০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৈয়দপুর : একটি ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক গ্রাম : অধ্যক্ষ সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ
- Update Time : ০৫:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সুজলা সুফলা, শস্য-শ্যামলা সুন্দর লীলাভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এ দেশের প্রায় পচিশ হাজাম গ্রাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জালের মত। বিশ্ব মানচিত্রের ক্ষুদ্র এ ভূ-খণ্ড বাংলার একটি সু-প্রাচীন অঞ্চল হযরত শাহজালাল রহ. এর স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমি, দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ আধ্যত্মিক শহর সিলেট। বৃহত্তর সিলেটের পশ্চিমাংশে ধানের দেশ, ভাটির দেশ নামে খ্যাত সুনামগঞ্জ একটি অতিপরিচিত একটি নাম। সুনামগঞ্জের আট আউলিয়ার স্মৃত বিজড়িত জগন্নাথপুর উপজেলার একপ্রান্ত জুড়ে নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে অবস্থান করছে ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক গ্রাম সৈয়দপুর।
সিলেটের ইতিহাসের সাথে এ গ্রামের
ইতিহাসজড়িত। এই ঐতিহ্যহ্যবাহী গ্রামে আগমন করেবসতি স্থাপন করেছিলেন হযরত শাহ জালাল রহ.এর অন্যতম সঙ্গীয় সাথী হযরত শাহ সৈয়দ আলাউদ্দীন রহ. এর চার পুত্রের অন্যতম হযরত শাহসৈয়দ শামসুদ্দীন রহ.। যিনি ছিলেন একজন আলেমেদীন। হযরত শাহ জালাল মযররদে ইয়ামনিরহ.-এর সিলেট আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটে যেসব ঘটনা–কারামত প্রকাশিত হয়েছিল, শাহ সৈয়দশামসুদ্দীন রহ. এর আগমনে তেমনি কিছু ঘটনাসংঘটিত হয়েছিল। শাহ জালাল রহ. এর আগমনেশ্রীহট্র হয়েছে জালালাবাদ, হয়েছে শান্তির নীড়,আধ্যাত্মিক রাজধানী। শাহ শামছুদ্দীন রহ.এরআগমনে তেমনিভাবে গ্রামের পূর্বনাম কৃষ্ঞপুরথেকে হয়েছে সৈয়দপুর, শতভাগ মুসলমানের গ্রাম, সু-প্রতিষ্ঠিতি লাভ করেছে সুনামগঞ্জ মহকুমা তথাবৃহত্তর সিলেটের একটি আধ্যাত্মিক গ্রাম হিসেবে।
ঐতিহাসিকদের মতে-হযরত শাহ জালাল রহ. রাজা গৌড়গবিন্দের হাত থেকে সিলেটকে উদ্ধারের পর বৃহত্তর সিলেটে ইসলামের প্রচার্ প্রসারে তাঁরসঙ্গীয়দের ছড়িয়ে দিতে মনোনিবেশ করেন। সঙ্গীয় আউলিয়াগণ মুর্শিদের নির্দেশ ও ইঙ্গিতে বৃহত্তরসিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে দীনের স্বার্থে নিজেদেরউৎসর্গ করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শাহসৈয়দ শামসুদ্দীন রহ. স্বীয় মুর্শিদের নির্দেশক্রমেমাগেরেবের নামাজের ওয়াক্ত সামনে নিয়ে সিলেট থেকে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে সুরমার তীর দিয়ে পায়ে হেঁটে অগ্রসর হতে থাকেন। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় যখন মাগরেব নামাজের ওয়াক্ত হয় তখন তিনি একটি খাল/নদীর তীরে ওজু করে নামাজের প্রস্তুতি নেন। যে নদী বা খালে ওযু করেছিলেন, সে খালটিওজুর খাল নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এ খালকে সকলেই উজার খাল হিসেবে চিনেন। যেনদীর তীরে তিনি মাগরেবের নামায আদায়করেছিলেন, মাগরেব নামাজের নামানুসারে ঐনদীর নামকরণ করা হয় মাগরেবা নদী। কালক্রমেসে নদী লোকমূখে মাগুরা নদী হিসেবে খ্যাত হয়েছে। সৈয়দ শাহ শামসুদ্দীন রহ. স্বীয় মুর্শিদেরনির্দেশ মোতাবেক ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যস্থলনির্বাচন করলেন জগন্নাথপুরের কৃষ্ণপুর গ্রামকে। কৃষ্ঞপুর গ্রাম ছিল সম্পূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম। শাহসৈয়দ শামছুদ্দীন রহ. এর ইসলাম প্রচারে ব্রতী হয়েঅত্র এলাকার ভিন্ন ধর্মাবলম্বি সাধারণ জনগন ইসলামের দাওয়াত কবুল করতে থাকে।
দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যাবৃদ্ধি পায়। এক সময়ে হয়ে ওঠে বৃহত্তর সিলেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমপ্রদায়ের গ্রাম হিসেবে। মুসলিম উর্বর এই গ্রামের সংবাদ বৃহত্তর সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বহু মুসলিম পরিবার এ গ্রামে বসতি স্থাপন শুরু করেন। এমনিভাবে সৈয়দপুর গ্রামে আগমণ করেন শাহ সৈয়দ ‘আলা উদ্দীন রহ.-এর দুই ছেলে শাহ সৈয়দ তাজ উদ্দীন রহ. এর বংশের তিনজন উত্তরপুরুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সৈয়দপুরে এস বসতি স্থাপন করেন। শাহ সৈয়দ রোকন উদ্দীন রহ.)-এর বংশধরের কয়েক পরিবার তাছাড়া সৈয়দ ওমর সমরকন্দি রহ.সহ আরও অনেক বংশের লোকদের আগমনে সৈয়দপুর গ্রাম হয়ে উঠে বৃহত্তর সিলেটের মুসলিম অধ্যুসিত বৃহত্তর গ্রাম । ছয়টি পাড়ায় বিভক্ত সৈয়দপুর গ্রামে সৈয়দ বংশের লোকদের একত্রে বসবাস করার সুবাদে সৈয়দপুর গ্রাম সম্পর্কে বিভিন্ন লোকজন বলে থাকেন-‘সৈয়দপুরের সকলেই সৈয়দ।’ বাস্তবে গ্রামের বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সৈয়দ বংশের লোক ছাড়াও রয়েছেন দাউদ কোরেশীর বংশধর, শেখ লেদু, করম আলী আখুঞ্জির বংশধর, খান বংশ, মল্লিক বংশ, শেখ বংশ, শিকদার বংশ ও মির্জা বংশের লোকসহ আরও অনেক বংশের লোকজন সৈয়দপুরে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁদের বংশধররা অদ্যাবধি গ্রামের ঐতিহ্যের অংশিদার হয়েছেন। কালের বিবর্তনে অনেক কৃতিপুরুষের পদচারণায় মূখরিত ও উজ্জল হয়ে ওঠেছে গ্রামটি। বহু ওলী-আউলিয়া, পীর, ছুফি-সাধক, শিক্ষক, হাফেজ-আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিছ, মুফাস্সির, কবি সাহিত্যিক, লেখক জন্ম নিয়েছেন এ গ্রামে।
এ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক কৃতিপুরুষ। তাঁদের মধ্যে অনে্ক রয়েছেন পীর-আউলিয়া, আলেম, শিক্ষক, সরকারী-বেসরকারী চাকুরীজীবী, পেশাজীবী, মৌলভী মুনশী, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক। তাঁরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব অবস্থানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তাঁরা ছিলেন সৎ, নিষ্ঠা ও প্রাজ্ঞ। আজ গ্রামের আনেক গুণীজন দুনিয়া ছেড়ে পরলোক গমণ করেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ হলেন-দরগাহ মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ইদগাহের ইমাম মেীলভী সৈয়দ ফখরুল্লাহ, নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর গৃহ শিক্ষক সৈয়দ হাফিজ আলী, বানিয়াচং রাজপরিবারের গৃহ শিক্ষক মো. শুকুর উল্লাহ, বর্ধমান উচ্চতর আদালতের সাবেক প্রধান বিচারপতি দেওয়ান সৈয়দ ওয়াসিল আলী, সিপাহী বিপ্লবপূর্ব বৃটিশ খেদাও আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা কেরামত আলী জৌনপুরীর অন্যতম খলীফা সৈয়দ ওজীহ উল্লাহ, দেওয়ান হাছন রাজার ওস্তাদ মৌলভী মোহাম্মদ গোলাম হায়দার, জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান আজরফের ওস্তাদ মৌলভী সৈয়দ এমদাদ আলী, ফরাজী আন্দোলনের বার বার কারাবরণকারী মজলুম নেতা সৈয়দপুর শামছিয়া আলীয়া মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কাজী সৈয়দ শরাফত আলী, বিশিষ্ট কবি সৈয়দ আশহর আলী চৌধুরী, বিশিষ্ট সাধক ও মরমী কবি পীর মজির উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী হাজী সৈয়দ আমতর আলী, বাংলাদেশের প্রথম মহিলঅ কবি সৈয়দা ছামিনা ভানু, পীর কারী সৈয়দ কলন্দর আলী, বিশিষ্ট আলেমে দীন মৌলভী মোঃ আব্দুল ওয়াহাব, মেীলভী সৈয়দ মুহাম্মদ আহমদ উরফে বড় মৌলভী, প্রখ্যাত আলেমে দীন কাজী সৈয়দ আব্দুর রউফ, শায়খুল ‘আরব ওয়াল ‘আযম মাওলানা সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানী এর খলীফা সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা প্রতিষ্টাতা মাওলানা সৈয়দ তখলিছ হোসাইন, আজাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, শায়খুল ‘আরব ওয়াল ‘আযম মাওলানা সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানী এর খলীফা সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসা প্রতিষ্টাতা মৌলভী সৈয়দ আব্দুল খালিক, খেলাফত আন্দোলন ও আজাদী আন্দোলনের আসাম প্রাদেশিক শীর্ষ নেতা, একাধিকবার কারাবরণকারী মাওলানা সৈয়দ জমিলূল হক উরফে জেলি মৌলভী, ফাজিলে দেওবন্দ মাওলানা সৈয়দ আবুল হোসেন, মৌলভী সৈয়দ কিয়াছত আলী, হাফিজ সৈয়দ আকবর আলী, সুনামগঞ্জ মহকুমার মুসলমানদের মধ্যে প্রথম বি এ বি টি মাস্টার সৈয়দ হাফিজুর রহমান, তৎকালীন সিলেটের প্রথম মুন্সেফ সৈয়দ আওলাদ হোসেন, সৈয়দ মুনসিফ আলী অডিটর, সৈয়দ ইনসাফ আলী অডিটর, মো, মুতিউর রহমান অডিটর, মাওলানা সৈয়দ আব্দুজ জহুর উরফে পণ্ডিতসাব, পীর সৈয়দ আফসর আলী, পীর মো. মনফর উদ্দীন, পীর সৈয়দ আব্দুল জব্বার উরফে জব্বারশাহ, বিশিষ্ট আলেমে দীন হাফিজ সৈয়দ আফতাব আলী, মাস্টার সৈয়দ রুশন আলী, কাজী মল্লিক জহির উদ্দীন, বিশিষ্ট আলেমেদীন মাওলানা সৈয়দ হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাহিত্যিক সৈয়দ শাহাদত হোসেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও লেখক মাওলানা কাজী সৈয়দ আশরফুল হক আকিক, সিলেট জেলার প্রথম সারির সাংবাদিক সৈয়দ উসমান আলী সারং, মাস্টার সৈয়দ আব্দুল মান্নান, সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসার স্বনামধন্য উস্তাদ মাওলানা সৈয়দ আব্দুল ওয়াহিদ, মাস্টার সৈয়দা দুরুকসিন্দা ভানু, সৈয়দপুর দরগাহ জামে মসজিদের দীর্ঘদিনের সাবেক খতীব ও সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসা হেড মাওলানা মাওলানা সৈয়দ রফিকুল হক, মাস্টার সৈয়দ মাহমুদ আলী, মাস্টার মো. ইলিয়াছ হোসেন কোরেশী, মাস্টার সৈয়দ আরজু মিয়া, মস্টার সৈয়দ নূরুল হক ছুফি, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসার সাবেক মুহতামিম ও দরগাহ জামে মসজিদের সাবেক খতীব হাফিজ মাওলানা সৈয়দ আবু সাঈদ, সৈয়দপুর দারুল হাদীস, মাদরাসার স্বনামধন্য মুহতামিম হাফিজ মাওলানা সৈয়দ মনযুর আহমদ, বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী মাস্টার সৈয়দ মন্তেশর আলী, সৈয়দপুর দরগাহ জামে মসজিদের দীর্ঘ দিনের ইমাম হাফিজ সৈয়দ বশারত আলী, সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসা দীর্ঘ দিনের প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ সদিকুল হক, সাবেক বিভাগীয় একাউন্ট অফিসার সৈয়দ আরজুমন্দ আলী, সাবেক শিক্ষা উপপরিচালক সৈয়দ মুজিবুর রহমান, মাস্টার সৈয়দ আরবাব হোসেন, মাস্টার সৈয়দ মাহতাব আলী, সাবেক স্কুল পরিদর্শক সৈয়দ শাহ আলম চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল বারী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মালিক, মাস্টার সৈয়দ আব্দুল মতিন, ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব, মাস্টার সৈয়দ মুস্তফা আহমদ, মাস্টার সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মাস্টার সৈয়দ আব্দুল মুনিম, সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসা ওয়াকফ স্টেটের মোতাওয়াল্লী কাজী মাওলানা সৈয়দ মুস্তাক আহমদ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ শাহ আনওয়ার চৌধুরী, ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল হক, ডাক্তার সৈয়দ মহীউদ্দীন, মাস্টার সৈয়দ নুজিবুল্লাহ, মাস্টার সৈয়দ জিল্লুল হক, সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসা স্বনাধন্য উস্তাদ হাফিজ মোঃ আইয়ুব আলী, মাওলানা সৈয়দ মুজাহিদ আলী, মাস্টার সৈয়দ আব্দুস সালাম, মাস্টার সৈয়দ আসকর আলী, মাস্টার সৈয়দ আব্দুল হান্নান, সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসার স্বানামধন্য মুহতামিম হাফিজ মাওলানা সৈয়দ মুতিউর রহমান, মাস্টার সৈয়দ তফজ্জুল হোসেন, মামস্টার সৈয়দা নূরজাহান, মাস্টার সৈয়দা জিনতুন নেছা, সাবেক মাদক সিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ কবির আহমদ, বিশিষ্ট প্রকৌশলী সৈয়দ মুক্তাদির আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আসগর, মাস্টার সৈয়দ মহতাজ আহমদ, মাস্টার মো. আব্দুস সালাম মির্জা, মাস্টার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান সেতু, সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আলী, সৈয়দপুর চেীধুরী বাড়ীর জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা সৈয়দ মুতাহির আলী, বিশিষ্ট আলেমে দীন সৈয়দপুর দারুল হাদীস মাদরাসার স্বনামধন্য মুহাদ্দীস মাওলানা সৈয়দ মুস্তাকিম আলী, মাওলানা মো. মকদ্দস আলী ডাক্তার সৈয়দ দবির আহমদ, সৈয়দপুর শামছিয়া বালিকা মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ আখতার হোসাইন প্রমুখ।
এছাড়াও এ গ্রামের রয়েছেন অনেক বিশিষ্ট সমাজ সেবক, রাজনীতিবীদ এবং শিক্ষানূরাগী, তাদের অনেকেই আজ ইহজগত ত্যাগ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব অবস্থানে কৃতিত্বের দাবীদার। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিবর্গ হলেন- বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিষক্ষানূরাগী মৌলভী মো. আব্দুল মজিদ শিকদার, বিশিষ্ট ধনাঢ্য ব্যক্তি ও শিক্ষানূরাগী মিয়া সৈয়দ আজমল আলী চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি সৈয়দ আঞ্জব আলী চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী ও সমাজসেবক সৈয়দ সাব্দুল আলী, মৌলভী মল্লিক নাজিম উদ্দীন, হাজী সৈয়দ হছরত উল্লাহ, মুন্সি সৈয়দ সরকুম আলী, হাজী সৈয়দ শমসেদ আলী, সৈয়দ হারিছ আলী, সৈয়দ ওয়ারিছ আলী, মো. গোলাম রব্বানী, সৈয়দ ওয়াজিদ আলী, সৈয়দ জরাবত আলী, সৈয়দ আব্দুল মান্নান, সৈয়দ আব্দুল আহাদ, সৈয়দ ইয়াসিন উল্লাহ, মো. জবান উল্লাহ, মো. ইয়াকুব উল্লাহ, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ সৈয়দ আহবাব আলী, সৈয়দ কমলা মিয়া, মুনশি সৈয়দ শামছুল হক, মো. উমরা খান, সৈয়দ ইসরাক আলী, সৈয়দ ইউনুছ আলী, মুন্সি সৈয়দ নূর মিয়া, সৈয়দ আব্দুল মুহিত, সৈয়দ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ রাহাছ উদ্দীন, সৈয়দপুর আলীয়া মাদরাসার ওয়াকফ স্টেটের মুতাওয়াল্লী হাজী মো. আবুল বশর কোরেশী ও হাজী মো. আসাব আলী, বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী মেম্বার হাজী সৈয়দ আলী আহমদ, হাজী মো. আসকির হোসেন কোরেশী, হাজী সৈয়দ মনির আহমদ(মনির দর্জি), বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ফখরুল, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল খালিক, বিশিষ্ট ক্রিড়াবীদ মলিক আব্দুল মুসাব্বির, মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙ্গালীদের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ আলবাব হোসেন ও সৈয়দ ওহিদ উদ্দীন আহমদ, সৈয়দ বশির মিয়া, হাজী সৈয়দ কনু মিয়া, সাবেক মেম্বার হাজী সৈয়দ আব্দুর রহমান, হাজী সৈয়দ দিলু মিয়া, সাবেক মেম্বার সৈয়দ আসকর আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাজী সৈয়দ আব্দুল মানিক, মো. কাছা মিয়া কোরেশী, সাবেক মেম্বার সৈয়দ হাসিন আলী, হাজী সৈয়দ আসকর হোসেন বাদশা, সাবেক মেম্বার হাফিজ সৈয়দ সুফি মিয়া, সাবেক মেম্বার হাজী মোঃ আব্দুল হক, বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ সৈয়দ শাহনূর আহমদ, সৈয়দ ফরাজ মিয়া মেম্বার প্রমুখ।
ঐতিহাসিক গ্রামটি আপন বৈশিষ্ট্যে এবং স্বকীয় মহিমায় দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিস্তর অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। গ্রামের বর্তমান তথ্যানুযায়ী প্রতি নজর রাখলে আমাদের যে বাস্তবসম্মত দৃশ্য ভেসে ওঠে তা নিম্নরূপ-
গ্রামের আদি নাম-কৃষ্ঞপুর, বর্তমান নাম-সৈয়দপুর, আয়তন-প্রায় ১৫ মাইল, জনসংখ্যা প্রায়-৩২০০০, মৌজা-৭টি, পাড়া-মহল্লা-৬টি, জামে মসজিদ-৮টি, পাঞ্জেগানা মসজিদ-৩০টি, দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা ২টি, (১টি বালক, ১টি বালিকা), আলিম মাদরাসা ১টি, কলেজ ১টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২টি (১টি বালক-বালিকা, ১টি বালিকা, মহিলা মাদরাসা ১টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-৫টি, কিন্ডারগার্ডেন ৩টি, নূরানী-৪টি, দারুল কুরআন হিফজখানা ১টি, প্রাক প্রাথমিক ১টি, সবাহী মক্তব ১৫টি, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এস এস সি প্রোগ্রাম সেন্টার ১টি, শিক্ষার হার-৯৫%, পোষ্ট অফিস ১টি, ইউনিয়ন অফিস ১টি, বাজার ১টি, ব্যাংক -৩টি, ব্যাংক বোথ ২টি, গ্রন্থাগার-৬টি, সামাজিক সংগঠন ১০টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ১টি, ক্রিড়া সংগঠন/ক্লাব ৮টি, কারখানা/মেইল ৪টি।
তাছাড়া দেশ-বিদেশে রয়েছেন আনেক কৃতি সন্তানেরা। প্রবাসে যেসব গুণীজন রয়েছেন- সরকারী-বেসরকারী চাকুরীজীবী, কমিউনিটি নেতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্ত্বিত্ব তাঁদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে দেশে অবস্থানরত কৃতি সন্তানতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলেধরা হলো-দাওরায়ে হাদী/কামিল পাশ ১৮৫জন, হাফেজে কুরআন ১৬০জন, স্নাতকোত্তর ১২০জন, স্নাতক ৮৫জন, এম বিবিএস ডাক্তার ১৮জন, প্রকৌশলী ৭জন, ব্যাংকার ১৫জন, ব্যারিষ্টার ও আইনজীবী ২১জন, বিসিএস ক্যাডার ১২জন, সরকারী চাকুরীজীবী ৬৫জন, বেসরকারী চাকুরীজীবী ১৩৫জন, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী সরকারী/বেসরকারী ৪২জন, কবি-সাহিত্যিক ২১জন, সাংবাদিক ১৫জন।
কালের আবর্তে নিজস্ব ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে সৈয়দপুরের রয়েছে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। শিক্ষা-দীক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সব দিক দিয়ে রয়েছে গ্রামের আলাদা বৈশিষ্ট্য। সৈয়দপুর গ্রামের বড় অংশ প্রবাসে অবস্থানরত আছেন। তাঁদের মধ্যে অনেক আলেম, হাফিজ, শিক্ষক, চাকুরীজীবী, পেশাজীবী, রাজনীতিবীদ, কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক সৃষ্টি হয়েছেন। যাদের সার্বিক সহযোগিতায় গ্রামের মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রবাসীরা গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সদা তৎপর। প্রবাসীরা গ্রামকে করেছে উন্নত। গ্রামের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা অনস্মীকার্য। আমরা প্রবাসীদের শিক্ষা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট কৃতি গুণীদের তালিকা সংগ্রহ কাজ করে যাচ্ছি। প্রবাসীরা আমাদের তথ্য সংগ্রহ কাজে সহযোগিতা করবেন বলে আমাদে বিশ্বাস।
শেষে বলা যায়, বহুগুণে গুণান্বিত গ্রামের নাম সৈয়দপুর। দেশের সরকার অনুমোদিত আদর্শ গ্রামের সকল কাইটেরিয়া পূরণ করে সৈয়দপুর গ্রামকে একটি আদর্শ গ্রামে নির্বাচন ও নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক : অধ্যক্ষ, সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া অালিম মাদরাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ




























