ওয়াজ : সেকাল ও একাল- হুসাইন আহমদ মিসবাহ
- Update Time : ০৭:০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সম্প্রতি ভার্চুয়াল জগতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, নন্দিত কথা সাহিত্যিক Rashid Jamil এর “বানিজ্যিক ওয়াজ এবং হেলিকপ্টার বিলাস” শিরোনামের একটি লেখা। মোটামুটি লেখাটির নির্যাস ছিল-
টাকার বিনিময়ে যে ওয়াজ, তা থেকে হিদায়াত আশা করা বোকামী।
মোটা অংকের টাকার কন্ট্রাক্টে ওয়াজে এসে, নবী সা. এর দীনতার বিবরণ দিতে লজ্জা পাওয়া উচিৎ।
এদের কারণে প্রকৃত বক্তারা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন।
এদের প্রতিহত করা প্রয়োজন। ইত্যাদি, ইত্যাদি।
যে লেখাটির বেশ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রতিক্রিয়া থেকে ক্রিয়াই বেশি এসেছে। ইকবাল হাসান জাহিদ ভাই লেখার সমর্থনে দীর্ঘ দুটি লেখা দিয়েছেন। দুজন বক্তাও লেখার প্রতিউত্তরে দুটি লেখা দিয়েছেন। যে লেখাদ্বয়ের জবাবও দেওয়া হয়েছে। লেখকের পক্ষ্য থেকেও আরেকটি জবাবী লেখা এসেছে।
তাই আমি উল্লেখিত লেখার কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবোনা, আমি শুধু সেকাল আর একালের ওয়াজের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয়ের চেষ্টা করবো।
সেকালে অর্থাৎ আজ থেকে ১৫, ২০, ৩০ বছর কিংবা তার পূর্বে এদেশে এত ওয়াজ হতনা। ইসলামী সম্মেলন, মহা-সম্মেলন, তাফসীর মাহফিল, ইসলামিক কনফারেন্স, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইত্যাদি প্রায় ছিলনা। ছিলেননা এত সংখ্যক বাহারী, রকমারি, পাঁচমিশালি, তেজস্বী বক্তা।
বিভিন্ন রকমের ওয়াজ বেড়েছে, নানা প্রজাতির বক্তা বেড়েছেন, কিন্তু বিশ্ময়কর তথ্য হল, হিতায়াতের পরিমাণ বাড়েনি বরং কমেছে। কিন্তু কেন? ওয়াজ ও বক্তা বাড়লেতো হিদায়াত বাড়ার কথা ছিল, হ্রাস পেল কেন? সেকালের সল্পসংখক ওয়াজ ও বক্তার মাঝে কি ছিল, যা একালের বিপুল সংখক ওয়াজ ও বক্তার মাঝে নেই! যার জন্যে ওয়াজ মাহফিল থেকে রেজাল্ট জিরো আসছে।
হ্যা, ওয়াজের মাধ্যমে মানুষের হিদায়াত হতে হলে, বক্তার মাঝে দু’টি গুণ থাকতে হবে। যার একটি নাহলে ঐ বক্তার ওয়াজে কারো হিদায়াত হবেনা। যে দু’টি গুণ সেকালের বক্তার মাঝে ছিল, বক্তার ওয়াজে মানুষের হিদায়াত হত। যা একালের অধিকাংশ বক্তার মাঝে নেই, সে জন্যেই ওয়াজ ও বক্তা বাড়ার পরও হিদায়াত বাড়ছেনা বরং কমেছে।
বক্তার দু’টি গুণের একটি হল, তিনি ওয়াজের দ্বারা কোন পারিশ্রমিক বা বিনিময় চাইবেননা বা আশা করবেননা। (কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছায় ও চাপমুক্ত থেকে যাই দেয়, সেটা ভিন্ন কথা।) কোন বক্তা ওয়াজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক বা হাদিয়া চাইলে, গ্রহণ করলে, নুন্যতম অন্তরে পারিশ্রমিক বা হাদিয়ার আশা পোষণ করলে, আর যাই হোক সে বক্তার ওয়াজে কারো হিদায়াত হবেনা।
বক্তার দ্বিতীয় গুণ হল, তিনি যে বিষয়ে ওয়াজ করবেন, সে বিষয়ে নিজের আমল থাকতে হবে। খুব সুন্দর করে, তাথ্যিক ও তাত্ত্বিক ভাবে গুছিয়ে ওয়াজ করলের হিদায়াত আসবেনা যদি ওয়াজে ওয়াজীর আমল থাকেনা।
অনেকে আবার দলিল চাইবেন। তাই দলিল দিচ্ছি-
اتَّبِعوا مَن لا يَسـَٔلُكُم أَجرًا وَهُم مُهتَدونَ
অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।
“Obey those who ask no wages of you (for themselves), and who are rightly guided.
(সুরা ইয়াসিন, আয়াত-২১)
হ্যা, শ্রুতারও দুটি গুণ থাকতে হবে, মনযোগ সহকারে বক্তার কথা (আওয়াজ নয়) শুনা এবং আমলের চেষ্টা করা।


























