০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে ডাঃ মইন উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন: বাবা- মায়ের পাশে চিরনিদ্রায়

  • Update Time : ১০:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

অানোয়ার হোসেন রনি :: করোনায় সিলেটে এমএজি ওসমানী মডেকিলে কলজে হাসপাতালরে সহকারী অধ্যাপক গরীবের ডাক্তার মঈন উদ্দিনকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাবা- মায়ের কবরের
পাশে দাফন করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮ টায় তার গ্রামে বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে তার পারিবারিক মা-বাবার কবরের পাশে তার দাফন করেছে প্রশাসন। তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন পোষ্ট মাস্টার ইসরাইল আহমদ। জানাজায় শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করেন। তার দাফন সম্পন্ন করার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও গোলাম কবির। এর আগে ঢাকায় লাশ দাফনকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে ডাক্তার মঈন উদ্দিনকে গোসল দিয়ে কাফন পরানো হয়েছে বলে তার ছোট বোন জামাই খছরুজ্জামান নিশ্চিত করে বলেন তার ওই চিকিৎসকের লাশ ঢাকায় দাফন করার সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হলেও পরিবারের ইচ্ছায় সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে অবশেষে তার গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন করা হয়।

 

সিলেটে করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মঈন উদ্দিন বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৫ এপ্রিল তার শরীরে করোনা রোগ ধরা পড়েছিল। পরে চিকিৎকদের পরামর্শমতে তিনি বাসায় কোয়ারেন্টিন অবস্থায় চিকিৎসা নিতে থাকেন। তার শরীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে গত ৭ এপ্রিল তিনি নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হন। গত ৮ এপ্রিল সেখান থেকে পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়ে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত সোমবার হাসপাতালের তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তিনি মৃত্যুর বরন করেন। বেলা ২টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ডাক্তার মঈন উদ্দিনের কফিনবন্দি লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তার স্বজনরা। তার সঙ্গে ছিলেন তার  স্ত্রী ডাক্তার ইসরাত জাহান ও ছোট বোন জামাই খছরুজ্জামান ।

 

 

জানাযায়, ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে মৃত মুন্সি সিদ্দিক আলীর পুত্র ডাক্তার মইন উদ্দিন। ১৯৭৩ সালে ১ মার্চ তার জন্ম হয়েছে। প্রথম তার গ্রামে পাঠশালা থেকে লেখা পড়া শুরু করেন। পরে নতুনবাজার
(ধারন) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর সিলেটের সেরাবিদ্যাপিট এমসি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস (ডিএমসি) বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপএস (মেডিসিন) এমডি (কার্ডিওলজি) পাশ করেছেন। প্রথম ডাক্তার হিসেরে তার নিজ উপজেলার সদর হাসাপাতালে মেডিক্যাল
অফিসার পদে যোগদান করেন ২০০১ সালে। এখন প্রথম চেম্বার শুরু করেন গোবিন্দগঞ্জ জননী ফামেন্সীতে। এখানে শ’শ’রোগীদের দেখতেন বিনা টাকা। কখনো এলাকার লোকজনদের কাছ থেকে ভিজিট নিতে না। তিনি ৩ ভাই ৩ বোন। বড় ভাই
সহপরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করেন। একবছর আগে তার বড় ভাই মারা গেছেন। তার ছোট ভাই সে ডাক্তার হবার আগে মারা যান। তার দুই বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। তার স্ত্রী ডাক্তার, ২পুত্র সন্তানের জনক
ছিলেন।

 

 

জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, সহকারি কমিশনার (ভুমি) তাপশ শীল, ওসি মোস্তফা
কামাল, খছরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, ইবনে সিনা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে ডাঃ মইন উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন: বাবা- মায়ের পাশে চিরনিদ্রায়

Update Time : ১০:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

অানোয়ার হোসেন রনি :: করোনায় সিলেটে এমএজি ওসমানী মডেকিলে কলজে হাসপাতালরে সহকারী অধ্যাপক গরীবের ডাক্তার মঈন উদ্দিনকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাবা- মায়ের কবরের
পাশে দাফন করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮ টায় তার গ্রামে বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে তার পারিবারিক মা-বাবার কবরের পাশে তার দাফন করেছে প্রশাসন। তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন পোষ্ট মাস্টার ইসরাইল আহমদ। জানাজায় শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করেন। তার দাফন সম্পন্ন করার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও গোলাম কবির। এর আগে ঢাকায় লাশ দাফনকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে ডাক্তার মঈন উদ্দিনকে গোসল দিয়ে কাফন পরানো হয়েছে বলে তার ছোট বোন জামাই খছরুজ্জামান নিশ্চিত করে বলেন তার ওই চিকিৎসকের লাশ ঢাকায় দাফন করার সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হলেও পরিবারের ইচ্ছায় সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে অবশেষে তার গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন করা হয়।

 

সিলেটে করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মঈন উদ্দিন বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৫ এপ্রিল তার শরীরে করোনা রোগ ধরা পড়েছিল। পরে চিকিৎকদের পরামর্শমতে তিনি বাসায় কোয়ারেন্টিন অবস্থায় চিকিৎসা নিতে থাকেন। তার শরীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে গত ৭ এপ্রিল তিনি নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হন। গত ৮ এপ্রিল সেখান থেকে পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়ে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত সোমবার হাসপাতালের তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তিনি মৃত্যুর বরন করেন। বেলা ২টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ডাক্তার মঈন উদ্দিনের কফিনবন্দি লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তার স্বজনরা। তার সঙ্গে ছিলেন তার  স্ত্রী ডাক্তার ইসরাত জাহান ও ছোট বোন জামাই খছরুজ্জামান ।

 

 

জানাযায়, ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে মৃত মুন্সি সিদ্দিক আলীর পুত্র ডাক্তার মইন উদ্দিন। ১৯৭৩ সালে ১ মার্চ তার জন্ম হয়েছে। প্রথম তার গ্রামে পাঠশালা থেকে লেখা পড়া শুরু করেন। পরে নতুনবাজার
(ধারন) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর সিলেটের সেরাবিদ্যাপিট এমসি কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস (ডিএমসি) বিসিএস (স্বাস্থ্য) এফসিপএস (মেডিসিন) এমডি (কার্ডিওলজি) পাশ করেছেন। প্রথম ডাক্তার হিসেরে তার নিজ উপজেলার সদর হাসাপাতালে মেডিক্যাল
অফিসার পদে যোগদান করেন ২০০১ সালে। এখন প্রথম চেম্বার শুরু করেন গোবিন্দগঞ্জ জননী ফামেন্সীতে। এখানে শ’শ’রোগীদের দেখতেন বিনা টাকা। কখনো এলাকার লোকজনদের কাছ থেকে ভিজিট নিতে না। তিনি ৩ ভাই ৩ বোন। বড় ভাই
সহপরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করেন। একবছর আগে তার বড় ভাই মারা গেছেন। তার ছোট ভাই সে ডাক্তার হবার আগে মারা যান। তার দুই বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। তার স্ত্রী ডাক্তার, ২পুত্র সন্তানের জনক
ছিলেন।

 

 

জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন, সহকারি কমিশনার (ভুমি) তাপশ শীল, ওসি মোস্তফা
কামাল, খছরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, ইবনে সিনা কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ