০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোয়াইনঘাটে এক সেতুতে দূর্ভোগে ৫টি গ্রামের বাসিন্দা

  • Update Time : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় রুস্তুমপুর ইউনিয়নের পিরেরবাজার-গোজারকান্দি সড়কে শিংকুড়ী খালের ওপর সংযোগ সেতুর অভাবে বিপাকে দুই উপজেলার ৫টি গ্রামের কয়েক হাজারও মানুষ। তবে শুষ্ক মৌসুমে যাতায়াতের সুবিধার্থে গ্রামবাসীরা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে খালের ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন সাঁকো।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেতুর অভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়ন, তোয়াকুল ইউনিয় ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনীখাই ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ডের কাঁঠালবাড়ী কান্দি, গোজার কান্দি, চিরুরপার, পাড়ার খেও ললিতা কান্দিসহ পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে আছেন। উপজেলা সদর থেকে ওই গ্রামগুলোর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। শিংকুড়ি খালের ওপর সংযোগ সেতু না থাকায় বসন্ত কিংবা বর্ষা কাল বলে কিছুই নয় সর্বদাই বিছিন্ন থাকে পাঁচটি গ্রাম।

 

জানা গেছে, যুগ যুগ ধরে উক্ত গ্রাম গুলোর ভোক্তভোগীরা উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নেন পিরেরবাজার-গোজার কান্দি সড়কের শিংকুড়ি খালে ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারপরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এসব গ্রামগুলোতে। স্থানীয়দের উদ্যোগে খালের ওপর একটি সাঁকো থাকলেও সেটি বর্ষার সময় পানির নিচে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে তাই স্থানীয়দের উদ্যোগে চলাচলের জন্য শিংকুড়ি খালের ওপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন গ্রামবাসী। এই কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন ২-৩ গ্রামের শতাধিক মানুষ।

 

এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের, হাসান জামিল জানান, বর্ষার ৪-৫ মাস শিংকুড়ি খালে পাহাড়ী স্রোত থাকায় নিয়মিত স্কুল কলেজে যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অসুস্থ রোগীদের ঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। ফলে ওই সময় এলাকাবীর জীবনযাত্রা থমকে থাকে। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হতে দুর্ঘটনাও ঘটে। তাই দ্রæত গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে একটি সংযোগ সেতু স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গোজার কান্দি গ্রামের কৃষক হেমন্ত বিশ্বাস জানান, তাদের এলাকায় উৎপাদিত ফসল শুধু শীত মৌসুমে বিক্রি করা যায়। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা যায় না। কারণ সেতু না থাকায় পণ্য বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না।

 

এলাকার বাসিন্দা আবদুল হক জানান, খালের ওপারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। বর্ষার সময় অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠান না। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি হয়না। তিনি বলেন, ‘সংযোগ সেতুর অভাবে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে তারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রæত ধলিয়া খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারের আমলে সেতু করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও কেউ কথা রাখেননি। তাই হাজার হাজার মানুষের কথা বিবেচনা করে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

 

গোয়াইনঘাট উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেন্দ্র চন্দ্র বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাহিদার ভিত্তিতে শিংকুড়ি খালের ওপর সংযোগ সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ামেয়র এবং এলজিইডির প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। চলতি বছরেই সেতুটি নির্মাণ করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন আমাকে জানিয়েছে। রাস্তা দিয়ে, চিরুরপার সর: প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনোরপাড় আজির উদ্দিন সর:প্রাথমিক বি:, গোজারকান্দি সর:প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিফতাহুল উলুম গোজারকান্দি মাদ্রাসার ছাত্র /ছাত্রীরা যাতায়াত করে।”

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

গোয়াইনঘাটে এক সেতুতে দূর্ভোগে ৫টি গ্রামের বাসিন্দা

Update Time : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় রুস্তুমপুর ইউনিয়নের পিরেরবাজার-গোজারকান্দি সড়কে শিংকুড়ী খালের ওপর সংযোগ সেতুর অভাবে বিপাকে দুই উপজেলার ৫টি গ্রামের কয়েক হাজারও মানুষ। তবে শুষ্ক মৌসুমে যাতায়াতের সুবিধার্থে গ্রামবাসীরা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে খালের ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন সাঁকো।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেতুর অভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়ন, তোয়াকুল ইউনিয় ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনীখাই ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ডের কাঁঠালবাড়ী কান্দি, গোজার কান্দি, চিরুরপার, পাড়ার খেও ললিতা কান্দিসহ পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে আছেন। উপজেলা সদর থেকে ওই গ্রামগুলোর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। শিংকুড়ি খালের ওপর সংযোগ সেতু না থাকায় বসন্ত কিংবা বর্ষা কাল বলে কিছুই নয় সর্বদাই বিছিন্ন থাকে পাঁচটি গ্রাম।

 

জানা গেছে, যুগ যুগ ধরে উক্ত গ্রাম গুলোর ভোক্তভোগীরা উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নেন পিরেরবাজার-গোজার কান্দি সড়কের শিংকুড়ি খালে ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারপরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এসব গ্রামগুলোতে। স্থানীয়দের উদ্যোগে খালের ওপর একটি সাঁকো থাকলেও সেটি বর্ষার সময় পানির নিচে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে তাই স্থানীয়দের উদ্যোগে চলাচলের জন্য শিংকুড়ি খালের ওপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন গ্রামবাসী। এই কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন ২-৩ গ্রামের শতাধিক মানুষ।

 

এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের, হাসান জামিল জানান, বর্ষার ৪-৫ মাস শিংকুড়ি খালে পাহাড়ী স্রোত থাকায় নিয়মিত স্কুল কলেজে যেতে পারে না শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অসুস্থ রোগীদের ঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। ফলে ওই সময় এলাকাবীর জীবনযাত্রা থমকে থাকে। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হতে দুর্ঘটনাও ঘটে। তাই দ্রæত গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে একটি সংযোগ সেতু স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গোজার কান্দি গ্রামের কৃষক হেমন্ত বিশ্বাস জানান, তাদের এলাকায় উৎপাদিত ফসল শুধু শীত মৌসুমে বিক্রি করা যায়। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা যায় না। কারণ সেতু না থাকায় পণ্য বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না।

 

এলাকার বাসিন্দা আবদুল হক জানান, খালের ওপারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। বর্ষার সময় অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠান না। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি হয়না। তিনি বলেন, ‘সংযোগ সেতুর অভাবে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে তারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রæত ধলিয়া খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারের আমলে সেতু করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও কেউ কথা রাখেননি। তাই হাজার হাজার মানুষের কথা বিবেচনা করে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

 

গোয়াইনঘাট উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেন্দ্র চন্দ্র বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাহিদার ভিত্তিতে শিংকুড়ি খালের ওপর সংযোগ সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ামেয়র এবং এলজিইডির প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। চলতি বছরেই সেতুটি নির্মাণ করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন আমাকে জানিয়েছে। রাস্তা দিয়ে, চিরুরপার সর: প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনোরপাড় আজির উদ্দিন সর:প্রাথমিক বি:, গোজারকান্দি সর:প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিফতাহুল উলুম গোজারকান্দি মাদ্রাসার ছাত্র /ছাত্রীরা যাতায়াত করে।”

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ