০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে গ্রামীণ সড়ক পাকাকরন ও ব্রীজ নির্মাণে অনিয়ম, এলাকাবাসীর চাপে কাজ বন্ধ

  • Update Time : ০২:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের ছাতকে অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে একটি গ্রামীণ সড়কের কাজে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকার লোকজন কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে। জনতার তোপের মুখে ঠিকাদার সড়কের চলমান এ কাজ বন্ধ করলেও নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরী দিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা হয়। সড়কের কাজে নিন্মমানের বালু-পাথর ও কাজের গুনগত মান সঠিক না হওয়ায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে বুধবার সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য কামাল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবির সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজে দূর্নীতি ও অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। এসময় তিনি নির্মিত ব্লক ও প্রকল্প সাইডে রাখা নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ওই প্রকল্পের কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন।

 

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিলমেট প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার হতে জামুরা গ্রাম এবং ইসলামপুর পর্যন্ত দু’টি রাস্তা ও একটি ছোট ব্রীজ নির্মাণে ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। গ্রামীণ এ প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পায় ঢাকার এরশাদ বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যেই ব্রীজের কাজ শেষ করে রাস্তায় ব্যবহারের জন্য ব্লক তৈরীর কাজ চলছে। নির্মিত ব্রীজের নির্মাণ কাঠামো দেখলেই এর মারাত্মক ত্রুটি যেকোন মানুষের চোখে ধরা পড়বে। রাস্তার লেভেল থেকে সাধারনত ক্রম উচ্চতায় ব্রীজ নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ ব্রীজটির ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজ করা হয়েছে ঠিক উল্টোভাবে। রাস্তার স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে ব্রীজের উচ্চতা অপেক্ষাকৃত নীচু। ফলে বর্ষায় রাস্তায় পানি উঠার আগেই ওই ব্রীজটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ ব্রীজ নির্মাণের পর থেকে এলাকার মানুষ বর্ষায় দু’দিক থেকে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। পায়ে ও নায়ে উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা।

 

 

এদিকে রাস্তা পাকাকরনের জন্য নিন্মমানের সিমেন্ট ও মাটি এবং টিলার মরা পাথর মিশ্রিত লাল পাথর প্রকল্প সাইডে এনে ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে। দু’টি অংশে ১হাজার ২০০ মিটার এবং ৮০০ মিটার রাস্তা পাকাকরন ও ব্লক নির্মাণের জন্য এসব নির্মাণ সামগ্রী প্রকল্প সাইডে আনা হয়। দু’টি রাস্তায় ১৪ হাজার ব্লক ব্যবহারের কথা প্রকল্প কার্যাদেশে রয়েছে। ইতিমধ্যে ব্লক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েক হাজার ব্লক এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়ে গেছে। অত্যন্ত নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত ব্লক রাস্তায় ব্যবহার করার আগেই ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ মাটি ও মরা পাথর মিশ্রিত টিলার পাথরের সাথে নিন্মমানের সিমেন্ট দিয়ে ব্লক তৈরী করায় তা ব্যবহারের আগেই ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রতি ১ভাগ সিমেন্টের সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮-১০ভাগ বালু-পাথর। যে কারনে নির্মিত এসব ব্লক ভেঙ্গে যাচ্ছে। কাজের ঠিকাদার সান্টু রহমান দুলাল এ ব্যাপারে জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রকল্প সাইডে এসে বিষয়টি এলাকার লোকজনের সাথে বসে সমস্যার সমাধান করবেন তিনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে গ্রামীণ সড়ক পাকাকরন ও ব্রীজ নির্মাণে অনিয়ম, এলাকাবাসীর চাপে কাজ বন্ধ

Update Time : ০২:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের ছাতকে অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে একটি গ্রামীণ সড়কের কাজে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকার লোকজন কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে। জনতার তোপের মুখে ঠিকাদার সড়কের চলমান এ কাজ বন্ধ করলেও নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরী দিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা হয়। সড়কের কাজে নিন্মমানের বালু-পাথর ও কাজের গুনগত মান সঠিক না হওয়ায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে বুধবার সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য কামাল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবির সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজে দূর্নীতি ও অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন। এসময় তিনি নির্মিত ব্লক ও প্রকল্প সাইডে রাখা নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ওই প্রকল্পের কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন।

 

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিলমেট প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার হতে জামুরা গ্রাম এবং ইসলামপুর পর্যন্ত দু’টি রাস্তা ও একটি ছোট ব্রীজ নির্মাণে ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। গ্রামীণ এ প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পায় ঢাকার এরশাদ বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যেই ব্রীজের কাজ শেষ করে রাস্তায় ব্যবহারের জন্য ব্লক তৈরীর কাজ চলছে। নির্মিত ব্রীজের নির্মাণ কাঠামো দেখলেই এর মারাত্মক ত্রুটি যেকোন মানুষের চোখে ধরা পড়বে। রাস্তার লেভেল থেকে সাধারনত ক্রম উচ্চতায় ব্রীজ নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ ব্রীজটির ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজ করা হয়েছে ঠিক উল্টোভাবে। রাস্তার স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে ব্রীজের উচ্চতা অপেক্ষাকৃত নীচু। ফলে বর্ষায় রাস্তায় পানি উঠার আগেই ওই ব্রীজটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ ব্রীজ নির্মাণের পর থেকে এলাকার মানুষ বর্ষায় দু’দিক থেকে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। পায়ে ও নায়ে উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা।

 

 

এদিকে রাস্তা পাকাকরনের জন্য নিন্মমানের সিমেন্ট ও মাটি এবং টিলার মরা পাথর মিশ্রিত লাল পাথর প্রকল্প সাইডে এনে ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে। দু’টি অংশে ১হাজার ২০০ মিটার এবং ৮০০ মিটার রাস্তা পাকাকরন ও ব্লক নির্মাণের জন্য এসব নির্মাণ সামগ্রী প্রকল্প সাইডে আনা হয়। দু’টি রাস্তায় ১৪ হাজার ব্লক ব্যবহারের কথা প্রকল্প কার্যাদেশে রয়েছে। ইতিমধ্যে ব্লক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েক হাজার ব্লক এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়ে গেছে। অত্যন্ত নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত ব্লক রাস্তায় ব্যবহার করার আগেই ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ মাটি ও মরা পাথর মিশ্রিত টিলার পাথরের সাথে নিন্মমানের সিমেন্ট দিয়ে ব্লক তৈরী করায় তা ব্যবহারের আগেই ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রতি ১ভাগ সিমেন্টের সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮-১০ভাগ বালু-পাথর। যে কারনে নির্মিত এসব ব্লক ভেঙ্গে যাচ্ছে। কাজের ঠিকাদার সান্টু রহমান দুলাল এ ব্যাপারে জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রকল্প সাইডে এসে বিষয়টি এলাকার লোকজনের সাথে বসে সমস্যার সমাধান করবেন তিনি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ