০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশন সম্পন্ন

  • Update Time : ১০:০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে জনবিচ্ছিন্ন সরকার দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু জনগণ দেশে আর কোন ভোটারবিহীন নির্বাচন দেখতে চায় না। জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর জেল জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ময়দানে সবার জন্যে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দেশবাসী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করছে। জনগণের দাবীকে পাশ কাটিয়ে সরকার নির্বাচনের নামে প্রহসন করতে চাইলেচলমান রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হবে। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

 

মাওলানা ইসহাক বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সর্বত্র ঘুষ, দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকার দুনীর্তির ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির সাথে জড়িতদের বিচার না করার করণেই আজ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত খাটি সোনা সময়ের ব্যবধানে মিশ্র ধাতুতে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা আশা করি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গণ দাবী মেনে নিতে সরকার বাধ্য হবে। এবং সে রকম একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। সে লক্ষ্যে ময়দানে খেলাফত মজলিসের আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে।

 

খেলাফত মজলিসের আজকের শূরা অধিবেশনে সারাদেশে ৩৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার লক্ষ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

 

২০ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টায় শাহজাহানপুরস্থ মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর- মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, যুগ্মমহাসচিব- মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক- ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হালিম, এডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান, ডা: আবদুল্লাহ খান, আবদুস সামাদ সরকার, মাওলানা নোমান মাযহারী, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, মাওলানা নূরুজ্জামান খান, কে এম নজরুল হক, মাওলানা নূরুল আলম আল-মামুন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মাওলানা শামসুজ্জামান চৌধুরী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ডা: শরীফ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, মাস্টার আবদুল মজিদ, মাওলানা আইউব আলী, হাফেজ মাওলানা জিন্নত আলী, অধ্যাপক মাওলানা এস এম খুরশীদ আলম, অধ্যাপক আবুস সবুর, মাহবুব মোর্শেদ, মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ।

 

অধিবেশনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরী শাখার ডেলিগেটবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমের সাথে সাথে আগামী ১-১৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশে একযোগে পক্ষকালব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব ও চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর জুলূম-নির্যাতন প্রসঙ্গ, মাদকদ্রব্যের ছয়লাব ও মাদক নির্মূলের নামে বিচারবহি:র্ভূত হত্যাকান্ড প্রসঙ্গ, আর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রসঙ্গ, দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গে ৬টি প্রস্তাব গ্রহীত হয়।

 

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার আজকের অধিবেশনে (২০ জুলাই, ২০১৮) সাধারণ অধিবেশন গ্রহীত প্রস্তাবাবলী:

 

প্রস্তাব-১: চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর ভোট ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা বর্তমান সরকার আবারো যেনোতেনভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টায় করছে। বিরোধী দলসমূহের উপ জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কুটকৌশালে তার জামিনের অধিকারকে রুদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তা উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা আর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। সর্বশেষ খুলনা ও গাজিপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একশ্রেণীর প্রিসাইডিং অফিসার, দলীয় মাস্তান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিনব কৌশলে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই প্রহসনে পরিনত করেছে। তফসিল ঘোষণার পরে বিরোধীপ্রার্থীর এজেন্টদের নামে মামলা ও গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষত: সাম্প্রতিক দুটো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘‘সুষ্ঠু নির্বাচন” বলে আখ্যায়িত করে কমিশন তার বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে নষ্ট করেছে। জাতি আজ নির্বাচন কমিশনের প্রতি চরমভাবে হতাশ ও বিরক্ত। তাই খেলাফত মজলিশের মজলিসে শূরার এ অধিবেশন কারারুদ্ধ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, হয়রাণিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করাসহ নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপের সময় খেলাফত মজলিস প্রস্তাবিত ৩২ দফা দাবী বাস্তবায়নের জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ২: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর জুলূম-নির্যাতন প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্ররা সরকারী চাকুরীতে বিরাজমান কোটা সংস্কারের দাবীতে দীর্ঘ দিন যাবৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিল। এক পর্যায়ে সরকার প্রধান জাতীয় সংসদে কোটা প্রাথা উঠিয়ে দেয়ার ঘোষনা দেন। কিন্ত সে ঘোষনা বাস্তাবায়নে গড়িমসি করায় সাধারণ ছাত্ররা আবার আন্দোলন শুরু করলে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীদের ক্যাডাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদেরকেও লাঞ্ছিত করা হরে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে শাহবাগে একজন আলেমকেও ছাত্রলীগের বর্বর হামলা শিকার হতে হয়। অন্যদিকে পুলিশবাহিনী কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছাত্রদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। এ অবস্থায় সকল ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ পুরো জাতি আজ ভীষনভাবে উদ্বিগ্ন। এ অধিবেশন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের জুলুম নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ ও সরকারী চাকুরীতে কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে অবিলম্বে কোটা সংষ্কারের প্রজ্ঞাপন জারির জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ৩: মাদকদ্রব্যের ছয়লাব ও মাদক নির্মূলের নামে বিচারবহি:র্ভূত হত্যাকান্ড প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, সরকারের মাদক নির্মূল অভিযানে বহু মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে বিনাবিচারে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রসফায়রের নামে মানুষ হত্যা করে সমস্যার সমাধান হবে না। সে যে অপরাধীই হোক না কেন বিনা বিচার হত্যা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। চুনোপুটি মেরে সমস্যার সমাধান হবে না। রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনেই বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিষাক্ত ছোবলে দেশের যুব ও তরুন সমাজ আজ ধ্বংসের মুখে। দেশে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মাদকাসক্ত কিভাবে হলো। সরকার, প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রন সংস্থা- কোথায় ছিল। সরকার প্রশাসন থাকতে কিভাবে দেশে মাদকদ্রব্য ঢুকে অথবা তৈরী হয়? আসলে সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। মাদক নির্মূলে সেই সর্ষের ভূত আগে তাড়াতে হবে। মানুষকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। সেজন্যে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। কুরআন-হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এ অধিবেশন দেশে চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছে ও মাদক সেবন, মাদক চোরা চালান ও উৎপাদক বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ৪: আর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক চরম বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকার দুনীর্তির ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে গচ্ছিত সোনা নিয়ে ভূতুরে কান্ড ঘটেছে। খাঁটি সোনা মিশ্র ধাতুতে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জার্ভ থেকে ৮০০ কোটি ডলার চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত মূল্যবান সম্পদের নয়ছয় হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ব্যবসায়-বাণিজ্যে চলছে চরম মন্দা। দেশে বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘুষ ছাড়া সরকারী চাকুরী মেলে না। বারবার জ্বালানী গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। আজকের এ অধিবেশন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও ভল্টে রক্ষিত সোনার হেরফেরসহ সকল ঘুষ-দুনীর্তি রোধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ৫: দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, অর্ধ শতাব্দিরও বেশী সময় ধরে ফিলিস্তিনী জনগণের উপর ইহুদীবাদী ইসরাইল হত্যা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রসাশন কর্তৃক জেরুজালেমকে অন্যায়ভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি দেয়ার পরে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী বাহিনীর গুলিতে বিগত দই মাসে প্রায় দুই শত ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছেন। এখনো ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের পার্শবর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সেদেশের সরকার, সেনাবাহনী ও সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যুগযুগ ধরে জাতিগত দমন পিড়ন, গণহত্যা ও বর্ববরতা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহনকারী মজলুম রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের কোন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরী জনগণের উপর ভারতীয় বাহিনী ভয়াবহ জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের উদ্বাস্তু মানুষের ঢল নেমেছে। চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ধর্মীয় বিধিবিধান পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবিন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আজকের এ অধিবেশন ফিলিস্তিন, আরাকান, কাম্মীর, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের উপর পরিচালিত হত্যা নির্যাতন ও নির্মূল অভিযান অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি।

 

প্রস্তাব-৬: শোক প্রস্তাব প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক নায়েবে আমীর মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ইউসুফ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমীরে শরীয়াহ মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মিরপুর আরজাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা মোস্তফা আজাদ, সিলেট আলীয়া মাদ্রাসার সাবেক শায়খুল হাদিস আল্লামা জিল্লুর রহমান, খেলাফত মজলিস নারায়নগঞ্জ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার অহিদুর রহমান, খেলাফত মজলিস কুমিল্লা দক্ষিন জেলা শাখার বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন হুজাইফা, খেলাফত মজলিস মানিকগঞ্জ জেলার সহসভাপতি মাস্টার আবদুর রহমান ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল হাকিম- এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।

 

এ ছাড়া গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমুন্ডুতে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত: ৫১ জন আরোহী মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় ও ঈদুল ফিতরের আগে- পরে সড়ক, নৌ দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। বিজ্ঞপ্তি

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশন সম্পন্ন

Update Time : ১০:০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮

খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে জনবিচ্ছিন্ন সরকার দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু জনগণ দেশে আর কোন ভোটারবিহীন নির্বাচন দেখতে চায় না। জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর জেল জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ময়দানে সবার জন্যে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দেশবাসী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করছে। জনগণের দাবীকে পাশ কাটিয়ে সরকার নির্বাচনের নামে প্রহসন করতে চাইলেচলমান রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হবে। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

 

মাওলানা ইসহাক বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সর্বত্র ঘুষ, দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকার দুনীর্তির ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির সাথে জড়িতদের বিচার না করার করণেই আজ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত খাটি সোনা সময়ের ব্যবধানে মিশ্র ধাতুতে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা আশা করি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গণ দাবী মেনে নিতে সরকার বাধ্য হবে। এবং সে রকম একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। সে লক্ষ্যে ময়দানে খেলাফত মজলিসের আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে।

 

খেলাফত মজলিসের আজকের শূরা অধিবেশনে সারাদেশে ৩৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার লক্ষ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

 

২০ জুলাই শুক্রবার সকাল ৯টায় শাহজাহানপুরস্থ মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর- মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, যুগ্মমহাসচিব- মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক- ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হালিম, এডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান, ডা: আবদুল্লাহ খান, আবদুস সামাদ সরকার, মাওলানা নোমান মাযহারী, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, মাওলানা নূরুজ্জামান খান, কে এম নজরুল হক, মাওলানা নূরুল আলম আল-মামুন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মাওলানা শামসুজ্জামান চৌধুরী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ডা: শরীফ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক, মাস্টার আবদুল মজিদ, মাওলানা আইউব আলী, হাফেজ মাওলানা জিন্নত আলী, অধ্যাপক মাওলানা এস এম খুরশীদ আলম, অধ্যাপক আবুস সবুর, মাহবুব মোর্শেদ, মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ।

 

অধিবেশনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরী শাখার ডেলিগেটবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমের সাথে সাথে আগামী ১-১৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশে একযোগে পক্ষকালব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

অধিবেশনে একটি শোক প্রস্তাব ও চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর জুলূম-নির্যাতন প্রসঙ্গ, মাদকদ্রব্যের ছয়লাব ও মাদক নির্মূলের নামে বিচারবহি:র্ভূত হত্যাকান্ড প্রসঙ্গ, আর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রসঙ্গ, দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গে ৬টি প্রস্তাব গ্রহীত হয়।

 

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার আজকের অধিবেশনে (২০ জুলাই, ২০১৮) সাধারণ অধিবেশন গ্রহীত প্রস্তাবাবলী:

 

প্রস্তাব-১: চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর ভোট ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা বর্তমান সরকার আবারো যেনোতেনভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টায় করছে। বিরোধী দলসমূহের উপ জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কুটকৌশালে তার জামিনের অধিকারকে রুদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তা উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা আর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। সর্বশেষ খুলনা ও গাজিপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একশ্রেণীর প্রিসাইডিং অফিসার, দলীয় মাস্তান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিনব কৌশলে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই প্রহসনে পরিনত করেছে। তফসিল ঘোষণার পরে বিরোধীপ্রার্থীর এজেন্টদের নামে মামলা ও গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষত: সাম্প্রতিক দুটো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘‘সুষ্ঠু নির্বাচন” বলে আখ্যায়িত করে কমিশন তার বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে নষ্ট করেছে। জাতি আজ নির্বাচন কমিশনের প্রতি চরমভাবে হতাশ ও বিরক্ত। তাই খেলাফত মজলিশের মজলিসে শূরার এ অধিবেশন কারারুদ্ধ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, হয়রাণিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, সংসদ ভেঙ্গে দেয়া, নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করাসহ নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপের সময় খেলাফত মজলিস প্রস্তাবিত ৩২ দফা দাবী বাস্তবায়নের জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ২: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর জুলূম-নির্যাতন প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্ররা সরকারী চাকুরীতে বিরাজমান কোটা সংস্কারের দাবীতে দীর্ঘ দিন যাবৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিল। এক পর্যায়ে সরকার প্রধান জাতীয় সংসদে কোটা প্রাথা উঠিয়ে দেয়ার ঘোষনা দেন। কিন্ত সে ঘোষনা বাস্তাবায়নে গড়িমসি করায় সাধারণ ছাত্ররা আবার আন্দোলন শুরু করলে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীদের ক্যাডাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদেরকেও লাঞ্ছিত করা হরে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে শাহবাগে একজন আলেমকেও ছাত্রলীগের বর্বর হামলা শিকার হতে হয়। অন্যদিকে পুলিশবাহিনী কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছাত্রদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। এ অবস্থায় সকল ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ পুরো জাতি আজ ভীষনভাবে উদ্বিগ্ন। এ অধিবেশন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের জুলুম নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ ও সরকারী চাকুরীতে কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়ে অবিলম্বে কোটা সংষ্কারের প্রজ্ঞাপন জারির জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ৩: মাদকদ্রব্যের ছয়লাব ও মাদক নির্মূলের নামে বিচারবহি:র্ভূত হত্যাকান্ড প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, সরকারের মাদক নির্মূল অভিযানে বহু মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে বিনাবিচারে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রসফায়রের নামে মানুষ হত্যা করে সমস্যার সমাধান হবে না। সে যে অপরাধীই হোক না কেন বিনা বিচার হত্যা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। চুনোপুটি মেরে সমস্যার সমাধান হবে না। রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনেই বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিষাক্ত ছোবলে দেশের যুব ও তরুন সমাজ আজ ধ্বংসের মুখে। দেশে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মাদকাসক্ত কিভাবে হলো। সরকার, প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রন সংস্থা- কোথায় ছিল। সরকার প্রশাসন থাকতে কিভাবে দেশে মাদকদ্রব্য ঢুকে অথবা তৈরী হয়? আসলে সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। মাদক নির্মূলে সেই সর্ষের ভূত আগে তাড়াতে হবে। মানুষকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। সেজন্যে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। কুরআন-হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এ অধিবেশন দেশে চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছে ও মাদক সেবন, মাদক চোরা চালান ও উৎপাদক বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ৪: আর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক চরম বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকার দুনীর্তির ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে গচ্ছিত সোনা নিয়ে ভূতুরে কান্ড ঘটেছে। খাঁটি সোনা মিশ্র ধাতুতে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জার্ভ থেকে ৮০০ কোটি ডলার চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত মূল্যবান সম্পদের নয়ছয় হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ব্যবসায়-বাণিজ্যে চলছে চরম মন্দা। দেশে বেকারত্ব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘুষ ছাড়া সরকারী চাকুরী মেলে না। বারবার জ্বালানী গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। আজকের এ অধিবেশন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ও ভল্টে রক্ষিত সোনার হেরফেরসহ সকল ঘুষ-দুনীর্তি রোধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর জোর দাবী জানাচ্ছে।

 

প্রস্তাব- ৫: দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, অর্ধ শতাব্দিরও বেশী সময় ধরে ফিলিস্তিনী জনগণের উপর ইহুদীবাদী ইসরাইল হত্যা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রসাশন কর্তৃক জেরুজালেমকে অন্যায়ভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি দেয়ার পরে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী বাহিনীর গুলিতে বিগত দই মাসে প্রায় দুই শত ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছেন। এখনো ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের পার্শবর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সেদেশের সরকার, সেনাবাহনী ও সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যুগযুগ ধরে জাতিগত দমন পিড়ন, গণহত্যা ও বর্ববরতা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহনকারী মজলুম রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের কোন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। স্বাধীনতাকামী কাশ্মিরী জনগণের উপর ভারতীয় বাহিনী ভয়াবহ জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের উদ্বাস্তু মানুষের ঢল নেমেছে। চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ধর্মীয় বিধিবিধান পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবিন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আজকের এ অধিবেশন ফিলিস্তিন, আরাকান, কাম্মীর, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের উপর পরিচালিত হত্যা নির্যাতন ও নির্মূল অভিযান অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি।

 

প্রস্তাব-৬: শোক প্রস্তাব প্রসঙ্গ
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এ অধিবেশন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক নায়েবে আমীর মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ইউসুফ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমীরে শরীয়াহ মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মিরপুর আরজাবাদ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা মোস্তফা আজাদ, সিলেট আলীয়া মাদ্রাসার সাবেক শায়খুল হাদিস আল্লামা জিল্লুর রহমান, খেলাফত মজলিস নারায়নগঞ্জ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার অহিদুর রহমান, খেলাফত মজলিস কুমিল্লা দক্ষিন জেলা শাখার বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন হুজাইফা, খেলাফত মজলিস মানিকগঞ্জ জেলার সহসভাপতি মাস্টার আবদুর রহমান ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল হাকিম- এর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।

 

এ ছাড়া গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমুন্ডুতে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত: ৫১ জন আরোহী মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় ও ঈদুল ফিতরের আগে- পরে সড়ক, নৌ দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। বিজ্ঞপ্তি

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ