগে স্বামী শিপনের অভাবের সংসারে হাল ধরতে এক মাত্র কন্যা সন্তানকে রেখে সৌদি আরবে চলে যায় হালিমা। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অজ্ঞাত বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। প্রায় ২মাস ধরে হালিমা তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখছে না এবং টাকা পয়সা দিচ্ছে না। স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতে না পারায় শিপন তার শ্যালককে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার পরিকল্পনা করে। এদিকে শ্যালক বেঁচে আছে এমন সংবাদ পেয়ে ঘাতক শিপন এলাকা থেকে পালিয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বেলাল শিশু নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিশুটি জাহিদপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে কাজ করত। থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল‌ে গিয়েছিল, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এএসপি সার্কেল বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন, অভিযোগ দিলে মামলা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ