১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোয়াইনঘাটে দুই নেতায় বন্দী আওয়ামী লীগ

  • Update Time : ০৬:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

এম এ মতিন :: দুই নেতার মধ্যে বন্দী রয়েছে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তিন বারসহ মোট পাচঁবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনটি বৃহৎ অংশীদার রয়েছে। সারা দেশের ন্যায় সিলেট-৪ আসনও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধীষ্টিত হওয়ার পর উন্নয়ন পরিক্রমায় পিছিয়ে নেই। গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এ আসন থেকে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ আওয়ামী লীগের ব্যণারে নির্বাচন করে ৬ বার জয়লাভ করেছেন। আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচ্য হলেও বর্তমানে এই আসনের সর্বাদিক বৃহৎ উপজেলা গোয়াইনঘাটে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে অনেটা দূর্বল হয়ে পড়েছে।

 

সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটই দলটির সাংগঠনিক দূর্বলতা প্রমাণ করে। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ৪র্থ স্থানে ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ও তরুণ নেতারা মনে করেন দীর্ঘদিন থেকে দুই নেতার মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ বন্দী হয়ে পড়েছে। বিধায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছেনা। সদ্য বিদায়ী পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়েছে। অনেক নেতাকর্মী রাগ অনুরাগ ও ক্ষোভে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছেন। বিদায় দলীয় প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ ও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে হতাশার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় তৈরী হত বলে তারা মনে করেন। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হত।

 

একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা জানান- ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাক-ঢোল বাজিয়ে গভীর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গোয়াইনঘাট সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপিসহ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মাদ ইব্রাহিমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মো. গোলাম কিবরিয়াকে হেলালকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করেন জেলা আওয়ামী লীগ। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আজ প্রায় ৫ বছর হতে চলেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দুইজন নেতা থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সরে আসতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তরুণ ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যে রাগ, অনুরাগ, হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে দীর্ঘদিন থেকে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

গোয়াইনঘাটে দুই নেতায় বন্দী আওয়ামী লীগ

Update Time : ০৬:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯

এম এ মতিন :: দুই নেতার মধ্যে বন্দী রয়েছে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তিন বারসহ মোট পাচঁবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সংগঠনটি বৃহৎ অংশীদার রয়েছে। সারা দেশের ন্যায় সিলেট-৪ আসনও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধীষ্টিত হওয়ার পর উন্নয়ন পরিক্রমায় পিছিয়ে নেই। গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এ আসন থেকে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ আওয়ামী লীগের ব্যণারে নির্বাচন করে ৬ বার জয়লাভ করেছেন। আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচ্য হলেও বর্তমানে এই আসনের সর্বাদিক বৃহৎ উপজেলা গোয়াইনঘাটে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে অনেটা দূর্বল হয়ে পড়েছে।

 

সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটই দলটির সাংগঠনিক দূর্বলতা প্রমাণ করে। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ৪র্থ স্থানে ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ও তরুণ নেতারা মনে করেন দীর্ঘদিন থেকে দুই নেতার মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ বন্দী হয়ে পড়েছে। বিধায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছেনা। সদ্য বিদায়ী পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়েছে। অনেক নেতাকর্মী রাগ অনুরাগ ও ক্ষোভে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছেন। বিদায় দলীয় প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ ও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে হতাশার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় তৈরী হত বলে তারা মনে করেন। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হত।

 

একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা জানান- ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাক-ঢোল বাজিয়ে গভীর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গোয়াইনঘাট সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপিসহ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মাদ ইব্রাহিমকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মো. গোলাম কিবরিয়াকে হেলালকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করেন জেলা আওয়ামী লীগ। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আজ প্রায় ৫ বছর হতে চলেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দুইজন নেতা থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সরে আসতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তরুণ ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যে রাগ, অনুরাগ, হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে দীর্ঘদিন থেকে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ