০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকের বিলপারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

  • Update Time : ০৩:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে দু’শ্রমিক আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বিলপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত ফেরদৌস আহমদ বাবুল (৫০) ও সুমন মিয়া (২৫) উপজেলার নোয়ারাই এলাকার বাসিন্ধা বলে জানা গেছে।

 

জানা যায়, বিলপার গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত জামালখালী খাল দখল নিয়ে গ্রামের মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নামে দখল করতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ মসজিদের সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করে। এতে গ্রামের অপর একটি পক্ষের লোকজন বাঁধা হয়ে দাড়ায়। একারণে ক’দিন ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করে উত্তেজনা। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত, জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা, পেশি শক্তির দাপোটে রাধানগর মৌজার এসএ ২২১২দাগের সরকারী খালে অবৈধ ভাবে মার্কেট নির্মাণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গ্রামের আসরফ আলীর পুত্র রতন মিয়া ২৬ জানুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

 

এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা ওসি বরাবরে পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেল সোমবার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করে পূণরায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে শ্রমিক ও থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল। নির্মানাধিন স্থাপনা উচ্ছেদকালে দখলকারী পক্ষের লোকজনরা উচ্ছেদকারী শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর করে সরঞ্জামাদি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উপস্থিত ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশ নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরে থানার ওসি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেখানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অাসে এবং পূনরায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে আহত নোয়ারাই এলাকার ফেরদৌস আহমদ বাবুল (৫০) জানান, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গ্রামের লোকজন দেশিও অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে তিনিসহ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। গ্রামের জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফয়ছল আহমদের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

 

গ্রামের আবু তাহেরসহ একাধিক লোকজনরা বলেন, মসজিদ উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামবাসীর অর্থায়নে খাল ও রাস্তার মধ্যস্থানে একটি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাঁধা দিচ্ছে। নির্মানাধিন মার্কেট থেকে খালের দূরুত্ব প্রায় ৪০ ফুট ও রাস্তার দূরুত ২০ ফুট হবে। সরকারী রাস্তার উত্তর পাশে আজম আলীর নির্মানাধিন মার্কেট। এ মার্কেটটি অর্ধেক সরকারী ভূমিতে অবস্থিত। তিনি আরো বলেন, নির্মানাধিন মসজিদ মার্কেট উচ্ছেদ করতে গেলে গ্রামের যুবকরা প্রতিবাদ করে কিন্তু হামলা করেনি।

 

গ্রামের আকিক মিয়া জানান, উচ্ছেদ অভিযানের সময় গ্রামের লোকজনের মধ্যে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে মসজিদ মার্কেট নির্মাণকারী পক্ষের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে উচ্ছেদকারীদের উপর হামলা চালায়। এসময় গ্রামের কিছু লোক অভিযানকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ শ্রমিকদের নিরাপদে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। পরে ওসি নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করেন।

 

আজম আলী বলেন, তার নিজস্ব জায়গার উপর মার্কেট নির্মাণ হয়েছে, সরকারী ভূমিতে নির্মাণ করেন নাই। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানকারীদের উপর হামলা করা হলে তার বাড়িতে কর্মকর্তাসহ শ্রমিকরা আশ্রয় নেন। এসময় তার বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

 

 

এ ব্যাপারে থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখানে পুলিশের উপর কেউ হামলা বা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেনি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল বলেন, গ্রামবাসীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে শ্রমিকদের সাথে দস্তাদস্তি হয়। এতে দু’একজন শ্রমিক আহত হতে পারে। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকের বিলপারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

Update Time : ০৩:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে দু’শ্রমিক আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বিলপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত ফেরদৌস আহমদ বাবুল (৫০) ও সুমন মিয়া (২৫) উপজেলার নোয়ারাই এলাকার বাসিন্ধা বলে জানা গেছে।

 

জানা যায়, বিলপার গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত জামালখালী খাল দখল নিয়ে গ্রামের মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নামে দখল করতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ মসজিদের সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করে। এতে গ্রামের অপর একটি পক্ষের লোকজন বাঁধা হয়ে দাড়ায়। একারণে ক’দিন ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করে উত্তেজনা। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত, জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা, পেশি শক্তির দাপোটে রাধানগর মৌজার এসএ ২২১২দাগের সরকারী খালে অবৈধ ভাবে মার্কেট নির্মাণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গ্রামের আসরফ আলীর পুত্র রতন মিয়া ২৬ জানুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

 

এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা ওসি বরাবরে পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেল সোমবার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করে পূণরায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে শ্রমিক ও থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল। নির্মানাধিন স্থাপনা উচ্ছেদকালে দখলকারী পক্ষের লোকজনরা উচ্ছেদকারী শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর করে সরঞ্জামাদি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উপস্থিত ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশ নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরে থানার ওসি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেখানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অাসে এবং পূনরায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে আহত নোয়ারাই এলাকার ফেরদৌস আহমদ বাবুল (৫০) জানান, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গ্রামের লোকজন দেশিও অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে তিনিসহ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। গ্রামের জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফয়ছল আহমদের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

 

গ্রামের আবু তাহেরসহ একাধিক লোকজনরা বলেন, মসজিদ উন্নয়নের স্বার্থে গ্রামবাসীর অর্থায়নে খাল ও রাস্তার মধ্যস্থানে একটি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাঁধা দিচ্ছে। নির্মানাধিন মার্কেট থেকে খালের দূরুত্ব প্রায় ৪০ ফুট ও রাস্তার দূরুত ২০ ফুট হবে। সরকারী রাস্তার উত্তর পাশে আজম আলীর নির্মানাধিন মার্কেট। এ মার্কেটটি অর্ধেক সরকারী ভূমিতে অবস্থিত। তিনি আরো বলেন, নির্মানাধিন মসজিদ মার্কেট উচ্ছেদ করতে গেলে গ্রামের যুবকরা প্রতিবাদ করে কিন্তু হামলা করেনি।

 

গ্রামের আকিক মিয়া জানান, উচ্ছেদ অভিযানের সময় গ্রামের লোকজনের মধ্যে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে মসজিদ মার্কেট নির্মাণকারী পক্ষের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে উচ্ছেদকারীদের উপর হামলা চালায়। এসময় গ্রামের কিছু লোক অভিযানকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ শ্রমিকদের নিরাপদে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। পরে ওসি নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করেন।

 

আজম আলী বলেন, তার নিজস্ব জায়গার উপর মার্কেট নির্মাণ হয়েছে, সরকারী ভূমিতে নির্মাণ করেন নাই। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানকারীদের উপর হামলা করা হলে তার বাড়িতে কর্মকর্তাসহ শ্রমিকরা আশ্রয় নেন। এসময় তার বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

 

 

এ ব্যাপারে থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, উচ্ছেদ অভিযানকালে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখানে পুলিশের উপর কেউ হামলা বা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেনি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস শীল বলেন, গ্রামবাসীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে শ্রমিকদের সাথে দস্তাদস্তি হয়। এতে দু’একজন শ্রমিক আহত হতে পারে। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ