চার রাকাত নামাজ হয়ে যেতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ কামাই!
- Update Time : ১২:৫২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
রশীদ জামীল
চাচা! আমি কি আপনাকে কিছু দেব?
চাচা! আমি কি আপনাকে কিছু হাদিয়া দেব?
চাচা! আমি কি আপনাকে একটি গুড নিউজ দেব?
ও চাচা! আমি কি আপনাকে এমন দশটি কাজের কথা বলব, আপনি যদি সেগুলোক গুরুত্বের সাথে আমলে নেন, তাহলে আল্লাহ আপনার দশ রকমের গোনাহ মাফ করে দেবেন…
চাচার নাম আব্বাস। ভাতিজা হলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ভাতিজা চাচাকে কী উপহার দিলেন, জানার আগে কিছু প্রসঙ্গ কথা।
চুলকানি রোগিদের একটা কমন স্বভাব হল, যেকোনো জায়গায় চুলকানো। চুলকিয়ে ঘা করে ফেলবে তবুও চিকিত্সা করাতে রাজি হবে না। সুনানে আবিদাউদ, জামে’ তিরমিযি এবং সুনানে ইবনে মাযা’য় বর্ণিত হয়েছে আলোচ্য হাদিসটি। হাদিস শাস্ত্রের বিশুদ্ধতম ছয় কিতাব, এক কথায় যেগুলোকে বলাহয় সেহাহ সিত্তাহ, তারমধ্যে অন্যতম তিন কিতাবেই এসছে হাদিসটি। কিন্তু মজ্জায় অ্যালার্জির ভাইরাস বহনকারি ঘি’র মাঝে কাটা বাছা প্রজাতি বসে বসে চুলকাতে থাকে। হাদিসটি গ্রহণ করা যাবে কিনা, হাদিসটি সিহহতের প্রশ্নে গ্রহনযোগ্য কিনা…ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাঁরা যারা, ছোট হোন বড় হোন, নতুন হোন বা পুরনো কেউ, সবার প্রতি আমাদের পরিস্কার বক্তব্য হল, আপনারা বসে বসে চুলকাতে থাকুন। আমরা হাদিসটিতে আমল করতে চাই। চুলকানো আপনাদের সমস্যা, আমাদের না।
আপনারা বলবেন, হাদিসের বর্ণনাসূত্র দুর্বল!
আপনারা বলবেন, হাদিসটি নিয়ে কথা আছে!
আপনারা বলবেন, মুহাদ্দিসীনগণ প্রশ্ন তুলেছেন!
ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন, বিশ্বনবীর একটি কথা, কথাটি যদি পৃথিবীর সবচে’ দুর্বল সূত্রেও আমাদের কাছে এসে পৌঁছে থাকে, সেই কথাটিকে আমরা আপনাদের, মানে পৃথিবীর তাবৎ আলিম-উলামা আর হাদিস বিশারদদের সামষ্টিক কথামালা থেকেও বেশি মূল্যবান মনে করব। এতে আপনাদের সমস্যা হলে আমাদের কিছুই করার নেই।
কী সেই উপহার
নবীজির দিয়ে সেই বিশেষ উপহারের নাম ‘সালাতুত তাসবিহ’।
এই নামাজ নবী নিজে পড়েছেন। চাচাকে উদ্ভুদ্ধ করেছেন পড়তে।
কী হয় এই নামাজে
নবীজি চাচা আব্বাসকে বললেন, ও চাচা! আমি আপনাকে যে আমলের কথা বলছি, সেই আমল করলে আপনার দশ ধরণের গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ
سِرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ
আল্লাহপাক আপনার
-আগের গোনাহ
-পরের গোনাহ
-পুরনো গোনাহ
-নতুন গোনাহ
-ভুলে করা গোনাহ
-ইচ্ছাকৃত গোনাহ
-ছোট গোনাহ
-বড় গোনাহ
-লুকিয়ে করা গোনাহ
-প্রকাশ্য গোনাহ
এই দশ ধরনের গোনাহ মাফ করে দেবেন।
সূত্র: সুনানে আবুদাউদ/১২৯৭
কীভাবে পড়তে হয় এই নামাজ?
কিছু কিছু নফল নামাজ আছে যেগুলো ফরজ ওয়াজিব থেকে বড় না হলেও বেশি লোভনীয়। এমন একটি নামাজ হল নবীজির এই বিশেষ উপহার ‘সালাতুত তাসবিহ’। সালাতুত তাসবিহ চার রাকাত নামাজ। সাধারণ চার রাকাত সুন্নত নামাজের মত এই নামাজেও প্রতি রাকাতে সুরায়ে ফাতিহার সাথে অন্য একটি সুরা পড়তে হয়। আর প্রতি রাকাতে একটি বিশেষ দোয়া ৭৫ বার করে পড়া লাগে। দোয়াটি হল,
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।
কখন পড়তে হয় এই নামাজ
প্রথম নিয়ম:
সুরায়ে ফাতিহার আগে ১৫ বার
রুকুতে যাবার আগে ১০ বার
রুকুর তসবি’র পর ১০ বার
রুকু থেকে দাড়িয়ে ১০ বার
সেজদায় সেজদার তসবি’র পর ১০ বার
দুই সেজদার মধ্যেখানে বসে ১০ বার
দ্বিতীয় সেজদার তসবির পর ১০ বার
মোট ৭৫ বার। দ্বিতীয় তৃতীয় এবং চতুর্থ রাকাতেও ঠিক তাই।
দ্বিতীয় নিয়ম
রুকুতে যাবার আগে ১৫ বার
রুকুর তসবি’র পর ১০ বার
রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ১০ বার
সেজদায় সেজদার তসবি’র পর ১০ বার
দুই সেজদার মধ্যেখানে বসে ১০ বার
দ্বিতীয় সেজদার তসবির পর ১০ বার
দাড়ানোর আগে বসে ১০ বার।
দুই নিয়মের যেকোনো একভাবে পড়া যাবে। প্রতি রাকাতে ৭৫ বার হলে চার রাকাতে হবে হবে ৩০০ বার।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য: ১
সাতটি অবস্থানের কোথাও দোয়াটি পড়তে ভুলে গেলে পরের রুকনে পড়ে নেয়া যাবে। নামাজের ভেতরের সাতটি ফরজকে নামাজের রুকন বলা হয়। যেমন, দাঁড়ানো, রুকু করা, সেজদা করা, শেষ বৈঠক…। দোয়াটি কোথাও পড়তে ভুলে গেলে পরের কোনো রুকনে পড়ে নিলেও হবে। কিন্তু রুকন ছাড়া অন্যত্র পড়লে হবে না।
যেমন,
প্রথম রাকাতে সুরায়ে ফাতিহার আগে পড়া হয়নি। সেটা রুকুতে যাবার আগে দাঁড়ানো অবস্থায় পড়ে নেয়া যাবে(১০+১৫=২৫ বার)।
রুকুতে যাবার আগে দাঁড়ানো অবস্থায় ১০ বার পড়ার কথা মনে নেই। রুকুতে চলে যাবার পর মনে পড়েছে। সমস্যা নাই। রুকুতে আদায় করে নেয়া যাবে(১০+১০=২০ বার)। তবে কাউমা এবং জলসায় ভুলত্রমে ছুটে যাওয়া আগেরগুলো পড়া যাবে না। কারণ, কাউমা এবং জলসা নামাজের রুকন নয়। এগুলো নামাজের ওয়াজিব।
(রুকু থেকে ব্যাক করে দাঁড়ানো অবস্থার নাম কাউমা। দুই সেজদার মধ্যেখানে বসার নাম জলসা।)
এমনকি কোথাও যদি দোয়াটির কিছু সংখ্যা বা পুরোটাই ছুটে যায়, তাহলে সালাম ফেরানোর আগে শেষ বৈঠকেও আদায় করে নেয়া যাবে।
জ্ঞাতব্য: ২
সালাতুত তাসবিহ পড়ার সর্বোত্তম টাইম হল বা’দায-যাওয়াল, অর্থাৎ দুপুরবেলা জুহরের ওয়াক্ত শুরু হবার পর, জুহরের নামাজের আগে। তবে জরুরি না যে, এই সময়েই পড়তে হবে। নিষিদ্ধ তিন টাইম ছাড়া ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময়েই এই নামাজ পড়া যাবে।
নামাজের নিষিদ্ধ তিন সময় হল, সূর্যোদয়ে সময় ২৩ মিনিট, দুপুরবেলা অর্থাৎ জুহরের ওয়াক্ত শুরুর আগের ২৩ মিনিট এবং
সূর্যাস্তের ঠিক আগের ২৩ মিনিট।
জ্ঞাতব্য: ৩
সালাতুত তাসবিতে কোন কোন সুরা পড়তে হয়?
এই নামাজ যে কোনো সুরা দিয়েই পড়া যাবে। বিশেষ কোনো সুরা পড়তেই হবে, এমন কোনো বাধ্যকতা নেই। অবশ্য কিছু কিছু মাশাখের পরামর্শ হল, সুরায়ে যিলযাল, সুরায়ে আদিয়াত, সুরায়ে তাকাসুর, সুরায়ে আসর, সুরায়ে কাফিরূন, সুরায়ে নাসার এবং সুরায়ে এখলাস, এই সুরাগুলোর মধ্য হতে চারটি সুরা দ্বারা চার রাকাত আদায় করা উত্তম।
জ্ঞাতব্য: ৪
এই নামাজ অবশ্যই জামাতের সাথে। আদায় করা যাবে না। একা একা পড়তে হবে, এবং নিরিবিলি পরিবেশে আদায় করলে ভাল।
এই নামাজ কতবার পড়ার কথা
নবীজি তাঁর চাচাকে বললেন, ও চাচা’
إن استطعت أن تصليها في كل يوم مرة فافعل ، فإن لم تفعل ففي كل جمعة مرة ، فإن لم تفعل ففي كل شهر مرة ، فإن لم تفعل ففي كل سنة مرة ، فإن لم تفعل ففي عمرك مرة ) .
যদি সম্ভব হয়, তাহলে এই নামাজটি ডেইলি একবার পড়বেন।
যদি না পারেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে একবার।
না পারলে মাসে একবার পড়বেন।
মাসে না পারলে বছরে একবার।
তাও যদি না পারেন, তাহলে লাইফে অন্তত একবার হলেও এই নামাজটি পড়ে নিয়েন।
ম্যাসেজ খুবই ক্লিয়ার। আমরা আমাদের সবদিক মাথায় রেখে মাসে একবারের স্ক্যাজুয়েল বানিয়ে নিতে পারি। বিশ্ব অলস হলে জীবনে অন্তত একটিবার নামাজটি পড়ে নিউ। আর জীবনের যেহেতু কোনো ডেডলাইন আমাদের জানা নেই, সুতরাং নামাজটা আজই আদায় করে নিই। আর আজকের এই ‘আজ’ থেকে উত্তম মুহূর্ত আর কী হতে পারে। একে তো রমযান, আবার ২৭শে রমযানের রাত, সম্ভাব্য শবে কদর!
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ
সুযোগ সন্ধানি মুসলমানরা যেনো আবার এই বিভ্রান্তির দলদলে গলা ডুবিয়ে বসে না থাকেন যে, এতদিনে একটা ভাল জিনিষ পাইছি। কোনোরকম একবার নামাজটা পড়ে ফেলি। তারপর…
‘দুনিয়াটা মস্ত বড়
খাও ধাও ফুর্তি করো’
যেহেতু আগের পিছের ছোটবড় সব গোনাহ মাফ!
ভুলেও যেনো এই ভুল না করা হয়। ফরজ ওয়াজিব ছেড়ে দিলে নফল থেকে ফায়দা হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা ধরে রাখা যায় না। সহজ উদাহরণ হচ্ছে ঝুড়ি। ফরজ ওয়াজিব হল ঝুড়ির তলা। তলাবিহীন ঝুড়িতে যত মূল্যবান জিনিসই রাখা হোক, গন্তব্যে গিয়ে আর পাওয়া যায় না। বটমলেস বাস্কেট কোনো কাজের জিনিস না।
লাইলাতুল মোবারক বিশ্ব মুসলিমের জন্য মোবারক হোক।



















