০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কথা শোনেন কথা বলবেন না : এমনতো কথা ছিলো না

  • Update Time : ১২:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

দীনুল ইসলাম বাবুল

 

স্কুল পালানোর জন্য নয়
কিংবা কোন দল বা লীগের পদ-পদবীর জন্য নয়
আমরা তখন মিছিলে যেতাম :
‘জানালায় আর নয়, চলো যাই মিছিলে দাঁড়াই ‘ – বলে
রাজপথে মিছিলে যেতাম
আর আকাশ-পাতাল কাঁপানো শ্লোগানে
চিতকার দিয়ে আওয়াজ তোলতাম :
তোমার দেশ – আমার দেশ, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ ।
তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা যমুনা
“ অন্ন চাই – বস্ত্র চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই ! “
অত:পর আমাদের গণ-মিছিল গণসমাবেশে রুপান্তরিত হলে
আমরা বক্তব্য রাখতাম
জনতার সামনে কথা বলতাম, প্রতিঞ্জা করতাম
অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তার জন্য,
সুশিক্ষা-সুচিকিতসার জন্য
গনতন্ত্র প্রতিষ্টার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার সমূহের জন্য
কথা বলার, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য।
আমরা মিছিল– মিটিং করলাম,
আমরা আন্দোলন করলাম,
কাফু ভাঙ্গলাম, গুলিবিদ্ধ হলাম,
সাথী শহীদদের লাশ কাঁধে নিয়ে আবারো
মিছিলে মিছিলে, শ্লোগানে শ্লোগানে
আকাশ আর মাটিতে ভয়ংকর শীতকার তোললাম
“ লড়াই লড়াই লড়াই চাই,
লড়াই করে বাঁচতে চাই ।“

এবং ডাক দিলাম এই বলে-

“ বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো,
বাংলাদেশ স্বাধীন করো ।“

আমরা অস্ত্র ধরলাম।
দেশ ও জাতি মুক্ত হলো।
স্বাধীন স্বদেশ পেলাম।

অধশত বছর পর
এখন আত্ম জিঞ্জাসায় কাতর
কিংকতব্যবিমূঢ় শৈবশিলাপাথর :

এই কি আমার স্বাধীনতা
রক্তার্জিত স্বাধীনতা ?
এই কি আমার স্বাধীনতা
আমার স্বপ্নে, আমার কল্পনায়, আমার ভালবাসায় ছিলো
যে স্বাধীনতা ?
আমার কাঙ্কিত স্বাধীনতায় ছিলো গণতন্ত্রের বাস্তবতা
মত প্রাকাশের স্বাধীনতা।
কথা বলার স্বাধীনতা।
“ এক নেতা, এক দল, এক দেশ “
একতন্ত্র-স্রৈরতন্ত্র নয় –পরিবার তন্ত্র নয়
নিখাদ গণতন্ত্রের কথা ছিলো :
কথা শোনেন কথা বলবেন না।
এমনতো কথা ছিলো না।

 

দীনুল ইসলাম বাবুল

কবি ও গবেষক, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল: 01732-223122

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কথা শোনেন কথা বলবেন না : এমনতো কথা ছিলো না

Update Time : ১২:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২

দীনুল ইসলাম বাবুল

 

স্কুল পালানোর জন্য নয়
কিংবা কোন দল বা লীগের পদ-পদবীর জন্য নয়
আমরা তখন মিছিলে যেতাম :
‘জানালায় আর নয়, চলো যাই মিছিলে দাঁড়াই ‘ – বলে
রাজপথে মিছিলে যেতাম
আর আকাশ-পাতাল কাঁপানো শ্লোগানে
চিতকার দিয়ে আওয়াজ তোলতাম :
তোমার দেশ – আমার দেশ, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ ।
তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা যমুনা
“ অন্ন চাই – বস্ত্র চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই ! “
অত:পর আমাদের গণ-মিছিল গণসমাবেশে রুপান্তরিত হলে
আমরা বক্তব্য রাখতাম
জনতার সামনে কথা বলতাম, প্রতিঞ্জা করতাম
অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তার জন্য,
সুশিক্ষা-সুচিকিতসার জন্য
গনতন্ত্র প্রতিষ্টার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার সমূহের জন্য
কথা বলার, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য।
আমরা মিছিল– মিটিং করলাম,
আমরা আন্দোলন করলাম,
কাফু ভাঙ্গলাম, গুলিবিদ্ধ হলাম,
সাথী শহীদদের লাশ কাঁধে নিয়ে আবারো
মিছিলে মিছিলে, শ্লোগানে শ্লোগানে
আকাশ আর মাটিতে ভয়ংকর শীতকার তোললাম
“ লড়াই লড়াই লড়াই চাই,
লড়াই করে বাঁচতে চাই ।“

এবং ডাক দিলাম এই বলে-

“ বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো,
বাংলাদেশ স্বাধীন করো ।“

আমরা অস্ত্র ধরলাম।
দেশ ও জাতি মুক্ত হলো।
স্বাধীন স্বদেশ পেলাম।

অধশত বছর পর
এখন আত্ম জিঞ্জাসায় কাতর
কিংকতব্যবিমূঢ় শৈবশিলাপাথর :

এই কি আমার স্বাধীনতা
রক্তার্জিত স্বাধীনতা ?
এই কি আমার স্বাধীনতা
আমার স্বপ্নে, আমার কল্পনায়, আমার ভালবাসায় ছিলো
যে স্বাধীনতা ?
আমার কাঙ্কিত স্বাধীনতায় ছিলো গণতন্ত্রের বাস্তবতা
মত প্রাকাশের স্বাধীনতা।
কথা বলার স্বাধীনতা।
“ এক নেতা, এক দল, এক দেশ “
একতন্ত্র-স্রৈরতন্ত্র নয় –পরিবার তন্ত্র নয়
নিখাদ গণতন্ত্রের কথা ছিলো :
কথা শোনেন কথা বলবেন না।
এমনতো কথা ছিলো না।

 

দীনুল ইসলাম বাবুল

কবি ও গবেষক, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল: 01732-223122

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ