গরীবের ডাক্তারের সুস্থতা কামনায় ছাতকে মসজিদে মসজিদে দোয়া- মোনাজাত
- Update Time : ০৬:১৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক থেকে :: সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার মইন উদ্দিন মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষঞ্জ সিলেটের প্রথম করোনা পজিটিভ পারসন। তাকে নিয়ে, বিভিন্ন টিভি, লাইভে ও
ফেসবুকে বলার চেষ্টা করেছে। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক শিল্পনগরী উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে সন্তান। তাকে সিলেটের মানুষ গরীবের ডাক্তার বলে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছেন। করোনা আক্রান্ত সংবাদ
পেয়ে ছাতকে প্রতিটি ঘরে ঘরে তার সুস্ততা কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্টিত হয়েছে। তিনি ডাক্তার হয়ে প্রথমে ছাতক উপজেলা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হয়ে যোগদান করে ছাতকে ধারনা বাজার গোবিন্দগঞ্জ ও নাদাম পুর গ্রামে
শ’শ’ফ্রি রোগি মানবিক সেবা দিয়ে আসছে। তিনি মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষঞ্জ হবার পর প্রতি সপ্তাহের ১-২দিন তার নিজ বাড়ি এসে বিনা টাকা ফ্রি রোগি দেখে সময় খাটতে পছন্দ করতেন তিনি।দীর্ঘ ২যুগ ধরে গরীবের জন্য সবকিছু ফ্রি
সেবা দিয়ে আসেন ডাক্তার মইন উদ্দিন। অাজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর অর্ধশতাধিক জামে মসজিদে করোনায় আক্রান্ত ডাক্তার মইন উদ্দিনের সুস্ততা কামনায় মোনাজাত করা
হয়েছে। ডাক্তার মইন উদ্দিন একজন সাদা মনের মানুষ। তাহার নিজ উপজেলা ছাতকে গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত এ জন্য সবার সাথে অান্তরিক সম্পর্ক রয়েছে ডাক্তার মইন উদ্দিনের। ডাঃ মইন উদ্দিনের তিন বোন। সবাই সু-শিক্ষিত।
ফেসবুকে করোনার পোস্ট প্রতিদিন চলছে। তিনি পজেটিভ ধরা পড়ার পুর্বে নিজে হোম কোয়েরান্টাম এ ছিলেন, নিজে বাসার তৃতীয় তলায় একটি রুমে বসবাস করতেন, ফ্যামিলী থাকতেন অন্য তলায়। কতটা সচেতন তা কাজ করছেন। সিলেটে
কার্ডিওলজির স্বনামধন্য হাতে গনা ২/৩ জনের মধে ডাক্তার মইন উদ্দিনের নাম উল্লেখ্যযোগ্য রয়েছে।তার সারা জীবন পড়াশোনার মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছেন। অসম্ভব মেধাবী, আরেকটা জিনিস খুব কম রোগী দেখতেন একজন রোগী তার চেম্বার
থেকে বের হত হাসিমুখে, কোয়ালিটি প্রাকটিস করতেন, রাতে যখন ইবনে সিনায় রোগীদের ভিজিট করতেন তার জন্য রোগীরা উদগ্রীব থাকতো, তার ব্যবহারে রোগীরা অর্ধেক ভাল হতো। গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত রোগী দেখতেন ফ্রি। তারপরও তিনি বৈষয়িক ভাবে ডাক্তারী করেই স্বচ্ছল। সিলেট-সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার রোগিরা সবাই তার প্রশংসা করছেন, তার ব্যবহার ও কোয়ালিটি প্রকটিসের জন্য। তিনি বিনা ফিতে রোগী দেখতেন তার চেম্বারে, গরীব
হলো সব কিছু ফ্রি করে দিতেন। তার সঙ্গে প্রশাসনের অবহেলা করা ঠিক হয়নি। তার স্ত্রী একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। তারা যে কোন কারনে সিলেটে নিরাপদ মনে করেননি। তাই পারিবারিক সিদ্বান্তে ঢাকায় স্থানাত্তর। হেলিকপ্টার কোম্পানি গুলো করোনা রোগী বহন করতে অপারগ, নানা অজুহাতেই। ডা নাজমুস সাকিবের সহযোগিতায় ওয়েসিসের সিলেটের”একমাত্র বিশেষায়িত এম্বুলেন্স” “যার ড্রাইভারকে ১৪ দিন কযারেন্টাইনে থাকার খরচ” নিশ্চিত করে
রওয়ানা হচ্ছেন। ডাক্তার মইন উদ্দিন ঢাকা পোছার পুর্বেই চীন মৈত্রী বিশেষ হসপিটাল কতৃপক্ষ তার জন্য পুর্ন অপেক্ষায় ছিলেন, সাজ সাজ রব ছিল এ মানবিক ডাক্তারের জন্য। এ মানবিক ডাক্তারের জন্য এটাই প্রাপ্য ছিল, কারন তিনি যা
করেছেন জীবনে তা তার প্রাপ্য। যে কোন টানা হেচড়ায় বাধ্য হয়ে পরিবার তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একজন অধিক সচেতন করোনা রোগী কে এইডস রোগীর সমপর্যায়ে ফেলা হচ্ছিল। অনেক নির্বোধ তার সামাজিক অবস্থান না জেনে নানা অপপ্রচার করছিল, তারা জানে না, এ ডাক্তার কতোটা মেধাবী। তার ক্যারিয়ার যারা সিলেটের মেডিকেল ফিল্ডের তারা জানেন। ঢাকায় যাদের তত্বাবধানে তিনি আছেন তারা কাকতলীয় ভাবে তার ছাত্র ও বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি ধারী। তারা করোনা স্পেশালিষ্ট। ছাত্ররা ফেসবুকে লিখছে স্যারের সেবা করছি ২৪ ঘন্টা কাজ করে ও টায়ার্ড না। ডাক্তার মইন উদ্দিনের সবচেয়ে উন্নতর
চিকিৎসা হচ্ছে, বাকি আল্লাহর উপর ভরসা। ছোট বাচ্চারাও অনেক ধৈর্যশীল হয়ে গেছে। তার স্ত্রী একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক তিনিও সব কিছু একা হ্যান্ডেল করছেন। যেহেতু তিনি চিকিৎসক তাই সব কিছু তিনি ভাল জানেন। অনেক গুনের
অধিকারী এ পরোপকারী মানবিক ডাক্তার “ডাক্তারদের আইডল” । তিনি হেরে যেতে
পারেন না।তার উপর নির্ভর করে থাকে অর্ধ শত অভাবী পরিবার, যাদের তিনি সহযোগিতা করেন।ডাক্তার মইনউদ্দিনে সুস্থতা কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলনা হাফিজ আবুল ফজল মোহাম্মদ ত্বোহা। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে
করোনায় রোগ থেকে মুক্তির লক্ষে মোনাজাতে বলেন, ডাক্তারের জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। হে আল্লাহ! তুমি তাকে সুস্থ করে দাও। তাকে নিয়ে তার
পরিবার, আজকে মুসল্লিদের সঙ্গে তোমার দরবারে হাত তুলেছেন, তুমি আমাদের দোয়া কবুল করো। তাকে সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও। তুমি রাহমানুর রহিম। তুমিই জীবনদাতা, তুমি সবকিছুর মালিক। মসজিদে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এখন তিনি মৃত্যুশয্যায়।
এসময় উপস্থিত জাপার উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল লেইছ মোহাম্মদ কাহার, ডাক্তার হাফিজ আনোয়ার, ডাক্তার পীর আব্দুল হান্নান, নজরুল ইসলাম, ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি, সেলিম আহমদ, ডাক্তার রিপন দাস প্রমুখ। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন মসজিদে তার জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার রোগ মুক্তি কামনা করেছেন ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন তালকুদার, যুন্ম সম্পাদক আমিনুর ইসলাম হিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমূখ।





























