গোয়াইনাঘাটে ‘অজানা আতঙ্কে’ বিএনপি-জামায়াত!
- Update Time : ০৫:২৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জানুয়ারি ২০১৯
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেয হলেও অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ইমরান আহমদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীর মধ্যে আশার আলো জেগেছিল। কিন্তু ফলাফল তাদের অনুক’লে আসেনি। ফলে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ উপজেলা বিএনপি, জামায়াতসহ প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, জামায়াত ও অঙ্গসংগঠন এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের একটি তালিকা তৈরী করে। নির্বাচনের দু-এক দিন পূর্বে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহপরান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ ইকবাল নেহাল, মাহবুব আহমদ, খালেদ আহমদসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করে থানা পুলিশ।
অপর দিকে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীর মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের সংখ্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নৌকার সমর্থকই বেশি। নির্বাচনের পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর ইমরান আহমদ এমপি গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দেখতে যান। এ সময় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি আব্দুল জলিল। আরো কয়েকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামলার জালে জড়িয়ে যাওয়া নেতাকর্মীরা এখন আতঙ্কে দিনযাপন করছেন। কে কখন গ্রেফতার হন, কার বিরুদ্ধে কখন নতুন মামলা হয়-এসব আতঙ্ক নিয়ে কাটছে তাদের সময়। এ বিষয়ে ‘হয়রানিতে পড়ার ভয়ে’ কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না। উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীই এখন রাতে বাড়িতে থাকছেন না বলেও জানা গেছে।





























