০৮:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে রাস্তা সংস্কারের দাবীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি

  • Update Time : ০২:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ১৪/১৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক উত্তর আলমপুর-মাসুরা রাস্তাটি সংস্কারের দাবীতে সিলেটের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী (যার ডকেট নং- ২০৬)।

 

 

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, বাদেপাশা ইউনিয়নের উত্তর আলমপুর, কোনাগাঁও, কুলিয়া, কাটাখালেরপার, কেওট কোনা, দক্ষিণ আলমপুর, ছেগা, সোনারপাড়া, কালাইম, সুপাটেক, বাংজিওল, শান্তিরবাজার, ইসলামপুর, বাদেপাশা, বাগলা গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ জনগণের একমাত্র চলাচলে রাস্তা উত্তর আলমপুর-মাসুরা রাস্তা। যার দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ছিলো ২০ ফুট। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সংস্কার না করায় উত্তর আলমপুর খালের ভাঙ্গনে সড়কের একের পর এক অংশ ক্রমেই বিলীন হচ্ছে। ২০ ফুট প্রস্থ সড়ক এখন পায়ে হাটা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পায়ে হেটেও যাওয়া যায়না। যে রাস্তা দিয়ে ৩ বছর আগে অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস চলাচল করতে সেই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

 

বাদেপাশা ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদেরকে ভাদেশ্বর কলেজ, ভাদেশ্বর মডেল মাদ্রাসা, ভাদেশ্বর মহিলা কলেজ, ভাদেশ্বর হাফিজায় মাদ্রাসা, নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং ঢাকাদক্ষিণ বিশ্ববিদ্যালয়, গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমীতে যেতে হয় উক্ত রাস্তা দিয়ে। বন্যা ও বৃষ্টি হলে সে সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ জনগণ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে পায়ে হেটে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করছেন।

 

 

এছাড়াও গ্রামগুলোতে কোন হাসপাতাল না থাকায় গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ভাদেশ্বর, ঢাকাদক্ষিণ, গোলাপগঞ্জ ও সিলেট শহরে আসতে হয় উক্ত রাস্তা দিয়ে। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে বাঁশের মাচাঙ্গ দিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই রোগী রাস্তাতেই মারা যান। রাস্তার কারণে গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসা সেবা থেকে ও কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

 

রাকুয়ার বাজার সিলেটে অন্যতম প্রাচীনতম গরুর হাট। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতাগণ গরু ক্রয়ের জন্য আসেন। বর্তমানে রাস্তা কারণে দিন দিন উক্ত বাজারের ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতার সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। প্রবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে কোন ব্যাংক না থাকায় প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ উত্তোলন করতে গ্রামবাসীকে ভাদেশ্বর, ঢাকাদক্ষিণ ও গোলাপগঞ্জ যেতে হয়। রাস্তা জরাজির্ণ হওয়া কারণে অনেক সময় টাকা নিয়ে ফিরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হয়েছে অনেককে।

 

 

সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় টহল পুলিশের গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলতে পারে না। এতে অপরাধীদের দৌরাত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামের কোন বাড়িতে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গ্রামগুলোতে যেতে না পারায় অনেক পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। উত্তর আলমপুর-মাসুরা রাস্তার অর্ধকিলোমিটার বাদেপাশা ইউনিয়নে এবং আড়াই কিলোমিটার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের আওতাধিন হওয়ায় কোন চেয়ারম্যানই এই রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে আসেননি।

 

 

জনপ্রতিনিধিগণ বার বার রাস্তা সংস্কারের আশ্বস দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গ্রামবাসী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

গোলাপগঞ্জে রাস্তা সংস্কারের দাবীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি

Update Time : ০২:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ১৪/১৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক উত্তর আলমপুর-মাসুরা রাস্তাটি সংস্কারের দাবীতে সিলেটের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী (যার ডকেট নং- ২০৬)।

 

 

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, বাদেপাশা ইউনিয়নের উত্তর আলমপুর, কোনাগাঁও, কুলিয়া, কাটাখালেরপার, কেওট কোনা, দক্ষিণ আলমপুর, ছেগা, সোনারপাড়া, কালাইম, সুপাটেক, বাংজিওল, শান্তিরবাজার, ইসলামপুর, বাদেপাশা, বাগলা গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ জনগণের একমাত্র চলাচলে রাস্তা উত্তর আলমপুর-মাসুরা রাস্তা। যার দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ছিলো ২০ ফুট। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সংস্কার না করায় উত্তর আলমপুর খালের ভাঙ্গনে সড়কের একের পর এক অংশ ক্রমেই বিলীন হচ্ছে। ২০ ফুট প্রস্থ সড়ক এখন পায়ে হাটা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পায়ে হেটেও যাওয়া যায়না। যে রাস্তা দিয়ে ৩ বছর আগে অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস চলাচল করতে সেই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

 

বাদেপাশা ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদেরকে ভাদেশ্বর কলেজ, ভাদেশ্বর মডেল মাদ্রাসা, ভাদেশ্বর মহিলা কলেজ, ভাদেশ্বর হাফিজায় মাদ্রাসা, নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং ঢাকাদক্ষিণ বিশ্ববিদ্যালয়, গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমীতে যেতে হয় উক্ত রাস্তা দিয়ে। বন্যা ও বৃষ্টি হলে সে সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ জনগণ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে পায়ে হেটে উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করছেন।

 

 

এছাড়াও গ্রামগুলোতে কোন হাসপাতাল না থাকায় গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ভাদেশ্বর, ঢাকাদক্ষিণ, গোলাপগঞ্জ ও সিলেট শহরে আসতে হয় উক্ত রাস্তা দিয়ে। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে বাঁশের মাচাঙ্গ দিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই রোগী রাস্তাতেই মারা যান। রাস্তার কারণে গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসা সেবা থেকে ও কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

 

রাকুয়ার বাজার সিলেটে অন্যতম প্রাচীনতম গরুর হাট। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতাগণ গরু ক্রয়ের জন্য আসেন। বর্তমানে রাস্তা কারণে দিন দিন উক্ত বাজারের ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতার সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। প্রবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে কোন ব্যাংক না থাকায় প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ উত্তোলন করতে গ্রামবাসীকে ভাদেশ্বর, ঢাকাদক্ষিণ ও গোলাপগঞ্জ যেতে হয়। রাস্তা জরাজির্ণ হওয়া কারণে অনেক সময় টাকা নিয়ে ফিরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হয়েছে অনেককে।

 

 

সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় টহল পুলিশের গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলতে পারে না। এতে অপরাধীদের দৌরাত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামের কোন বাড়িতে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গ্রামগুলোতে যেতে না পারায় অনেক পরিবার তাদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। উত্তর আলমপুর-মাসুরা রাস্তার অর্ধকিলোমিটার বাদেপাশা ইউনিয়নে এবং আড়াই কিলোমিটার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের আওতাধিন হওয়ায় কোন চেয়ারম্যানই এই রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে আসেননি।

 

 

জনপ্রতিনিধিগণ বার বার রাস্তা সংস্কারের আশ্বস দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গ্রামবাসী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ