০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে স্বামীর বাড়ীর আম গাছ থেকে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার! স্বামী পলাতক

  • Update Time : ০৫:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামে স্বামীর বাড়ীর আম গাছ থেকে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্হানীয় সুত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। নিহত তামান্না আক্তার (২০) মৌলভীবাজার জেলা শহরের মোস্তফাপুর এলাকার আশিক মিয়ার ৪র্থ কন্যা।

 

এ ব্যাপারে নিহত তামান্নার বড় ভাই রকিবুলের সাথে আলাপকালে অভিযোগ করে বলেন, তামান্নার শশুড় বাড়ীর লোকজন প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা পয়সা চাইতো, বোনের সুখের কথা চিন্তা করে আমাদের সাধ্যমত বোনের শশুড় বাড়ীর লোকদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করতাম।

 

কিছুদিন আগেও ঘর নির্মানের জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও তার স্বামী ও সৎ মায়ে অত্যাচার আর নির্যাতনে অতিষ্ট্য ছিলো আমার বোন তামান্না। গত শনিবার রাতেও তার স্বামী সৎ শাশুড়ির সাথে তামান্নার কথা কাটাকাটি হওয়ার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। এটাও তার স্বামী আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছে।
আমার বোন আত্নহত্যা করার মত মেয়ে নয়, তাদের অনেক অত্যাচার সে মুখ বুজে সহ্য করেছে। কোন অঘটন ঘটায়নি, এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। দুপুর পর্যন্ত আমার বোনের মরদেহ গাছের ডালে ঝুলে থাকলেও তার শশুড় বাড়ীর লোকজন পুলিশ কিংবা স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঘটনাটি জানায়নি। আমাদের কে জানিয়েছে তামান্না আত্নহত্যা করেছে বলে।

 

নিহত তামান্নার পিতা আশিক মিয়া বলেন, আমার মেয়ে খুব সহজ সরল ছিলো, সে আত্নহত্যা করবে আমি বিশ্বাস করিনা এটা তাদের সাজানো নাটক। এত বেলা গড়িয়ে গেলেও তার শশুড় বাড়ীর লোকজন পুলিশকে খবর না দিয়ে আমাদের কে খবর দিয়েছে। পরে আমরা রোববার (২৮অক্টোবর) দুপুরে কমলগঞ্জ থানায় এসে বিষয়টি অবহিত করলে এস আই সুরুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলের সহযোগিতায় বিকাল সাড়ে তিন টায় কাঁঠালকান্দি গ্রামের মো. আছদ আলীর পুত্র ও তামান্নার স্বামী আব্দুল হামিদ(২৪) এর বাড়ীর দক্ষিন পাসের আম গাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্হায় তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করি। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুরহস্যে উৎঘাটনের জোর দাবী জানাচ্ছি। মামলার আয়ো এস আই সুরুজ আলীর লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের তামান্নার স্বামী আব্দুল হামিদকে পাওয়া যায়নি ।

 

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আরিফুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে মৌলভীবাজার । পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট আসলে বলা যাবে ঘটনাটি আত্নহত্যা নাকি হত্যা।

 

এ ঘটনায় নিহত বড় রকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে তামান্নার স্বামী আব্দুল হামিদ ও তার সৎমা লুৎফা বেগমের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানার একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কমলগঞ্জে স্বামীর বাড়ীর আম গাছ থেকে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার! স্বামী পলাতক

Update Time : ০৫:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮

আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামে স্বামীর বাড়ীর আম গাছ থেকে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্হানীয় সুত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। নিহত তামান্না আক্তার (২০) মৌলভীবাজার জেলা শহরের মোস্তফাপুর এলাকার আশিক মিয়ার ৪র্থ কন্যা।

 

এ ব্যাপারে নিহত তামান্নার বড় ভাই রকিবুলের সাথে আলাপকালে অভিযোগ করে বলেন, তামান্নার শশুড় বাড়ীর লোকজন প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা পয়সা চাইতো, বোনের সুখের কথা চিন্তা করে আমাদের সাধ্যমত বোনের শশুড় বাড়ীর লোকদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করতাম।

 

কিছুদিন আগেও ঘর নির্মানের জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরও তার স্বামী ও সৎ মায়ে অত্যাচার আর নির্যাতনে অতিষ্ট্য ছিলো আমার বোন তামান্না। গত শনিবার রাতেও তার স্বামী সৎ শাশুড়ির সাথে তামান্নার কথা কাটাকাটি হওয়ার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। এটাও তার স্বামী আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছে।
আমার বোন আত্নহত্যা করার মত মেয়ে নয়, তাদের অনেক অত্যাচার সে মুখ বুজে সহ্য করেছে। কোন অঘটন ঘটায়নি, এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। দুপুর পর্যন্ত আমার বোনের মরদেহ গাছের ডালে ঝুলে থাকলেও তার শশুড় বাড়ীর লোকজন পুলিশ কিংবা স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঘটনাটি জানায়নি। আমাদের কে জানিয়েছে তামান্না আত্নহত্যা করেছে বলে।

 

নিহত তামান্নার পিতা আশিক মিয়া বলেন, আমার মেয়ে খুব সহজ সরল ছিলো, সে আত্নহত্যা করবে আমি বিশ্বাস করিনা এটা তাদের সাজানো নাটক। এত বেলা গড়িয়ে গেলেও তার শশুড় বাড়ীর লোকজন পুলিশকে খবর না দিয়ে আমাদের কে খবর দিয়েছে। পরে আমরা রোববার (২৮অক্টোবর) দুপুরে কমলগঞ্জ থানায় এসে বিষয়টি অবহিত করলে এস আই সুরুজ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলের সহযোগিতায় বিকাল সাড়ে তিন টায় কাঁঠালকান্দি গ্রামের মো. আছদ আলীর পুত্র ও তামান্নার স্বামী আব্দুল হামিদ(২৪) এর বাড়ীর দক্ষিন পাসের আম গাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্হায় তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করি। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুরহস্যে উৎঘাটনের জোর দাবী জানাচ্ছি। মামলার আয়ো এস আই সুরুজ আলীর লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের তামান্নার স্বামী আব্দুল হামিদকে পাওয়া যায়নি ।

 

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আরিফুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে মৌলভীবাজার । পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট আসলে বলা যাবে ঘটনাটি আত্নহত্যা নাকি হত্যা।

 

এ ঘটনায় নিহত বড় রকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে তামান্নার স্বামী আব্দুল হামিদ ও তার সৎমা লুৎফা বেগমের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানার একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ