গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি গঠন, সভাপতি: একা বর্মন, সম্পাদক: পপি
- Update Time : ১২:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির কর্মীসভা সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ জুলাই শনিবার বিকেলে সংগঠনের রায়পাড়াস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দিপ্তি রানী সরকার। শ্রাবন্তী বাল্মীকি’র সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক রতœাংকুর দাস জহর, সাইফুল আলম ছদরুল, আমির উদ্দিন, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সদর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু মন্ডল প্রমুখ। সভায় একা বর্মন কে সভাপতি ও পপি বেগম কে সাধারণ সম্পাদক করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সুনামগঞ্জ পৌর শাখার কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহ সভাপতি প্রতিমা চন্দ্র, সহ-সম্পাদক কানন দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবী লাল, দপ্তর সম্পাদক পূর্ণিমা চন্দ্র, প্রচার সম্পাদক শিপ্রা রায়, অর্থ সম্পাদক মমতা বেগম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গামেন্টস, চা-বাগান, চাতাল শ্রমিক, হোটেল, ফার্মাসিউটিক্যালস , নির্মান , ইত্যাদি শিল্প ক্ষেত্রসহ সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা,হাসপাতাল,অফিস-আদালতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী , গৃহকর্মী, গ্রামের কৃষাণীদের তথা শ্রমজীবী নারীদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি ,রক্ত ঘাম করা পরিশ্রমে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা দেশের অর্থনীতি চালু রাখলেও তারা সম ও ন্যায্য মজুরি পায়না। জনগণের উপর চেপে বসা তিন শোষণর নির্মম নির্যাতন ছাড়াও নারী শ্রমিকরা পুরুষতান্ত্রিক শোষণে জর্জরিত। বিদেশেও আমাদের নারী শ্রমিকরা উল্লেখিত শোষণ বঞ্চনার শিকার। শিল্পক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীর কম মজুরি ,করোনার অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই,কাজের সময় বৃদ্ধি,আধুনিকতার নামে শ্রম ঘনত্ব বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা,অগ্নিকান্ডে হতাহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে অসহায় নারী শ্রমিকদের জীবন-জীবিকাকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। জনগন এর থেকে মুক্তি পেতে চায়। বাংলাদেশের নারী সমাজ তথা শ্রমিক কৃষক জনতার দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা সংকট, শোষণ লুণ্ঠন, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নয়া ঔপনিবেশিক-আধা সামন্তবাদী আর্থ সামাজিক ব্যবস্থা। আর এর জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ,সামন্তবাদ ও আমলা মুৎসুদ্দি-পুঁজিকে উচ্ছেদ করার মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে নারী তথা সমগ্র জনগনের মুক্তি। এই সত্যকে আড়াল ও অস্বীকার করে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাষক শোষক গোষ্ঠী এবং এনজিও’রা নারী ও পুরুষের মধ্যকার বিভক্তি বৃদ্ধি করে জনগনের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে, উগ্র বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার ফাঁদে ফেলে জনগনকে বিভক্ত ও বিভ্রান্ত করছে। এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজের দায়িত্ব নারী মুক্তির লক্ষ্যে এই তিন শত্রুকে উৎখাত করে জাতীয় গণতান্ত্রিক সরকার , রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্টার সংগ্রামের সাথে নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানান।


























