১০:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন ও নির্বাচন তিন ইস্যুতে নতুন ছক আঁটছে বিএনপি

  • Update Time : ০৪:৪২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন ও নির্বাচন এই তিন ইস্যুতে নতুন ছক আঁটছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে দেশে ফেরার পর দলটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই বৈঠকে তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা অবহিত করা হয় সিনিয়র নেতাদের। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা, চলমান আন্দোলন ও আন্দোলনের বর্তমান ধারা পরিবর্তন, জাতীয় ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নেতাদের ভারত সফর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর কমিটি প্রসঙ্গ বেশ কিছু বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। দলটির সিনিয়র এক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব কথা জানা গেছে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ম্যাডামের মুক্তি ও চিকিৎসাসহ দলীয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তিন সিটি করপোরেশনের দলের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের মতামত আমরা জানতে চেয়েছি। তারা তাদের মতামত আমাদেরকে জানিয়েছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গাজীপুর নির্বাচন ও সামনে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে বলার মতো তেমন কিছু নেই। তবে ম্যাডামের মুক্তির বিষয়টি আমাদের কাছে এখন প্রধান ইস্যু। তাকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে দলটির মধ্যে দুই ধরনের মত দেখা দিয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কোনো কোনো নেতা এখনই কঠোর আন্দোলন যাওয়ার পক্ষে অপরদিকে অন্যরা মনে করেন আরেকটু সময় নিয়ে বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে অর্থাৎ নির্বাচনের মাস দুয়েক আগে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির পক্ষে। তবে আন্দোলন বিষয়ে তৃণমূল নেতারা চান ঢাকার অবস্থান দেখতে চায়।
বিএনপির দায়িত্বশীল এক সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠনের চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মহাজোটের বাইরে যেসব রাজনৈতিক জোট ও দল রয়েছে তাদেরকে নিয়ে একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করা। তিনি বলেন, সরকারের বাইরে যখন সব রাজনৈতিক দল এক ও অভিন্ন অবস্থান নেবে তখন তা হবে এই সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনাস্থা। আর বিএনপি ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। ইতিমধ্যে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের আলোচনা হয়েছে। দলগুলো কিছু কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো অচিরেই মিমাংসা হয়ে যাবে এবং এটা হয়ে গেলেই জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা হবে বলে মনে করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।
আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এই নিয়ে বিএনপির নেতারা ঈদের আগে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। ইঙ্গিত দেন চলমান আন্দোলনের ধারা পরিবর্তন করে ভিন্নধারার আন্দোলনে যাবেন তারা। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ইতিমধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির হাইকমান্ডকে বেকায়দার মুখে পড়তে হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন ও নির্বাচন তিন ইস্যুতে নতুন ছক আঁটছে বিএনপি

Update Time : ০৪:৪২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন ও নির্বাচন এই তিন ইস্যুতে নতুন ছক আঁটছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে দেশে ফেরার পর দলটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই বৈঠকে তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা অবহিত করা হয় সিনিয়র নেতাদের। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা, চলমান আন্দোলন ও আন্দোলনের বর্তমান ধারা পরিবর্তন, জাতীয় ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নেতাদের ভারত সফর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর কমিটি প্রসঙ্গ বেশ কিছু বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। দলটির সিনিয়র এক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব কথা জানা গেছে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ম্যাডামের মুক্তি ও চিকিৎসাসহ দলীয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তিন সিটি করপোরেশনের দলের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের মতামত আমরা জানতে চেয়েছি। তারা তাদের মতামত আমাদেরকে জানিয়েছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গাজীপুর নির্বাচন ও সামনে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে বলার মতো তেমন কিছু নেই। তবে ম্যাডামের মুক্তির বিষয়টি আমাদের কাছে এখন প্রধান ইস্যু। তাকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে দলটির মধ্যে দুই ধরনের মত দেখা দিয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কোনো কোনো নেতা এখনই কঠোর আন্দোলন যাওয়ার পক্ষে অপরদিকে অন্যরা মনে করেন আরেকটু সময় নিয়ে বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে অর্থাৎ নির্বাচনের মাস দুয়েক আগে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির পক্ষে। তবে আন্দোলন বিষয়ে তৃণমূল নেতারা চান ঢাকার অবস্থান দেখতে চায়।
বিএনপির দায়িত্বশীল এক সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠনের চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মহাজোটের বাইরে যেসব রাজনৈতিক জোট ও দল রয়েছে তাদেরকে নিয়ে একটা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করা। তিনি বলেন, সরকারের বাইরে যখন সব রাজনৈতিক দল এক ও অভিন্ন অবস্থান নেবে তখন তা হবে এই সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনাস্থা। আর বিএনপি ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। ইতিমধ্যে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের আলোচনা হয়েছে। দলগুলো কিছু কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো অচিরেই মিমাংসা হয়ে যাবে এবং এটা হয়ে গেলেই জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা হবে বলে মনে করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।
আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এই নিয়ে বিএনপির নেতারা ঈদের আগে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। ইঙ্গিত দেন চলমান আন্দোলনের ধারা পরিবর্তন করে ভিন্নধারার আন্দোলনে যাবেন তারা। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ইতিমধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির হাইকমান্ডকে বেকায়দার মুখে পড়তে হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ