ছাতকের কৈতক হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. মোজাহারুলের বিরুদ্ধে তদন্ত
- Update Time : ০৩:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতক উপজেলার কৈতক ২০শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার মোজাহারুল ইসলামের দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও লুটপাটের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার তদন্ত হয়েছে। ডাক্তারের দূর্নীতির সংবাদ দৈনিক কালের কন্ঠ, দৈনিক সংবাদ সহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অর্ধ-শতাধিক অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে এ প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ সদরের টি এইচ ও ডাক্তার সৌমিত্র চক্রবর্তীকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। মঙ্গলবার তদন্তে নামে গঠিত ওই তদন্ত টিম। এদিকে তদন্ত কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করতে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালান ডা. মোজাহারুল ইসলাম। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন সোমবার হাসপাতালে তদন্তের সময় বহিরাগত কেউ যাতে না আসে এ ব্যবস্থা করার জন্য বললেও ডা. মোজাহারুল ইসলাম তার গঠিত অনুসারীদের আগে থেকেই হাসপাতালে এনে জড়ো করেন এবং তাদেরকে দিয়েই তদন্ত কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করিয়েছেন। তদন্ত টিমের ডা. আব্দুল্লাহ হিল মারুফ ফারুকী, ডা. সজীব প্রবীর ভূইয়া সহ সকলেই ডা. মোজাহারুল ইসলামের এহেন কার্যকলাপে বিব্রতবোধ করেছেন। পত্র-পত্রিকায় দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান ও অনুসারীদের দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছেন বিতর্কিত চিকিৎসক ডা. মোজাহারুল ইসলাম। গত ৭ জুন জাতীয় দৈনিক সংবাদের ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি তমাল পোদ্দারের সংবাদের জের ধরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তমাল পোদ্দারকে হুমকি-ধামকি দেন ডাঃ মোজাহারুল ইসলাম এবং তার কতিপয় অনুসারীদের দিয়ে ফেইসবুকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের কটুক্তি সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিয়েছেন। এ ঘটনায় ৭ জুন ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সাংবাদিক তমাল পোদ্দার। এর আগেও তার দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় আরেক সাংবাদিককে হুমকি-ধামকি দিয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায়ও থানায় জিডি হয়েছে। ডা. মোজাহারুল ইসলামের ফেইসবুক আইডি তদন্ত হলে অনেক অপকর্ম ধরা পড়বে। কাজেই তদন্ত টিম গঠন হওয়ার পরপরই তার ফেইসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে বলে থানায় জিডি করে তা প্রচার করছেন তিনি। গত এক দশক ধরে হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা একক প্রভাবশালী এই চিকিৎসকের নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সংবাদ প্রকাশ করে সাংবাদিকরা হুমকি-ধামকির শিকার হচ্ছেন। চেচান গ্রামের মুহিবুর রহমান তালুকদার টুনু, কৈতক গ্রামের ঈমান উদ্দিন, কানু ভৌমিক, আব্দুর রফিক, রাউলি গ্রামের ছানাওর আলী, ফয়জুল ইসলাম, দৌলতপুত গ্রামের নূরুজ্জামান ও স্থানীয় গণ্যমান্য, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য সহ বেশ কিছু লোকজন জানান, ডাঃ মোজাহারুল ইসলাম কৈতক হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের সুনাম দিনে-দিনে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অতীতে এ হাসপাতালে অনেক ডাক্তার সুনামের সাথে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। তার যোগদানের পর থেকেই এ হাসপাতালে কোনো ভালো ডাক্তার টিকে থাকতে পারেন নি। তাছাড়া তার অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন অনেকে। ওই ডাক্তারের একক আধিপত্যের কারণে এ হাসপাতালে কোনো শৃঙ্খলা নেই। হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তিনি যা যা করতে হয় তাই করে যাচ্ছেন। যারা ডাক্তারের আশেপাশে থেকে সবসময় ডাক্তারকে নিয়ে হোটেল-রেস্তোরায় আড্ডা দেয়, গুণগান করে ফেইসবুকে সাংবাদিকদের গালিগালাজ ও মানববন্ধন করছে তারা রোগী নয়, ডাক্তারের সুবিধাভোগী অনুসারী। এ ডাক্তারের অপসারণের দাবিতে হাসপাতালের নার্স, স্টাফরাও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। জাহানারা বেগম, আছমা খাতুন, সাফিয়া বেগম সহ একাধিক মহিলা রোগী জানান, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে ডাঃ মোজাহারুল ইসলাম ছবি তুলে ফেইসবুকে রোগীর ছবি আপলোড করেন। এতে তাদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। এরকম আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে এ বিতর্কিত ডাক্তারের বিরুদ্ধে। গত ১৬ জুন ডাক্তার মোজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (প্রশাসন) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নূরুজ্জামান। ২৪ জুন কৈতক হাসপাতালের দু’নার্সের বিরুদ্ধেও তদন্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করিয়েছিলেন ডা. মোজাহারুল ইসলাম। তদন্তের দিন তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে নার্সদের বিরুদ্ধে তদন্ত টিমের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দাড় করিয়েছেন। কয়েকজন ভুয়া রোগী সেজে তদন্ত টিমের সাথে কথা বলেছে। ডা. মোজাহারুল ইসলামের কাছে কৈতক হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগী ছাড়া অর্ধ-শতাধিক লোক আনাগোনা করে, আড্ডা দিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ বিনষ্ট করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার ডাক্তারের বিরুদ্ধে যে তদন্ত হয়েছে তা ডাক্তারের অনুসারীদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে বলেও শংকা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



























