১০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ

  • Update Time : ০৯:১৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুমি উন্নয়ন কর আদায়, নামজারী আবেদন, ভুমি বন্দোবস্থসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বন্দোবস্থ তদন্ত রিপোর্ট ও বাজার ভিটের লাইসেন্স প্রদানে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। ছাতকের ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রমেন্দ্র তালুকদার উৎকোচ ছাড়া কোন কাজই করেনি এমন অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগি জানান, বাজার ভিট সহ লাইসেন্স প্রথা বা বিভিন্ন ভাবে দখলিয় সরকারি ভুমির উন্নয়ন কর হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। আর আদায় করা এসব টাকা নাম মাত্র সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে শতকরা ৯০ টাকাই পকেটস্থ করছেন তিনি। বাজার ভিটের প্রতি মালিকের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা(তহশীলদার) রমেন্দ্র তালুকদার এখানে যোগ দানের পর থেকেই এ কর্মকান্ড চলছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান। আজাদ মিয়া, শানুর আলী, গোলাম মোস্তফা, আরব আলী সহ ভুক্তভোগীরা জানান, মালিকানা জমির উন্নয়ন কর দিতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। নানা জটিলতা দেখিয়ে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরানোর পর ভুমি কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিয়ে ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হচ্ছে তাদের। অনাকাংখিত ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধে জটিলতা সৃষ্টি করায় জমি বিক্রি করেও শত-শত লোক ভুমি রেজিষ্ট্রি করতে পারছেন না। এতে মানুষের বিদেশ গমন সহ অনেক জটিলতায় পড়তে হয়েছে ভুমি মালিকদের। নির্ধারিত কোন দাগের উন্নয়ন কর না নিয়ে পুরো খতিয়ানের উন্নয়ন কর দিতে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে জটিলতা সৃষ্টি করে ভুমি মালিকদের হয়রানির ফাঁদে ফেলে অবৈধ ভাবে টাকা আদায় করে নেয়া হচ্ছে। আদায়কৃত টাকার ক্ষুদ্র অংশ রশিদে লিখে ভুমি মালিকদের হাতে রশিদ ধরিয় দেয়া হয়। ঝামেলা এড়াতে অনেক ভুমি মালিককে তা নিরবে মেনে নিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সহকারী কমিশনার ভুমির কার্যালয় থেকে তদন্তের জন্য প্রেরিত, রিভিউ, নামজারী, নামখারিজ বিষয়ের ফাইল টাকা ছাড়া নড়চড়ও করেন না এ কর্মকর্তা। আর্থিক চুক্তি হলেই তিনি কাজ করেন। অন্যতায় মাসের পর মাস অফিসে ধর্ণা দিতে হয় ভুক্তভোগিদের। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার নামে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে বেশ কয়েক জন নীরিহ-অসহায় লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে ভুমি কর্মকর্তা রমেন্দ্র তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রমেন্দ্র তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার উপর অর্পিত কাজ তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির মধ্যেই করে যাচ্ছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ

Update Time : ০৯:১৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুমি উন্নয়ন কর আদায়, নামজারী আবেদন, ভুমি বন্দোবস্থসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বন্দোবস্থ তদন্ত রিপোর্ট ও বাজার ভিটের লাইসেন্স প্রদানে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। ছাতকের ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রমেন্দ্র তালুকদার উৎকোচ ছাড়া কোন কাজই করেনি এমন অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগি জানান, বাজার ভিট সহ লাইসেন্স প্রথা বা বিভিন্ন ভাবে দখলিয় সরকারি ভুমির উন্নয়ন কর হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। আর আদায় করা এসব টাকা নাম মাত্র সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে শতকরা ৯০ টাকাই পকেটস্থ করছেন তিনি। বাজার ভিটের প্রতি মালিকের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা(তহশীলদার) রমেন্দ্র তালুকদার এখানে যোগ দানের পর থেকেই এ কর্মকান্ড চলছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান। আজাদ মিয়া, শানুর আলী, গোলাম মোস্তফা, আরব আলী সহ ভুক্তভোগীরা জানান, মালিকানা জমির উন্নয়ন কর দিতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। নানা জটিলতা দেখিয়ে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরানোর পর ভুমি কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিয়ে ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হচ্ছে তাদের। অনাকাংখিত ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধে জটিলতা সৃষ্টি করায় জমি বিক্রি করেও শত-শত লোক ভুমি রেজিষ্ট্রি করতে পারছেন না। এতে মানুষের বিদেশ গমন সহ অনেক জটিলতায় পড়তে হয়েছে ভুমি মালিকদের। নির্ধারিত কোন দাগের উন্নয়ন কর না নিয়ে পুরো খতিয়ানের উন্নয়ন কর দিতে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে জটিলতা সৃষ্টি করে ভুমি মালিকদের হয়রানির ফাঁদে ফেলে অবৈধ ভাবে টাকা আদায় করে নেয়া হচ্ছে। আদায়কৃত টাকার ক্ষুদ্র অংশ রশিদে লিখে ভুমি মালিকদের হাতে রশিদ ধরিয় দেয়া হয়। ঝামেলা এড়াতে অনেক ভুমি মালিককে তা নিরবে মেনে নিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সহকারী কমিশনার ভুমির কার্যালয় থেকে তদন্তের জন্য প্রেরিত, রিভিউ, নামজারী, নামখারিজ বিষয়ের ফাইল টাকা ছাড়া নড়চড়ও করেন না এ কর্মকর্তা। আর্থিক চুক্তি হলেই তিনি কাজ করেন। অন্যতায় মাসের পর মাস অফিসে ধর্ণা দিতে হয় ভুক্তভোগিদের। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার নামে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে বেশ কয়েক জন নীরিহ-অসহায় লোকের কাছ থেকে টাকা নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে ভুমি কর্মকর্তা রমেন্দ্র তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা রমেন্দ্র তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার উপর অর্পিত কাজ তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির মধ্যেই করে যাচ্ছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ