ছাতকের সিনিয়র সংবাদিক চান মিয়ার অকাল মুত্যুতে ছাতক প্রেসক্লাবের শোক সভা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৮:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি :: আপনজন হারানোর কান্না। অভিভাবক হারানোর শূন্যতা। শ্রমজীবী, দিনমজুর থেকে এমপি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবীদ ,সামাজিক গনমাধ্যম সবার চোখে অশ্রু। হাজারো মানুষের এমন কান্না আর ভালবাসায় চিরবিদায় জানানো হলো সিনিয়র সাংবাদিক চানঁ মিয়া কে । স্বজন সমাবেশ উপদেষ্টা, ছাতক প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি ও ইনকিলাব পত্রিকার ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি গত মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরীর রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন) । তাকে জানাজা নামাজ শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সাংবাদিক চান মিয়ার অকাল মৃত্যুতে একজন সাহসিক কলম সৈনিককে হারানোর শোকে আচ্ছন্ন পুরো উপজেলা। এ উপজেলার কালারুকা ইউপির রাজাপুর গ্রামে তার সংবাদকর্মীদের কান্না আর আহাজারি থামছে না।
তার জানাজা এবং দাফনে হাজারো মানুষের অশ্রূ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে ছাতকে আকাশ বাতাস। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বৃহত্তর শিল্প নগর ছাতকে।
৫২ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে সাংবাদিক চানঁ মিয়া।দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি ছাতক উপজেলার জনস্বার্থে ছিলেন আপোসহীন এক লড়াকু কলম সৈনিক। আমৃত্যু ছাতকে মাটি ও মানুষের পাশে থাকা কলম সৈনিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ছাতকে মাটিতেই। তাকে হারিয়ে কাঁদছে পুরো উপজেলা। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি ছিলেন গ্রহণযোগ্য এক কলম সৈনিক । এ খবরে হাসপাতালে রাতভর অপেক্ষমান হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকার্ত হাজার হাজার মানুষ ছুটতে থাকেন তার গ্রামে বাড়িতে। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছুটে যান রাজাপুর গ্রামে । সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজাপুর গ্রামকে ঘিরেই ছিল হাজারো মানুষের ভিড়।
আছর নামাজ শেষে তার বাড়ি থেকে সাংবাদিক চান মিয়ার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় বাজারে চত্বরে। বাদ আসর নামাজে জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও দুপুর থেকে রাজাপুর বাজারমুখী মানুষের স্রোত নেমে আসে ।
বিকালে সাড়ে ৫টায় নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন তার পুত্র হাফিজ শাহিন আলম।
জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাহাদাত লাহিন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আ ন ওহিদ কনা মিয়া, গোবিন্দনগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, ছাতক দোয়ারা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুস শহিদ মুহিত, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম, ছাতক পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ তিতুমীর, সামছুর রহমান সাসছু,নজরুল ইসলাম,রুহুল আমিন , ছাতক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, উত্তর খুরমা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, দৈনিক সমকালের সিলেট বুরো প্রধান মুকিত রহমানী, দৈনিক জনতার বুরো চীফ কামাল আহমদ, সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি তালুকদার মোঃ মকবুল হোসেন, কালারুকা ইউপি আ’ লীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাসুদ কামাল সুফি, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বুরাইয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল সিরাজুল ফারুকী, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল খায়ের, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি জমিরুল ইসলাম মমতাজ, আব্দুল হামিদ, ছাতক প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন জয়নাল আহমদ, মাওলানা সামছুল ইসলাম, কাজী সমিতির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কাজি আব্দুস সামাদ, বিএনপির নেতা আব্দুল মমিন, ফয়জুর রহমান, জিয়াউর রহমান জিয়া ,সদরুল আমিন সোহান,আশরাফ আহমদ তাহিদ,আশক আলী রানা, মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন লালা,জেলা জাগপা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বকুল, জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ এড.আবুল হাসান. ছাতক উপজেলা খেলাফত মজলিস সভাপতি মাওলানা আকতার হোসাইন. ইসলামপুর যুব ও সমাজ কল্যান সংস্থার সভাপতি মাওলানা আকিক হোসাইন।
তার জানাজায় হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি ছাতকবাসীর কত আপন ছিলেন। তার জীবদ্দশায় যদি কোন ভুল করে থাকেন অথবা কারো মনে যদি কোন কষ্ট দিয়ে থাকেন তার জন্য ক্ষমা চান ছাতক প্রেসক্লাবে সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। শোকাহত সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদারে এ বক্তব্যের সময় রাজারপুর জুড়ে কান্নার রোল উঠে। তার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত চলাকালে অসংখ্য মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ বিশেষত শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখের পড়ার মতো। সাংবাদিক চান মিয়াকে তার পারিবারিক কবরস্থানে পিতা আকল আলীর কবরের পাশে তাকে দাফন হয়। চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সিনিয়র সাংবাদিক চান মিয়া। সে পাচ পুত্র এক কন্যা স্ত্রীসহ অসংখ্য আত্নীয় স্বজন রেখে যান।
এদিকে বুধবার ছাতক প্রেসক্লাবের রোকেয়া ম্যানশন ২য় তলা অসহায় মানুষের বন্ধু সিনিয়র সংবাদিক চান মিয়ার অকাল মুত্যুতে এক শোক সভায় আয়োজন করা হয়। অালহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদারে সভাপতিত্বে আনোয়ার হোসেন রনির পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন আমিনুল ইসলাম হিরন, রেজাউল করিম রেজা, নুরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম সবুজ, নাজমুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, সদরুল আমিন, মাহবুর আলম, মুশাহিদ আলী প্রমুখ। সভার শেষে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।



















